ফের কর্মী ক্ষোভের সামনে অনুব্রত, এবার আউশগ্রামে, তৃণমূলের মঞ্চ থেকেই ফোন বিডিওকে

ফের সেই একই রকম ক্ষোভ দেখা গেল তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীসভায়। সেদিন ছিল বীরভূমে। এবার পূর্ব বর্ধমানে। ওই জেলার জঙ্গলমহল বলে পরিচিত আউশগ্রামে রবিবার দলের বুথভিত্তিক কর্মীসভা করেন অনুব্রত মণ্ডল। আর এই কর্মী সম্মেলনে দলের বুথস্তরের কর্মীরা তাঁর কাছে পেশ করলেন একের পর এক অভিযোগ।

১০

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক’দিন আগেই এক বুথ সভাপতির প্রশ্নের মুখে পড়েন তৃণমূল কংগ্রেসের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। ফের সেই পরিস্থিতি তৈরি হল রবিবার। তবে এদিন এক কর্মী নয়, অনেকের ক্ষোভ শুনতে হল তাঁকে। সেই ক্ষোভ সামাল দিতে কর্মী‌সভার মঞ্চ থেকেই স্থানীয় বিডিওকে ফোন করেন অনুব্রত মণ্ডল।

আরও পড়ুন

ছত্তীসগড়ে মাওবাদীদের হাতে খুন ৪ গ্রামবাসী, মারধর অনেককে

গত ৩ সেপ্টেম্বর রাস্তা করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন বুথ সভাপতি। বলেছিলেন ‘‘বাম আমলে রাস্তায় সাইকেলটা চলতো, এখন আর সেটাও চলে না।’’ বুথ সভাপতির মুখে এমন কথা শুনে মেজাজ হারান অনুব্রত মণ্ডল। ক্ষিপ্ত হয়ে সঙ্গে সঙ্গে ওই বুথ সভাপতিকে পদ থেকে সরানোর নির্দেশ দিয়ে দেন। তারপরেই তুমুল বিশৃঙ্খলায় কর্মীসভা প্রায় শিকেয় ওঠে। অনেক কষ্টে ড্যামেজ কন্ট্রোল করেন জেলা পরিষদের মেন্টর তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি অভিজিৎ সিংহ।

ফের সেই একই রকম ক্ষোভ দেখা গেল তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীসভায়। সেদিন ছিল বীরভূমে। এবার পূর্ব বর্ধমানে। ওই জেলার জঙ্গলমহল বলে পরিচিত আউশগ্রামে রবিবার দলের বুথভিত্তিক কর্মীসভা করেন অনুব্রত মণ্ডল। আর এই কর্মী সম্মেলনে দলের বুথস্তরের কর্মীরা তাঁর কাছে পেশ করলেন একের পর এক অভিযোগ। কোথাও সরকারি আবাস যোজনার অনুদান আটকে রয়েছে মাসের পর মাস। কোথাও গ্রামবাসীদের জবকার্ড বাতিল হয়ে গিয়েছে। আবার কারও মুখ থেকে উঠে এল স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতিই ক্ষোভের কথা। অনুব্রত মণ্ডল সমস্ত খুঁটিনাটি অভিযোগের কথা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে শোনেন। তার প্রতিকারের আশ্বাসও দেন। পাশাপাশি দলের কর্মীদের প্রতি তার কড়া নির্দেশ “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের দিকগুলি সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরে বিধানসভা ভোটে লিড বাড়াতে হবে। যারা এখনও বিজেপি বা সিপিএমের প্রতি ঝুঁকে রয়েছে তাদের বুঝিয়ে দলে আনতে হবে।”

রবিবার আউশগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে তৃণমূল কংগ্রেসের বুথভিত্তিক কর্মী সম্মেলন হয়। এদিন দুপুর থেকে অনুব্রত মণ্ডল সভা শুরু করেন। এদিন মূলত আউশগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের বেরেন্ডা, উক্তা এবং আউশগ্রাম এই তিন অঞ্চল নিয়ে বুথভিত্তিক কর্মী সম্মেলন ডাকা হয়েছিল। অনুব্রতর সঙ্গে এসেছিলেন রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ, বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ অসিত মাল। দলীয় বুথ সভাপতি থেকে বুথ স্তরের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন অনুব্রত মণ্ডল। আর এই কথোপকথনের সময়ে বেশ কয়েকটি এলাকার কর্মীরা নানা ক্ষোভ জানান।

বেরেন্ডা অঞ্চলের বেলুটি গ্রামের একটি বুথে গত লোকসভা ভোটে দলের পরাজয়ের কারণ জানতে চাইলে ওই এলাকার এক কর্মী অভিযোগ তোলেন, “বেশ কিছু মানুষের সরকারি আবাস যোজনার অনুদান মাঝপথে আটকে রয়েছে। বেশকিছু মানুষের জবকার্ড বাতিল হয়ে রয়েছে। বারবার প্রধান ও অঞ্চল সভাপতিকে বলেছি। মানুষ আমাদের প্রতি বিতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছেন।” এই কথা শুনে অনুব্রত মণ্ডল তৎক্ষণাৎ স্থানীয় বিধায়ক ও দলের ব্লক সভাপতির কাছে কৈফিয়ত চান। তারপরে নিজেই আউশগ্রাম ১-এর বিডিও চিত্তজিৎ বসুকে ফোন করেন। বিধায়ক অভেদানন্দ থান্ডারকে বলেন, “রকেট তুই বিডিওর সঙ্গে দেখা করে সমস্যা সমাধান করে দিবি।”

বেরেন্ডা অঞ্চলের পরে উক্তা অঞ্চলের কর্মীদের নিয়ে সভা করেন অনুব্রত। উক্তা অঞ্চলের ডাঙাল গ্রামের আদিবাসীপাড়ার বাসিন্দারা তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়ে রয়েছে বলে অনুব্রত মণ্ডলকে জানান ওই এলাকার এক বুথ সভাপতি। সরকারের এত উন্নয়নের পরেও কেন আদিবাসীপাড়ার মানুষরা দল থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন জানতে চান অনুব্রত মণ্ডল। তিনি মঞ্চ থেকে অঞ্চল সভাপতি ও বুথ সভাপতিকে নির্দেশ দেন মানুষকে বোঝাতে হবে। বারবার তাদের বাড়িতে যেতে হবে।

এদিন কর্মী সম্মেলনে দলের কয়েকজন কর্মী অভিযোগ তোলেন যে, বিজেপির সঙ্গে ঝামেলা বা সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের ভয়ে তাদেরই মাঠে রাত কাটাতে হচ্ছে। অথচ তাঁরা দলের স্থায়ীয় নেতৃত্বের সহযোগিতা পাচ্ছেন না। অনুব্রত তাদের বলেন, “এরকম সমস্যা হলে তোমরা আমাকে সরাসরি ফোন করবে। আমি দেখে নেবো।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More