শুক্রবার, ডিসেম্বর ৬
TheWall
TheWall

রাজ্যের ৩ জেলায় বিপজ্জনক হারে বাড়ছে সুগারের রোগীর সংখ্যা! চিকিৎসকরা বলছেন, সচেতনতাই জরুরি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্ব ডায়াবেটিক দিবস আজ, ১৪ নভেম্বর। আর এদিনই সামনে এল, এ রাজ্যের ডায়াবেটিসের চিত্র। তথ্য বলছে, কলকাতা, হাওড়া ও বর্ধমানে বিপজ্জনক ভাবে বাড়ছে ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা। আর ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে কম দুই দিনাজপুর ও পুরুলিয়া জেলাতে।

কিন্তু এমন গ্রাফ কেন? এত বেশি মাত্রায় ডায়াবেটিস বেড়েছেই বা কেন নির্দিষ্ট তিনটি জেলায়, তা নিয়ে চিন্তিত চিকিৎসক মহলের একটা বড় অংশ। বিশিষ্ট বেরিয়াট্রিক সার্জেন, ডক্টর সরফরাজ বেগ এই প্রসঙ্গে বলেন, “এমনটার কী কারণ হতে পারে, তা খুঁজছি আমরা। প্রাথমিক গবেষণা বলছে, এই তিন জেলার মানুষ মশলাদার খাবার বেশি খান। মিষ্টিও বেশি খান। তুলনায় শারীরিক পরিশ্রম কম করেন অনেক। খেলার মাঠের সংখ্যাও এই জেলাগুলিতে কম। ফলে মানুষের শরীরে চর্বি জমছে বেশি।”

চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, পেটে চর্বি জমলে ভুঁড়ি বাড়ে, যা বেশ বিপজ্জনক। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার প্রথম সুযোগই করে দেয় এই ভুঁড়ি। ফলে সেখান থেকেই আটকাতে হবে শরীরকে। তা না হলে এই অসুখের সঙ্গে শুধু ওষুধ দিয়ে লড়াই করা সম্ভব নয়। চিকিৎসক মহলের প্রস্তাব, স্কুল স্তর থেকেই এই ডায়াবেটিস প্রতিরোধের লড়াইটা শুরু করা যাক। নইলে পরবর্তী প্রজন্মকে নিরাপদ রাখা কার্যত অসম্ভব। নিয়মিত খেলাধুলো ও শারীরিক কসরত করতেই হবে। স্কুল বা ফ্ল্যাট তৈরির সময়ে খেলার মাঠ ও জিম রাখাটা। বাধ্যতামূলক করা হোক।”

পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে রোগীদের যে ভিড় বাড়ছে, তার মধ্যে একটা বড় অংশই ডায়াবেটিসের রোগী। তাঁদের সংখ্যা অত্যন্ত দ্রুত বাড়ছে। অর্থাৎ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই অসুখের প্রকোপও বাড়ছে। এর গতি সামাল দেওয়ার জন্য সর্বতো ভাবে চেষ্টা করতে হবে সকলকে।

এ বিষয়ে ডায়াবেটিকে বিশেষজ্ঞ দেবাশিস বসু বলেন, “ডায়াবেটিস এমন একটা রোগ, যা মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত সারা শরীরে আক্রমণ করে। যে হারে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, তাতে পরিস্থিতি ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে ওঠার দিকে এগোচ্ছে।”

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ রাজা ভট্টাচার্য বলেন, “এই অসুখের চিকিৎসা তো পরের কথা, প্রথম ধাপ হল মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা। ডায়াবেটিস কিন্তু আর মোটেই পারিবারিক অসুখের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটা আর বয়সকালের রোগও নয়। বংশে এই রোগের ইতিহাস না থাকলেও আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। এমনকি অনেক কম বয়সেও বহু মানুষ ভুগছেন এই অসুখে। ফলে এই মুহূর্ত থেকে সচেতন না হলে বিপদ বাড়বে।”

আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিক ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশের মোট জনসংখ্যার ৮.৮% ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এই পরিমাণটা ৯.৪%। ফলে এ রাজ্যে যে সচেতনতা একটু বেশিই প্রয়োজন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Comments are closed.