মস্তানদের মতো আচরণ করছেন রাজ্যপাল, ফোন করে ভয় দেখাচ্ছেন উপাচার্যদের! বিস্ফোরক অভিযোগ পার্থর

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যপালের আসনে বসে বিধি অমান্য করছেন ধনকড়। তিনি সবাইকে ফোন করে ভয় দেখাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করলেন পার্থ। শিক্ষামন্ত্রীর কথায়, “আমি রাজ্যপালকে অনুরোধকে করব, তিনি যেন এই কাজ না করেন। মস্তানসুলভ আচরণ যেন না আসে তাঁর তরফ থেকে।”

    ঘটনার সূত্রপাত সোমবার বিকেলে। আচমকাই একটি নির্দেশিকা জারি করেন রাজ্যপাল তথা বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য জগদীপ ধনকড়। তাতে তিনি আইনের ধারা উল্লেখ করে প্রাণীবিদ্যার অধ্যাপক গৌতম চন্দ্রকে সহ উপাচার্য (প্রশাসন ও শিক্ষা) হিসেবে নিয়োগ করেছেন বর্ধমান বিশ্ব বিদ্যালয়ে। এর পরেই সাংবাদিক বৈঠক ডেকে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিজেপির লোককে বসিয়েছেন রাজ্যপাল। অধ্যাপক গৌতম চন্দ্রকে সহ-উপাচার্য হিসেবে মানবে না রাজ্য সরকার।

    পাল্টা তৎপরতা শুরু হয় নবান্নের তরফে। মঙ্গলবার দুপুরে জানা যায়, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য হিসেবে নবান্ন নিয়োগ করেছে অধ্যাপক আশিস পানিগ্রাহীকে। ফলে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রশাসনে জটিলতা তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে।

    শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যের আবার পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। দলের মুখপাত্র সায়ন্তন বসু বলেন, “পার্থবাবু আসলে এমন উপাচার্য চাইছেন যাঁরা দরকারে ধর্মতলায় তৃণমূলের ধর্ণা মঞ্চে বসতে দ্বিধা করবেন না। ঠিক যেমন কদিন আগেই দেখা গিয়েছিল। শিক্ষামন্ত্রীকে ঘিরে তৃণমূলে ধর্ণাস্থল আলো করে বসেছিলেন কিছু উপাচার্য।”

    আজ ফের পাল্টা সাংবাদির বৈঠক করে পার্থ চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ তুললেন, রীতিমতো মস্তানসুলভ আচরণ করছেন রাজ্যপাল। তাঁর মতে, শিক্ষা সংক্রান্ত যা বিধি, যা আইন, তা মাথায় রেখেই শিক্ষা দফতর কাজ করে। “আমি অবাক হচ্ছি রাজ্যপাল মহোদয়ের কাজকর্ম দেখে। তিনি প্রথমে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, তার পরে একটার পর একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন। তিনি বুক বাজিয়ে বলছেন “আমি আচার্য, আমি আচার্য!” আমরা বলছি আইন এবং যে বিধি আমাদের আছে, সেই বিধি অনুযায়ী কাজ করা উচিত। উনি তা করেন নি। আমি বলতাম না, কিন্তু উনি সবটাই প্রকাশ্যে করছেন বলে আমি বলতে বাধ্য হলাম।”– বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

    পার্থ আরও দাবি করেন, রাজ্যপাল একটি বিতর্কের আবহাওয়া তৈরি করে বাঁচতে চাইছেন। তাঁর বাঁচা তাঁর ব্যাপার। কিন্তু তাঁর এই মনোভাবে বাংলার শিক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত। শিক্ষামন্ত্রী জানান, “আমরা তো এইবারেও কথা বলি ওঁর সঙ্গে। উনি জানাননি কিছু। এই যে মানসিক ভারসাম্যহীনের মতো তিনি যেভাবে চলছেন, তাতে তাঁর সম্মানীয় আসনটি কলুষিত করছেন। আমরা আইন মেনে, উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলেই সব কিছু করব। আমাদের বিধানসভার আইনই শেষ কথা।”

    পার্থবাবুর অভিযোগ, বিধি যেখানে স্পষ্ট, সেখানে রাজ্যপাল কোথা থেকে কারও উড়ো নাম নিয়ে আসেন! এটা আচার্যের কাজ নয়। আমরা তীব্র ভাষায় তাঁর আচরণকে নিন্দা করছি। আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়কে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। রাজ্যপাল টুইট করেছেন। ওঁর করার কথা নয়। উনি ঠিক করছেন উনি কাউকে নিয়োগ করবেন! মাইনে দেবে কে! সরকারের কাজ এটা। কোনও দিন রাজ্যপাল নিজে নিজে অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকারই বা এখন কোথায় গেল!

    শিক্ষা মহলের অনেকের বক্তব্য, এতে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে তীব্র জটিলতা তৈরি হতে পারে। কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ উপাচার্য নিয়োগ ঘিরে এই ধরনের সংঘাতের নজির স্মরণকালে বাংলায় নেই বলে মত শিক্ষা মহলের অনেকের। কয়েক বছর আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অভিজিৎ চক্রবর্তীকে সরানোর দাবিতে তীব্র ছাত্র আন্দোলন দেখেছিল রাজ্য। শেষপর্যন্ত সরকার উপাচার্য বদল করতে বাধ্য হতে হয়েছিল। অভিজিৎবাবুর জায়গায় সুরঞ্জন দাসকে যাদবপুরের ভিসি করা হয়।

    পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সাংবাদিক বৈঠকের পরে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “সব কিছু আস্তে আস্তে রাজ্যের হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। পুলিশ, রেশনও হাতের বাইরে চলে গেছে। এবার কি উপাচার্যও চলে যাবে বলে ভয় পাচ্ছে সরকার? রাজ্যপাল তো বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউকে ফোন করতেই পারেন, খোঁজ নিতেই পারেন, কারণ তিনি আচার্য। একে মস্তানি বলে মনে হচ্ছে কেন সরকারের।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More