সব আন্দোলনকারীই কি চাকরি পাওয়ার যোগ্য? এসএসসি-অনশনের ২৩ দিনে প্রশ্ন তুললেন পার্থ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসএসসি পরীক্ষায় পাশ করেও দীর্ঘ দিন ধরে চাকরি না পাওয়ার অভিযোগে অনশন করছিলেন কয়েকশো চাকরিপ্রার্থী। আজ অনশনের ২৩-তম দিনে বিকাশ ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। জানিয়ে দিলেন, অনশনকারীদের প্রতি যথেষ্ট মানবিক সরকার। সরকারি তরফে তিনি চান, যত দ্রুত সম্ভব এ অনশন প্রত্যাহার হোক। কিন্তু একই সঙ্গে পার্থ এ-ও মনে করিয়ে দেন, এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়া আইনি পথেই হবে।

এ দিন সাংবাদিক বৈঠকে পার্থ চট্টোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, যাঁরা আন্দোলন ও অনশন করছেন, তাঁদের মধ্যে সকলেই আদতে চাকরি পাওয়ার যোগ্য কি না। তাঁর বক্তব্য, এই আন্দোলন ও অনশনের প্রতি তাঁদের যতই সমবেদনা থাকুক না কেন, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই পদক্ষেপ নিতে বলা হবে এসএসসিকে। কারণ, তাঁর কথায়, “শিক্ষকতার মতো একটা পেশার ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতা বিসর্জন দিয়ে অন্য কোনও ফ্যাক্টরকে অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভব নয়।”

পার্থবাবু আরও জানান, অনশনকারীরা ছাড়াও আরও অনেকেই এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন, পাশ করেছেন। সকলের ক্ষেত্রেই নিয়ম মেনেই সব কিছু হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। জানিয়ে দেন, কার্যত সমস্ত চাকরির ক্ষেত্রেই মেরিট লিস্টের বাইরে একটা ওয়েটিং লিস্ট থাকে। এ ক্ষেত্রেও আছে। সেই ওয়েটিং লিস্ট কখনওই প্যানেল নয় বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “আন্দোলনকারীরা যতই দাবি করুন না কেন তাঁরা রংহীন ভাবে এবং অরাজনৈতিক ভাবে প্রতিবাদ করছেন, অনশন করছেন, কিন্তু আদতে এ আন্দোলন সত্যিই কতটা অরাজনৈতিক তা নিয়ে সংশয় দেখা যাচ্ছে।” তবে পার্থ এ-ও উল্লেখ করেন, এ আন্দোলন যদি রাজনৈতিকও হয়, তা হলেও তার সমাধান আইনের পথ ধরেই হবে। নিয়ম ও আইনের বাইরে কোনও কিছুই অধিক গুরুত্ব পাবে না।

তবে একই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় আশ্বাস দিয়েছেন, যে নিয়মে নিয়োগ হচ্ছে সে নিয়ম নিয়ে বা আইন নিয়ে যদি আন্দোলনকারীদের কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তা হলে তা শোনা হবে, খতিয়ে দেখাও হবে। এই অভিযোগ শোনার জন্য বিশেষ কমিটি গড়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। জানান, মনীশ জৈনকে মাথায় রেখে পাঁচ জনের বিশেষ কমিটি গড়া হবে। ১৫ দিনের মধ্যে সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।

প্রায় চারশো জন মিলে অনশন শুরু করেছিলেন এসএসসি-র চাকরিপ্রার্থীরা। কিন্তু তাঁদের মধ্যে তিন জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন, এক জনের গর্ভস্থ সন্তান নষ্ট হয়ে গিয়েছে, আর প্রায় ১০০ জন গুরুতর অসুস্থ। তাঁদের সবাইকেই জোর করে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। অনশনকারীদের অভিযোগ, নবম-দশম-একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ ঠিকমতো হয়নি। যাঁরা এখানে বসে আছেন তাঁরা কেউ অকৃতকার্য নন। তবু অন্যায় ভাবে ওয়েটিং লিস্টে রাখা হয়েছে তাঁদের।

এই অভিযোগ মানতে রাজি নন পার্থ। তাঁর কথায়, “পরীক্ষা তো তাঁরা শুধু দেননি, আরও অনেক মানুষ পরীক্ষা দিয়েছেন। তবে আন্দোলনকারীরা অসহায় হলেও, সবাই যোগ্য নয়। অনেকে তাঁদেরকে যোগ্য প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন। সেটা ঠিক করছেন না। এখানে রাজনৈতিক রং লাগানোর চেষ্টা করছেন অনেকেই। কিন্তু সেগুলো কোনওটাই শিক্ষকতার চাকরি পাওয়ার শর্ত হতে পারে না। চাকরির প্রয়োজন থাকলেই তিনি চাকরি পাওয়ার যোগ্য হন না। মেধাই শেষ কথা।”

পার্থবাবু দাবি করেন, এসএসসি-র বিজ্ঞপ্তি অনুসারে বলাই ছিল, পরীক্ষার রেজাল্ট যে দিন বেরোবে, তার ১৫ দিন আগে পর্যন্ত যে শূন্যপদ থাকবে, সেগুলোতেই লোক নেওয়া হবে। তেমনটাই হয়েছে বলে জানান তিনি। বলেন, “আমি জানি না, ওদের মাথায় কে ঢুকিয়েছে, আমরা নিয়ম মেনে এমনটা করিনি। ওদের নিয়োগের কাগজপত্র দেখিয়েও বুঝিয়েছি। সমস্যা হচ্ছে, ওরাও এক এক দিন এক এক জন প্রতিনিধি নিয়ে আসছে। ঠিকমতো কমিউনিকেশন করা যাচ্ছে না। আমি নিজে এ পর্যন্ত অন্তত চার বার সরকারের হয়ে, মানবিক দৃষ্টিতে কথা বলেছি ওদের সঙ্গে। ওদের কষ্ট আমাদের স্পর্শ করেছে। কিন্তু স্পর্শ করলে কী হবে, ওরা নিজেরাই জানে না কী চায়। ওরা যা চায়, তা আইনি পথে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।”

আরও পড়ুন: ডেঙ্গু, রক্ত-আমাশা, গর্ভপাত! এই নিয়েই ২২ দিনে পড়ল এসএসসি-অনশন, তীব্র সমালোচনার মুখে সরকার

পার্থবাবু সাংবাদিক বৈঠকে আরও জানান, এ দিনই তিনি তাঁর পুরো শিক্ষা দফতর ও এসএসসি-র কর্তাদের নিয়ে বসেছিলেন। সেখানেও পরিষ্কার আলোচনা হয়েছে, যে এসএসসি-র বিজ্ঞপ্তিতেই প্যানেল ও ওয়েট লিস্টে তফাত উল্লেখ করা আছে। বলা আছে, মেরিট লিস্ট অনুযায়ী চাকরিপ্রার্থীদের প্যানেল তৈরি হবে, তার পরে সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে ওয়েটলিস্ট তৈরি হবে। এই ওয়েটলিস্ট আইনত চাকরির দাবিদার নয়। তাঁর কথায়, “কয়েক লক্ষ মানুষ পরীক্ষা দিয়েছেন। যাঁরা পাশ করেছেন, তাঁরা সকলেই ওয়েট লিস্টে কোথাও না কোথাও আছে। সেই সকলেই যদি অনশনে বসে যান, তা হলে কী করে হবে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার তো নির্দিষ্ট নিয়ম আছে।”

পার্থবাবু উল্লেখ করেন, অনশনকারীরা সকলে উৎসবের দিনগুলো বাড়ি ছেড়ে এসে বসে আছে। “দোল-হোলি ওরা এভাবে কাটাচ্ছে, এটা আমাদের কাছে কষ্টের। আমরা চাই বওরা বাড়ি ফিরুক। আমি বলেছি, দু’দিনের মধ্যে ওরা কমিটির কাছে নির্দিষ্ট অভিযোগ জমা দিক, উত্তর দেওয়া হবে এসএসসির তরফে।”

ইতিমধ্যেই নাগরিক সমাজ ও বিশিষ্ট জনদের সমর্থন পেয়েছেন আন্দোলনকারীরা। পাশে দাঁড়িয়েছেন কবি শঙ্খ ঘোষ, অভিনেতা বাদশা মৈত্রের মতো মানুষ। সাহিত্যিক মন্দাক্রান্তা সেন নিজে আজ, শুক্রবার সকাল থেকে অনশনে বসেছেন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে।

অনশনকারীদের তরফে রায়গঞ্জের অর্পিতা দাস জানান, শিক্ষামন্ত্রী অনেক কথা বলেছেন ঠিকই, কিন্তু এখনই যে সমস্যার সমাধান হয়েছে, তা তাঁরা মানতে রাজি নন। “আমরা ওই নির্দিষ্ট কমিটির কাছে যাব আমাদের অভিযোগ নিয়ে। দেখব, তাঁরা কী সমাধান দিচ্ছেন। সেটা আমাদের সঠিক মনে হলে তবেই অনশনের পথ থেকে সরব। এত দিন কষ্ট করছি, সমাধান পাওয়ার জন্য আর কয়েক দিন কষ্ট করতে আমরা রাজি আছি।”

ইতিমধ্যেই আরও এক অনশনকারী, বর্ধমানের সমপ্রীতা তিওয়ারি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁকে প্রথমে এসএসকেএম ও পরে অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছন, তাঁর শিরা শুকিয়ে গিয়েছে।

আরও পড়ুন…

এসএসসি-অনশনের ২৩ দিনে যোগ দিলেন মন্দাক্রান্তা সেন, সাংবাদিক বৈঠক ডাকলেন পার্থ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More