মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৫

এনআরসি আতঙ্কে মহিলার মৃত্যু, অভিযোগ পরিবারের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : উত্তর ২৪ পরগনার রামেশ্বরপুর পঞ্চায়েতের কাটাখালি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন মোমেনা ওরফে আমেনা বেওয়া (৬৪)। বিড়ি বেঁধে তাঁদের সংসার চলত। এনআরসি নিয়ে নানা গুজব শুনে অনেকের মতো আমেনা বেওয়াও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বুধবার তিনি পঞ্চায়েত অফিসে যান। সেখানে তাঁকে বলা হয়, ‘৭১ সালের আগের দলিল না দেখাতে পারলে দেশ ছাড়তে হবে। তিনি দলিল আনতে গিয়েছিলেন বাপের বাড়ি বাঁকড়া গ্রামে। সেখানে দলিল পাওয়া নিয়ে কিছু সমস্যা হয়। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফলে তাঁর মৃত্যু হয়।

আমেনা বেওয়ার গ্রামে ডিজিটাল রেশন কার্ড তৈরি ও ভোটার পরিচয় পত্র রেজিস্ট্রেশনের কাজ শুরু হয়েছে। একটি চক্র এই সুযোগে এনআরসি চালু হয়েছে বলে গুজব ছড়াচ্ছে। ফর্ম ফিল-আপের নাম করে তারা স্থানীয় মানুষের হাজার হাজার টাকা আত্মসাৎ করছে।

মৃতার বড় ছেলে মোশারফ গাজি বলেন, সম্প্রতি ডিজিটাল রেশন কার্ডের জন্য আবেদন ও ভোটার পরিচয়পত্র রেজিস্ট্রেশনের নাম করে এমন গুজব ছড়াচ্ছে যে, অনেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। আমাদের মা-ও ভয় পেয়েছিলেন। বুধবার তিনি স্থানীয় পঞ্চায়েতে যান। সেখানে কেউ তাঁকে বলে, ‘৭১ সালের আগের দলিল না দেখাতে পারলে দেশ ছাড়তে হবে।

একথায় ভয় পেয়ে আমেনা বেওয়া দলিল আনতে তাঁর বাপের বাড়ি বাঁকড়া গ্রামে গিয়েছিলেন। সেখানে দলিল পাওয়া নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, তিনি আতঙ্কেই সেই রাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে প্রথমে স্থানীয় ন’নম্বর স্যান্ডেল বিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে শুক্রবার দুপুরে ভর্তি করা হয় বসিরহাট জেলা হাসপাতালে। হাসপাতালের সুপার শ্যামল হালদার  বলেন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে আমেনা বেওয়ার মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় মানুষ বলেন, ভোটার পরিচয় পত্র এপিক কার্ড রেজিস্ট্রেশনের  প্রক্রিয়া শুরু হতেই এনআরসি নিয়ে রাজনৈতিক দলের নেতারা নানা কথা বলছেন। তাতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। অবিলম্বে মানুষের মন থেকে আতঙ্ক ছড়াতে না পারলে আরও অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়বেন। আরও কয়েকজনের মৃত্যুও হতে পারে।

Comments are closed.