মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২

মানুষ দূষণে মরছে আর আপনারা এক অপরের ওপরে দোষ চাপাচ্ছেন, কেন্দ্র ও দিল্লিকে তিরস্কার সুপ্রিম কোর্টের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : রাজধানী দিল্লিতে বায়ুদূষণ ভয়াবহ আকার নিয়েছে। দূষণ দূর করতে না পারার জন্য সোমবার কেন্দ্র ও দিল্লি, দুই সরকারকেই কঠোর তিরস্কার করল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি বলেছেন, দূষণের জন্য মানুষ তার মূল্যবান জীবন হারাচ্ছে। এদিকে দিল্লি ও কেন্দ্রীয় সরকার পরস্পরকে দোষ দিয়ে চলেছে।

হরিয়ানার চাষিরা প্রতিবছর শীতের শুরুতে ফসলের বর্জ্য অংশ পুড়িয়ে ফেলেন। সেই ধোঁয়ায় ঢেকে যায় রাজধানী ও তার আশপাশের এলাকা। দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ থেকে দিল্লি ও তার আশপাশের রাজ্যগুলিকে অনুরোধ করেছিল, ওইভাবে বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ করা হোক। বিভিন্ন কারখানা থেকে যে ধোঁয়া নির্গত হয় এবং বহুতল বাড়ি তৈরির সময় যে ধুলো ওড়ে তাও নিয়ন্ত্রণ করা হোক। কিন্তু এখনও দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের অনুরোধ মানা হয়নি।

বিচারপতি অরুণ মিশ্রের নেতৃত্বে একটি বেঞ্চ এদিন বলেছে, “এই পরিস্থিতিতে কি আমরা বেঁচে থাকতে পারব? এইভাবে কি বেঁচে থাকা যায়? নিজের বাড়ির মধ্যেও কেউ নিরাপদ থাকতে পারছে না। আমরা এক ভয়ংকর অবস্থার মধ্যে বাস করছি।”

এরপর কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে সরাসরি দোষারোপ করেন বিচারপতিরা। তাঁদের কথায়, “প্রতিবছর আমাদের চোখের সামনে পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। মানুষকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে তাঁরা যেন দিল্লিতে না আসেন। শহরের বাসিন্দারাও অনেকে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। এই রাজ্যে ও তার আশপাশে বহু মানুষ মারা যাচ্ছেন। আমরা এসব বরদাস্ত করব না।”

দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ জানিয়েছে, ২০১০ সালের পর দিল্লিতে বাতাসের মান কিছুটা ভালো হয়েছে। কিন্তু এখনও যথেষ্ট ভালো হয়নি। দিল্লির বাতাসে দূষণের পরিমাণ এখনও ৬৫ শতাংশ কমাতে হবে।

এই মামলায় যাঁকে আদালত বান্ধব হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে, তিনি সুপ্রিম কোর্টকে জানান, পাঞ্জাবে ফসলের বর্জ্য পোড়ানো সাত শতাংশ কমেছে। হরিয়ানায় কমেছে ১৭ শতাংশ।

Comments are closed.