রবিবার, মার্চ ২৪

‘আদিবাসীদের’ অলচিকি ‘ভাষা’র স্বীকৃতি শিক্ষামন্ত্রীর!

তিয়াষ মুখোপাধ্যায়: হুল উৎসবে গিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। গিয়েছিলেন, সেখানকার মানুষগুলোর সুখস্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে কথা বলতে, আলোচনা করতে। তা করতে গিয়ে রয়ে গেল গোড়ায় গলদ। স্থানীয় বাসিন্দাদের ‘আদিবাসী’ বলে সম্বোধন করে বসলেন তিনি। অলচিকি হরফকে ভাষা বলে উল্লেখ করলেন।

‘পিছিয়ে পড়া বর্গের’ মানুষদের কথা বলতে গিয়ে আদিবাসী শব্দটি ব্যবহার করেন তিনি। অভিধান বলছে, কোনও এলাকার আদিম অধিবাসীদের বলা হয় আদিবাস। এই মানুষদের প্রথম দিকে জনগোষ্ঠী, আদিম মানুষ, উপজাতি প্রভৃতি নামে চিহ্নিত করা হত। পরে শব্দটির প্রকৃত সংজ্ঞা ও তার ব্যবহারের অধিকার নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচুর বিতর্ক রয়েছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার পরেও আদিবাসীদের ব্যাপারে সাধারণ ভাবে গ্রহণযোগ্য কোন সংজ্ঞায় উপনীত হওয়া সম্ভব হয় নি। সাধারণত কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় অণুপ্রবেশকারী বা দখলদার জনগোষ্ঠীর আসার আগে যারা বসবাস করত এবং এখনও করে, যাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, রীতিনীতি ও মূল্যবোধ রয়েছে, এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যারা সমাজে সংখ্যালঘু হিসেবে পরিগণিত, তারাই আদিবাসী।

কিন্তু ‘পিছিয়ে পড়া’ মানুষদের বোঝাতে এই শব্দের ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আর ঠিক সেটাই করলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই তাঁর এই কথা নিয়ে জলঘোলা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। 

শুধু তা-ই নয়, সাংবাদিকদের একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি অলচিকি হরফকে ভাষা বলে উল্লেখ করেন। বলেন, “আদিবাসীদের দাবিদাওয়ার আশি শতাংশ মেটানো হয়েছে। অলচিকি ভাষাকে স্বীকৃতি দিয়েছি আমরা। বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছি অলচিকি ভাষাকে।” শিক্ষাজগতের প্রশ্ন, অলচিকি কোনও ভাষা নয়, লিপি। হরফ। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী এই ভুল কী করে করতে পারেন, একটি লিপিকে ভাষা বলার মতো ভুল কি করার কথা তাঁর?

পার্থ চট্টোপাধ্যায় আরও বলেন, “আদিবাসীদের নিয়ে যে আমাদের সরকার কতটা করেছে, সেটা বলার সময় এসেছে। নইলে অনেকে যা ইচ্ছে বলে যাচ্ছে রাজনৈতিক ফায়দার জন্য। এত দিন জঙ্গলমহল ছিল। তাকে সুখীমহল করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই সুখীমহলে আবার গন্ডগোল করার চেষ্টা করছে কয়েকটি রাজনৈতিক দল। ক্ষমতার লোভে এসব করছে তারা। আদিবাসীদের পাশে, জঙ্গলমহলের পাশে চিরকালই আমরা ছিলাম, আছি। ওদের কিছু মূর্তির দাবি ছিল, করে দিয়েছি।”

রাজনৈতিক মহল বলছে, জঙ্গলমহলের মানুষদের ভাল করার কথা বলতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী যা যা বলে এলেন, তাতে ওঁদের প্রতি তাঁর খানিক অবজ্ঞা ও অবহেলার মনোভাবই প্রকাশ পেল।

Shares

Leave A Reply