রাজনৈতিক বিকল্প খুঁজছে বলরামপুর

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

সুজিত কুণ্ডু, বলরামপুর : বাম জমানায় মণীন্দ্র গোপের খাস তালুক ছিল বলরামপুর। দীর্ঘদিন ধরে  ক্ষমতায় থাকা  সিপিএমের উপর তখন অনাস্থা বাড়ছে। দুর্নীতি, স্বজনপোষণ, মানুষের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি, ক্ষোভের তালিকাটা লম্বা হচ্ছে দ্রুত। পাহাড় জঙ্গলের  ভৌগলিক বাধা সরিয়ে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে প্রশাসনের তাগিদ বা শাসকদলের উদ্যোগ কোনওটাই নজরে আসছিল না এলাকায় সংখ্যাগুরু গরীব গুর্বো আদিবাসী মানুষগুলোর। ২০০৮ এ মাওবাদীদের এলাকা দখল সেই প্রেক্ষাপটেই।

২০১১ পর্যন্ত ল্যান্ডমাইন-গুলি- বারুদে আতঙ্কের আরেক নাম হয়ে গিয়েছিল বাঁকুড়া পুরুলিয়া ও তৎকালীন পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গলমহল। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদল। সময় নষ্ট করেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একহাতে মাওবাদী আন্দোলন দমন  আর অন্যহাতে উন্নয়নের নিশান উড়িয়ে দাবি করেছিলেন জঙ্গলমহল হাসছে। কিন্তু দ্বিতীয়বার রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কেন ফের রঙ বদলের ইঙ্গিত জঙ্গলমহলে? অন্তত পঞ্চায়েত ভোটের ফলাফলের পর নানাভাবে, নিজেদের মতো করে সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার পালা চলছে। বলরামপুর সেই জঙ্গলমহলেরই অংশ।

বলরামপুর এখন সৃষ্টিধর মাহাতোর খাস তালুক। তৃণমূলের পুরুলিয়া জেলার সভাপতি সৃষ্টিধর মাহাতো। তাঁর ছেলে সুদীপ মাহাতো  ছিলেন বলরামপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি। এ বার বলরামপুরে গেড়ুয়া ঝড়ে একরকম ধুয়েমুছে গিয়েছে তৃণমূল। তবে পঞ্চায়েতের ২০টি আসনের মধ্যে যে তিনটিতে তৃণমূল জিতেছে তার একটিতে প্রার্থী ছিলেন সুদীপ। মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়ন জেলা সভাপতির গাযে ধাক্কা খেযে মুখ ঘুরিযে নিচ্ছে বলে অভিযোগ জেলার সর্বত্র। বলরামপুরের বাসিন্দারা বলেন, ”সৃষ্টিধরের এলাকা হওয়ায় এখানে এই প্রবণতা আরও প্রকট।  প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা হোক বা ১০০ দিনের পুকুর কাটা , টাকার ভাগ না দিয়ে কিছু পাওয়ার উপায় নেই।  সঙ্গে ধমক আর হুমকির রাজনীতি।”

বিজেপির আদর্শে যে বলরামপুর অনুপ্রাণিত তেমনটা মনে হচ্ছে না এখানকার পোড় খাওয়া রাজনীতি সচেতন বহু বাসিন্দারই। তবু বিজেপিতে আস্থা রেখে মানুষ কী প্রমাণ করতে চাইছেন সেই উত্তরটা তাঁদের কাছে অতি সরল। এমনকি তৃণমূলের বহু পুরনো এক কর্মীই বললেন, ”দুর্নীতি আর মানুষের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার এমন পর্যায়ে গিয়েছে যে বিজেপিতে বিকল্প খুঁজছেন অনেকেই। সিপিএমতো আগেই আস্থা হারিয়েছে।”

সে বারের মাওবাদীরাই কি এ বার তবে বিজেপি, সময় তার উত্তর দেবে।

তৃণমূলের এক জেলাস্তরের নেতা অবশ্য বলেন, দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের সমস্ত অভিযোগই ভিত্তিহীন ও মিথ্যে। টাকা ছড়িয়ে জিতছে বিজেপি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More