শনিবার, অক্টোবর ২০

এক ফোঁটাও মদ না ছোঁয়ার বিপদ! বাড়তে পারে ডিমেনশিয়া, অ্যালঝাইমার্সের ঝুঁকি

দ্য ওয়াল ব্যুরোআপনি কি একেবারেই মদ খান না?  অ্যালকোহল ভর্তি গ্লাস দেখলেই নাক সিঁটকান? তাহলে কিন্তু ঘোর বিপদ! পুরনো ধ্যান-ধারণাকে আমূল বদলে দিয়ে বর্তমান গবেষণা বলছে মদ খান, তবে মেপেঝুপে। তাহলে শরীর থাকবে ঝরঝরে। স্মৃতিশক্তি থাকবে একেবারে চাঙ্গা। না হলেই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চেপে ধরবে ডিমেনশিয়া বা অ্যালঝাইমার্সের মতো স্নায়ুরোগ।

ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত এই রিপোর্টটি দেখে যে সব অ্যালকোহলপ্রেমীদের মনে আনন্দের তুর্কি নাচন শুরু হয়েছে তাঁদের জন্য বলা ভাল অ্যালকোহলের সঠিক মাত্রাই কিন্তু ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ রোখার একমাত্র রাস্তা। তার জন্য গবেষকেরা বেঁধে দিয়েছেন নির্দিষ্ট পরিমাপ। এর চেয়ে বেশি হলে বরং ফল হবে উল্টোটাই। অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন বরং ডেকে আনতে পারে স্নায়ুর নানা জটিল রোগ, তার মধ্যে ডিমানেশিয়া ও অ্যালঝাইমার্স তো আছেই।

ব্রিটিশ গবেষকেরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে মদ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন বা একেবারেই অ্যালকোহল স্পর্শ করেন না এমন মহিলা বা পুরুষদের স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাওয়ার প্রবণতা প্রায় ৫০ শতাংশ। পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে এক সপ্তাহে এক বোতল বা হাফ বোতল পরিমাণ ওয়াইন খেয়েছেন এমন ব্যক্তির ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি অনেক কম। তবে, মদ্যপানের মাত্রা থাকবে সপ্তাহে এক থেকে ১৪ ইউনিটের (প্রায় ১৭৫ মিলিলিটার) মধ্যে। এর বেশি মদ্যপান হতে পারে ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেই জানিয়েছেন ‘ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডন’ এবং ‘ফ্রেঞ্চ ইউনিভার্সিটি’র গবেষকেরা।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায়। অনেক সময় অল্প বয়সেও কেউ কেউ ভুলে যাওয়া বা ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হতে পারেন। এই অসুখের চূড়ান্ত পর্যায় হল অ্যালজাইমারস। যখন নিজের বাড়ির ঠিকানা, কাছের মানুষদের নাম, সব খুঁটিনাটি বিষয় ভুলে যেতে শুরু করেন তাঁরা।

‘ফ্রেঞ্চ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড মেডিক্যাল রিসার্চ’-এর গবেষক সেভারিন সাবিয়ার মতে, সাধারণত ৬৫ বছরের বেশি বয়স থেকেই ডিমেনশিয়ার প্রভাব দেখা দিতে পারে। বয়স ৮৫ পেরোলে সেই ঝুঁকি বারে প্রায় ৪০ শতাংশ। তাঁর মতে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে ডিমেনশিয়া বা অ্যালঝাইমার্স আক্রান্তের সংখ্যা বর্তমানের থেকে প্রায় তিনগুণ হয়ে যাবে।

১৯৮৫ থেকে ১৯৯৩ সালের মধ্যে প্রায় ৯,০৮৭ জন যুবকের উপর এই পরীক্ষা চালিয়েছিলেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা। তাঁদের প্রত্যেকেরই বয়স ছিল তেইশের কোঠায়। দেখা যায় কখনও অ্যালকোহল নেননি এমন ৩৯৭ যুবক ডিমেশিয়ায় আক্রান্ত। বাল্টিমোরের ‘জন হপকিনস স্কুল অব মেডিসিন’-এর অধ্যাপক সেভিল ইয়াসার বলেছেন, ‘‘গবেষণার বিস্ময়কর দিক এটাই যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নন-অ্যালকোহলিকরা স্মৃতিলোপের শিকার হন। অথবা এমন ব্যক্তি যিনি দীর্ঘদিন অ্যালকোহল থেকে দূরে রয়েছেন।’’

সেভিলের মতে, অন্যান্য অ্যালকোহলের মধ্যে ওয়াইন এ ব্যাপারে অনেক বেশি সুরক্ষিত। কারণ ওয়াইনের মধ্যে রয়েছে পলিফেনলিক কম্পাউন্ড যা স্নায়ুতন্ত্রের অন্যতম রক্ষাকবচ। পাশাপাশি, এই উপাদান হার্ট ভাল রাখতেও সাহায্য করে। তাই সঠিক মাত্রায় অ্যালকোহল শুধু স্নায়ুরোগ নয়, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকিও কমায়।

Shares

Leave A Reply