জরুরি-কর্মীদের জন্য ঘণ্টা বাজালেও বেরোনো যাবে না ঘর থেকে, কড়া প্রশাসন

ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানির মতো বিভিন্ন দেশেও দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে, বিকেলে বা সন্ধেয় মানুষজন বারান্দায় বেরিয়ে আসছেন, গান গাইছেন। বাজনা বাজাচ্ছেন, হাততালি দিচ্ছেন। পথে বেরোচ্ছেন না কেউ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতকালই ১৪ ঘণ্টার জনতা কার্ফু পালন করেছে গোটা দেশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে বলেছিলেন, স্বেচ্ছায় যেন ঘরে থাকার দায়িত্ব পালন করেন দেশবাসী। সাড়াও মিলেছিল। দেশের বেশির ভাগ এলাকাই জনশূন্য ছিল দিনভর। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর আবেদনেই বিকেল পাঁচটায় বারান্দায় বেরিয়ে বহু মানুষ থালা-ঘণ্টা বাজান, হাততালি দেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের ও অন্যান্য জরুরি পরিষেবার সঙ্গে জড়িত মানুষগুলোকে অভিনন্দন জানানোর জন্য।

    এখন কয়েকদিন ব্যাপী ঘোষিত লকডাউন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, বিকেল পাঁচটায় ঘর থেকে বেরিয়ে শব্দ করে, তালি দিয়ে জরুরি-কর্মীদের অভিনন্দন জানানোটা কি রোজই হবে? অনেকেই মনে করছেন, তা হলে তো কোনও অসুবিধে নেই। কারণ এই কর্মীরা রোজ অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন, একদিন নয়। তাই তাঁদের অভিবাদন জানানোটাও একদিনের না হওয়াই বাঞ্ছনীয়। প্রতিদিন বিকেলে এই উদ্যোগ নেওয়া যেতেই পারে। এমনকি ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানির মতো বিভিন্ন দেশেও দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে, বিকেলে বা সন্ধেয় মানুষজন বারান্দায় বেরিয়ে আসছেন, গান গাইছেন। বাজনা বাজাচ্ছেন, হাততালি দিচ্ছেন। দেশের জরুরি পরিষেবা চালিয়ে নিয়ে যাওয়া মানুষগুলিকে অভিনন্দিত করছেন তাঁরা।

    কিন্তু রবিবার এই দেশের এই কর্মসূচিতে বিপত্তি দেখা গিয়েছে বহু জায়গায়। একশ্রেণির মানুষ অভিনন্দন জানানোর নাম করে রীতিমতো উচ্ছৃঙ্খলতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁরা কার্ফু অমান্য করে রাস্তায় নেমেছেন, দল বেঁধে শব্দ করে নানারকম বাজনা বাজিয়েছেন, রীতিমতো মিছিল বার করেছেন। কোথাও আবার অনেকে মিলে একসঙ্গে ছাদে উঠে রীতিমতো আনন্দ করেছেন বলেও দেখা গিয়েছে।

    কিন্তু লকডাউনের অর্থ লকডাউন। লকডাউন ভঙ্গ করে বাইরে বেরিয়ে অভিনন্দন জানানো নয়। অভিনন্দন জানাতে হলে তা বারান্দা থেকে বা জানলা থেকে বা বাড়ির ভিতরে থেকেই জানাতে হবে। কোনও অ্যাপার্টমেন্টের একাধিক বাসিন্দা একসঙ্গে ছাদে গিয়েও এমনটা করলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিনন্দন জানানো বা থালা বাজানো মানে সামাজিক জমায়েত নয়। দলবেঁধে পথে নেমে আনন্দ করা নয়। সামাজিক স্পর্শ এড়িয়েই যেটুকু করার করতে হবে। এই সচেতনতা অনেকের মধ্যে থাকলেও, এক শ্রেণির মানুষ তার ব্যাঘাত ঘটিয়েছেন গতকালই। চরম অনিয়ম ও অসচেতনতার পরিচয় দিয়েছেন।

    এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী  দেশের সব রাজ্যের কাছেই বার্তা দিয়েছেন, লকডাউন ভাঙলে কড়া অবস্থান নিতে হবে। প্রয়োজনে প্রশাসনকেই কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এই রাজ্যে সেই কথা আগেই জানিয়ে দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসন। বলা হয়েছে লকডাউন ভাঙলে বা কেউ কোয়ারেন্টাইনে যেতে না চাইলে, প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা না করলে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করা হবে। নবান্নের তরফে নির্দেশিকা দিয়ে স্পষ্ট বলা হয়, মহামারী নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ীই কিছু পরিষেবার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। কেউ সরকারি এই আদেশ ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

    এই পরিস্থিতিতে পুলিশও অত্যন্ত কড়া নজরদারি রাখতে চলেছে, কেউ কোনও নিয়ম ভাঙছেন কিনা তা দেখার। মনে করা হচ্ছে, দৃষ্টান্ত তৈরি করার জন্য অসচেতনতা ও উচ্ছৃঙ্খলতাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কাউকে কাউকে আটকও করা হতে পারে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More