কারা বেশি হাসে? ভাল নেই কারা? ভাল ঘুম কাদের হয়? নানা দেশ জুড়ে ঘুরে ঘুরে জানা গেল উত্তর

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘কেমন আছেন?’ পরিচিত বা অপরিচিত যে কোনও মানুষের সঙ্গে কথা শুরু করার জন্য এটি একটি অত্যন্ত পরিচিত এবং সাধারণ শব্দবন্ধ। প্রায়ই ঘাড় বাঁকিয়ে আলতো হাসির সঙ্গে এই প্রশ্নের উত্তর আসে, ‘ভাল আছি।’ কিন্তু আমরা সকলেই জানি, এই উত্তরটুকুর মধ্যে অনেক সময়েই অনেক খারাপ থাকা লুকিয়ে থাকে। অনেক অশান্তি, অস্বস্তি, অন্ধকার পার করে হয়তো এই উত্তরের সামনে দাঁড়ান বহু মানুষই।

    এটা অবশ্য ব্যক্তিগত মানুষের কথা। ব্যক্তিগত ভাল থাকা বা খারাপ থাকা। কিন্তু আপনি কি জানেন, এক এক দেশের মানুষের আবেগ-অনুভূতি অনুযায়ী তাদের ভাল থাকা বা খারাপ থাকা আলাদা ভাবে নির্ধারিত হয়? অর্থাৎ কোনও একটি দেশের জীবনযাপন কিন্তু সেই দেশের মানুষের ভার থাকার কারণ হয়ে উঠতেই পারে। ঠিক তেমন, হতে পারে উল্টোটাও।

    সম্প্রতি, আমেরিকার একটি অ্যানালাইসিস প্রতিষ্ঠান ‘গ্যালাপ’ ১৪৩টি দেশের ১ লাখ ৫১ হাজার সাধারণ মানুষকে নিয়ে একটি সমীক্ষা করেছেন। সে সমীক্ষায় নির্দিষ্ট কয়েক ধরনের কিছু প্রশ্ন করা হয়েছিল। যেমন, এই সাক্ষাৎকারটি নেওয়ার ঠিক আগের দিন কেমন দিন কাটিয়েছিলেন তারা? রাগী বা বিমর্ষ ছিলেন কি? হেসেছিলেন? হাসলে তা কতটা? নতুন কিছু কি শিখেছেন? এই সমীক্ষায় ইতিবাচক অভিজ্ঞতার ব্যাপারে এই পাঁচটি প্রশ্ন করা হয়েছিল গ্যালাপের তরফে। এ ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী ১০ জনের মধ্যে সাত জনেরই উত্তর ছিল— ‘উপভোগ্য সময় কেটেছে (৭১ শতাংশ), ভালো ঘুম হয়েছে (৭২ শতাংশ), প্রচুর হেসেছি (৭৪ শতাংশ) ও সম্মান পেয়েছি (৮৭ শতাংশ)।’

    এই সমস্ত সমীক্ষা নিলিয়ে গবেষণা করার পরে, গ্যালাপের ‘গ্লোবাল ইমোশনস’ শীর্ষক একটি রিপোর্টে উঠে এসেছে, মানুষ নিজের জীবনকে কী ভাবে দেখছেন। সর্বোপরি, মানুষ কেমন আছেন।

    প্যারাগুয়ের নাগরিকদের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা বেশি

    আর এই গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের যে কোনও দেশের চেয়ে দক্ষিণ আমেরিকার প্যারাগুয়ে ইতিবাচক অভিজ্ঞতার এই র‌্যাংকিংয়ের একেবারে শীর্ষে আছে। ২০১৫ সাল থেকেই এক নম্বরে আছে দেশটি। এই দেশের নাগরিকেরা বেশ আরামপ্রিয়। শীর্ষ দশে এর পরে আছে যথাক্রমে পানামা, গুয়াতেমালা, মেক্সিকো, এল সালভাদর, ইন্দোনেশিয়া , হন্ডুরাস, ইকুয়েডর, কোস্টারিকা ও কলম্বিয়া। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র ইন্দোনেশিয়া স্থান করে নিয়েছে এই তালিকায়।

    হাসিখুশি ল্যাটিন আমেরিকা

    গ্যালাপের ওই গবেষণার রিপোর্টে বলা হয়েছে, সব চেয়ে ইতিবাচক মনোভাবের দেশের তালিকায় লাতিন আমেরিকার আধিপত্য চোখে পড়ার মতো। সেখানকার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যে প্রতিদিনই নানা রকম আবেগপ্রবণ অনুভূতি তৈরি হয়। ওই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক সম্পদ এতটাই বেশি, যে তা নাগরিকদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

    নাইজেরিয়ান শিশুর মুখে নির্মল হাসি

    আফ্রিকার সব চেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়াতেও চালানো হয়েছিল এই সমীক্ষা। সব চেয়ে বেশি তরুণ জনসংখ্যার দিক থেকে এই দেশের  অবস্থান বিশ্বে তৃতীয়। পরিসংখ্যান বলছে, দেশটির ১৮ কোটি ৬০ লাখ নাগরিকের মধ্যে ৯ কোটিরও বেশি বাসিন্দার বয়স ১৮ বছরের নীচে। তবে নাইজেরিয়ার প্রান্তিক অঞ্চলে নয়, মূল শহরে বা শহর ঘেঁষা সামাজিক ও পরিবারকেন্দ্রিক পরিবেশে থাকা নাইজেরিয়ানদের ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই প্রচুর হাসিখুশি থাকেন বলে সমীক্ষায় উঠে এসেছে।

    শিশুর মতো নির্ভাবনায় ঘুমোন মঙ্গোলিয়ার মানুষ

    অন্য দিকে আবার, শান্তিতে ঘুমোনোর দিক থেকে সব চেয়ে এগিয়ে মঙ্গোলিয়া। সেই দেশটির ৮৬ শতাংশ মানুষই জানিয়েছেন, আগের দিন তাঁরা আরামে কাটিয়েছেন। এর কারণ হিসেবে প্রকৃতি একটা বড় ব্যাপার। অবারিত প্রান্তর, হ্রদ, গিরিখাদ ও বালিয়াড়িতে সমৃদ্ধ ল্যান্ডস্কেপ আছে সেখানে। তা ছাড়া প্রতি বর্গকিলোমিটারে মাত্র দু’জন বাস করেন মঙ্গোলিয়ায়। ফলে সব ধরনের ঝামেলা এড়ানো তাদের জন্য সহজ।

    এল সালভাদরের আকাজাটলার মেতালিওতে মায়ের সঙ্গে তিন পড়ুয়া

    সুন্দর অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ, পরিপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য এল সালভাদর, পানামা ও গুয়াতেমালা আবার অনেকটা এগিয়ে। এই তিনটি দেশের এক-তৃতীয়াংশ বাসিন্দাই নিজেকে সমৃদ্ধ করার কথা জানিয়েছেন। এল সালভাদরের প্রতি চার জনের মধ্যে তিন জন মন্তব্য করেছেন, আগের দিন তাঁরা নতুন কিছু শিখেছেন ও আলাদা কিছু করেছেন। এ ক্ষেত্রে এ সালভাদরের কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে পশ্চিম আফ্রিকান দেশ সেনেগাল ও নাইজার।

    চাদের মানুষ ভাল নেই

    শারীরিক যন্ত্রণা, দুশ্চিন্তা, বিষণ্ণতা, ধকল ও বিরক্তি– এই পাঁচটি নেতিবাচক অভিজ্ঞতা নিয়েও বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের প্রশ্ন করা হয় এই সমীক্ষায়। নেতিবাচক অভিজ্ঞতার র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে আছে মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদ। ২০০৩ সাল থেকে এটি তেল উৎপাদনে সুনাম কুড়োয়। কিন্তু এখন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসায় জর্জরিত দেশটি। সেখানে বহু পরিবারের কাঠামো ভেঙে পড়েছে। প্রতি ১০ জনের মধ্যে সাত জনই  জানান, গত বছর জীবিকা নির্বাহ করতে হিমসিম খেয়েছেন তারা।

    ভাল নেই আফগানিস্তানও

    আবার এই গোটা সমীক্ষায় প্রতি তিন জনের এক জন জানিয়েছেন, অনেক দুশ্চিন্তা কিংবা ধকল গেছে তাঁদের আগের দিন। ১০ জনের মধ্যে তিন জন শারীরিক যন্ত্রণার কথা জানান। প্রতি পাঁচ জনে অন্তত এক জন বিষণ্ণতা ও বিরক্তির সম্মুখীন হয়েছেন। ইতিবাচক অভিজ্ঞতা কম মিলেছে, এমন দেশের নাগরিকদের মধ্যে অন্যতম আফগানিস্তান।দুশ্চিন্তা কিংবা বিষণ্ণতার দিক থেকে তালিকার নীচের দিকে রয়েছে তাইওয়ান। ভিয়েতনামের নাগরিকদেরও কষ্ট ও যন্ত্রণা অন্য দেশগুলির তুলনায় কম।

    তুর্কমেনিস্তানের আসগাবাতে একটি প্যারেড

    আর কিরগিজস্তান, তুর্কমেনিস্তান, কাজাখস্তান ও উজবেকিস্তানে ৮৬ শতাংশেরও বেশি মানুষ পুরোপুরি চাপমুক্ত সময় কাটান। এর উল্টো দিকে গ্রিসে প্রতি ১০ জনের মধ্যে ছ’জনের ওপর দিয়ে বেশ ধকল যায় বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More