Latest News

মধ্য এশিয়ার দীর্ঘতম নদী আমুদরিয়া, স্বপ্ন বয়ে নিয়ে যায় অ্যারল সাগরে

পশ্চিমের মানুষেরা নদীটিকে চিনতেন 'অক্সাস' নামে।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্য এশিয়ার দীর্ঘতম নদী আমুদরিয়া। পশ্চিমের মানুষেরা নদীটিকে চিনতেন ‘অক্সাস’ নামে। নদীটি আমু দারিয়ো, ভাকসু, জেহাউন নামেও পরিচিত। সংস্কৃত ভাষায় নদীটিকে বলা হত বকসু, যদিও ব্রহ্মাণ্ডপুরাণে আমুদরিয়া পরিচিত ছিল চাকসু নামে। আমু নামটি এসেছে তুর্কমেনিস্তানের প্রাচীন শহর আমুল থেকে, যে শহরটির বর্তমান নাম তুর্কমেনাবাট। পার্সি ভাষায় দরিয়া শব্দের অর্থ  নদী। পশ্চিমি পর্যটকেরা আমু দরিয়াকে বলতেন গোজান। এই নামটিই অতীতে ব্যবহার করেছেন চিনা, পার্সি, মোঙ্গল, আফগান ইতিহাসবিদেরা।

পামীর নদী ও ওয়াখান নদীর মিলনে সৃষ্টি হওয়া পাঞ্জ নদী এগিয়ে চলেছে পশ্চিম দিকে। আফগানিস্তান ও তাজিকিস্তানের সীমানা বরাবর। তাজিকিস্তানের  খোরং শহর পেরিয়ে  পাঞ্জ নদীতে মিলবে বারতাং নদীর জল। তারপর পাঞ্জনদী এগিয়ে যাবে দক্ষিণ-পশ্চিমে।

পামীর  পর্বতমালা থেকে উৎপত্তি লাভ করে ভাকস নদী দক্ষিণ-পশ্চিম তাজিকিস্তানের উর্বর উপত্যকার ভেতর দিয়ে এগিয়ে  চলেছে তাজিকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমানার দিকে। যেখানে বয়ে চলেছে পাঞ্জ নদী।

তাজিকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে অবস্থিত ত্রিগোভায়া বালাকা নেচার রিজার্ভে, পাঞ্জ নদী ও ভাকস নদীর মিলনে তৈরি হল মধ্য এশিয়ার বৃহত্তম ও ইতিহাস প্রসিদ্ধ নদী আমুদরিয়া বা অক্সাস।

উত্তর-পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়ে ,মধ্য এশিয়ার আফগানিস্থান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তানের মধ্যে দিয়ে  ২৬২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেবে স্বপ্নের নদী আমুদরিয়া।

৫৩৪৭৩৯ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় তৈরি করে যাবে এরকমই নয়নাভিরাম দৃশ্যপট।

কখনও আমুদরিয়া স্লথ গতিতে বয়ে চলবে উজবেকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের সীমান্ত হয়ে।

আমুদারিয়ার বুকে স্বপ্নিল সূর্য্যোদয়।

ধীরে ধীরে উজবেকিস্তানের মধ্যে দিয়ে আমুদরিয়া এগিয়ে চলে যাত্রাপথের সমাপ্তির উদ্দেশ্যে।

উজবেকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমে আমুদরিয়ার জন্য বুক পেতে আছে ক্রমশ শুকিয়ে আসতে থাকা  অ্যারল সাগরে।

হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার পর, আমুদরিয়া বিলীন হয়ে যায় অ্যারল সাগরের দক্ষিণে। মরতে বসা অ্যারল সাগর প্রাণ ফিরে পায় আমুদরিয়ার রক্তে।

You might also like