যাদবপুর প্রসঙ্গে ঢোঁক গিললেন শিক্ষামন্ত্রী, সম্ভাবনা ‘বোধোদয়’-এর

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: যাদবপুর স্বশাসিত সংস্থা, ওর মধ্যে ঢুকব না। এমনটাই মন্তব্য করলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। অনেকেই বলছেন, কয়েক দিন আগেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে গিয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে সরকার। তারই ফল হিসেবে এই ‘বোধোদয়’ হয়েছে পার্থর।

    মঙ্গলবার আশুতোষ কলেজের ১০৩তম প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। পরে সেখানে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, যেসব কলেজে আসন খালি রয়েছে, সে সব জায়গায় ২০ অগাস্ট পর্যন্ত ভর্তি প্রক্রিয়া চালু থাকবে। মেধার ভিত্তিতেই পড়ুয়াদের ভর্তি নিতে হবে। যাঁদের নাম মেধাতালিকায় থাকবে, তাঁদের সরাসরি খবর দেবেন শুধু কলেজ কর্তৃপক্ষ। এই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা।তাঁর বক্তব্য, “কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, কত আসন খালি আছে। সংরক্ষিত আসনের সবকটি পূরণ হয়নি। অনার্সেও পর্যাপ্ত আবেদনপত্র জমা পড়েনি। কিন্তু আমি নির্দেশ দিয়েছি কোনও আসন খালি রাখা যাবে না।”

    এই প্রসঙ্গেই তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয় যাদবপুরের কথা। তখনই মন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, “ওর মধ্যে ঢুকব না।” শিক্ষামহল জানিয়েছে, ‘ওর মধ্যে ঢুকতে’ গিয়েই পিছিয়ে আসতে হয়েছে সরকারকে। এ মাসের গোড়ায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগের প্রবেশিকা পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় পরিচালন কমিটির বৈঠকে। শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশেই উপাচার্য সুরঞ্জন দাস এই সিদ্ধান্ত নেন বলে জানা গিয়েছে। এর পরেই শুরু হয় প্রতিবাদ বিক্ষোভ। সিদ্ধান্তের বদল চেয়ে এবং স্বাধিকারের দাবিতে শুরু হয় অনশনও। ৯৬ ঘণ্টা অনশনের শেষে বদলায় সিদ্ধান্ত, ফেরে প্রবেশিকা পরীক্ষা ও স্বাধিকার।

    স্বাধিকারের জোর যে নেহাত কম ছিল না, তা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আজকের মন্তব্যেই পরিষ্কার।

    তবে এই প্রসঙ্গে আলোচ্য, আশ্চর্য এক উলটপুরাণ শুরু হয়েছে রাজ্যের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে। এত দিন ছিল চাহিদা আর জোগানের বিপুল ফারাক। মোট যতগুলি আসন, তার তুলনায় ভর্তি হতে চাওয়া পড়ুয়ার সংখ্যা অনেক বেশি। আর এখন ছোট-বড় বিভিন্ন কলেজে শোনা যাচ্ছে, আসনই ভর্তি হচ্ছে না।

    গত কয়েক দিনে কলেজে কলেজে ভর্তি নিয়ে ইউনিয়নগুলির দাদাগিরি মাত্রা ছাড়া জায়গায় পৌঁছেছিল। তার জেরে পুলিশ প্রহরা, ছাত্রনেতা গ্রেফতার, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতিকে সরানো— কী হয়নি! এ থেকে মনে হচ্ছিল, কলেজের আসনের চাহিদা ও জোগানের বিপুল ফারাকের জন্যই এ সব ঘটনা ঘঠছে।

    কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যেলয়ের কলেজগুলিতে হাজার-হাজার আসন খালি, যার মধ্যে একটা বড় অংশ যেমন সংরক্ষিত আসন, আবার অসংরক্ষিত আসনের সংখ্যাও কম নয়। তাই যদি হয়, তা হলে এত মারামারি-কাটাকাটিই বা হল কেন, আর এখন এত আসনই বা খালি রইল কেন—শিক্ষা মহলের উচ্চপদাধিকারীদের কাছ থেকে তার কোনও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা এখনও মেলেনি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More