পতঞ্জলির ডিগবাজি, করোনার ওষুধ নিয়ে উল্টো সুর রামদেবের সংস্থার

মঙ্গলবার আচার্য বালকৃষ্ণ বলেছেন, "ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পরে যে ফলাফল এসেছে, সেটাই আমরা দেশকে জানিয়েছি। আমরা এটা বলিনি যে, এই করোনিল করোনার চিকিৎসা করবে। আমরা বলেছিলাম, এর ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার সময়ে দেখা গিয়েছে, করোনিল করোনা সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার সহায়ক।"

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগে বলা হয়েছিল সাত দিনের মধ্যে করোনা আক্রান্তকে পুরোপুরি সুস্থ করে দেওয়ার আয়ুর্বেদিক ওষুধ আবিষ্কার করেছে পতঞ্জলি। লঞ্চিংয়ের সময়েও করোনার ওষুধ ‘করোনিল’ সম্পর্কে এই কথাই বলা হয়েছিল। এর পরে অনেক বিতর্ক। সংস্থা অবশ্য সেই ওষুধের জন্য লাইসেন্সের আবেদনে একটি বারও বলেনি এটা কোভিড-১৯ নিরাময়ের ওষুধ। বলা হয়েছিল, এই ওষুধ জ্বর-সর্দি সারবে। সেই সঙ্গে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে। এখন রামদেবের পতঞ্জলি যোগপীঠের ভোলবদল। পতঞ্জলির কর্ণধার আচার্য বালকৃষ্ণের দাবি, তাঁরা আদৌ করোনা চিকৎসার কোনও ওষুধ তৈরি করেননি। এই ওষুধ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির ওষুধ। এর ব্যবহার করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে উঠতে সাহায্য করতে পারে।

    মঙ্গলবার আচার্য বালকৃষ্ণ বলেছেন, “ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পরে যে ফলাফল এসেছে, সেটাই আমরা দেশকে জানিয়েছি। আমরা এটা বলিনি যে, এই করোনিল করোনার চিকিৎসা করবে। আমরা বলেছিলাম, এর ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার সময়ে দেখা গিয়েছে, করোনিল করোনা সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার সহায়ক।” এর মধ্যে সংশয়ের কিছু নেই বলেও দাবি বালকৃষ্ণের।

    আরও পড়ুন

    বেসরকারি বাস না চললে প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেব, বাসগুলি সরকার নিজে চালাবে: মুখ্যমন্ত্রী

    পতঞ্জলির সিইও আরও বলেছেন, “কেউ কেউ বলছেন পতঞ্জলির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ভুয়ো। আবার অনেক বলছেন, এই ওষুধটাই ভুয়ো। কিন্তু আমরা কখনও বলিনি যে, আমরা করোনার ওষুধ তৈরি করেছি। আমরা যেটা বলেছি তা হল, আমাদের তৈরি ওষুধের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অনেক করোনা রোগী সুস্থ হয়েছিলেন।”

    যদিও গত ২৩ জুন পতঞ্জলির পক্ষে যোগগুরু বাবা রামদেব ও আচার্য বালকৃষ্ণ সাংবাদিক বৈঠক করে দাবি করেন, সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক নথি অনুযায়ী স্বসরি বটি ও করোনিল করোনার তথ্যভিত্তিক প্রথম আয়ুর্বেদিক ওষুধ। এই গবেষণা যৌথভাবে হরিদ্বারের পতঞ্জলি রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও জয়পুরের ন্যাশনাল ইন্সস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্স (এনআইএমএস) করেছে। করোনিল ওষুধ তৈরি করেছে হরিদ্বারের দিব্য ফার্মেসি ও পতঞ্জলি আয়ুর্বেদ লিমিটেড।

    সেদিন রামদেব এও বলেছিলেন যে, “আজ গর্ব বোধ করছি যে, এটাই করোনার প্রথম আয়ুর্বেদিক ওষুধ। এটা ক্লিনিক্যাল কন্ট্রোলড, ট্রায়াল, এভিডেন্স ও রিসার্চ ভিত্তিক ওষুধ। পতঞ্জলি রিসার্চ সেন্টার ও এনআইএমএস যৌথভাবে তৈরি করেছে এই ওষুধ।”

    এখানেই শেষ নয়। এর পরে রামদেন বলেন, “এই ওষুধ সম্পর্কে আমরা মোট দু’টি ট্রায়াল করেছি। মোট ১০০ জন রোগীর উপরে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করা হয়। তিনদিনের মধ্যে ৬৯ শতাংশ রোগী সুস্থ হয়। সাতদিনে ১০০ শতাংশই রোগীই সুস্থ হন।”

    গোটা বিশ্ব যখন করোনা ওষুধের খোঁজে রয়েছে তখন পতঞ্জলির ওষুধ একশ শতাংশ সারিয়ে দেবে বলে দাবি করার পর থেকেই নানা প্রশ্ন উঠছিল। এর পরেই আয়ুষ মন্ত্রক পতঞ্জলিকে একটি নোটিস পাঠিয়ে জানায়, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই ওষুধের উপাদান কী কী তা জানাতে হবে। তারা যে রোগীদের উপরে গবেষণা করেছেন, তার বিস্তারিত তথ্যও জানাতে হবে। কোন হাসপাতালে এই পরীক্ষা চলেছে, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য এই সংস্থা আদৌ সরকারের কাছে নাম লিখিয়েছিল কিনা– সবটাই বিশদে জানতে চায় কেন্দ্র। একই সঙ্গে আপাতত ওষুধের বিজ্ঞাপন না করতেও বলা হয়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More