বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৯

Exclusive: পঞ্চায়েত থেকে সরছেন সুব্রত, শোভনের ভবিষ্যৎ কী

দ্য ওয়াল ব্যুরোপঞ্চায়েত ভোট শেষ। এ বার কি পঞ্চায়েত মন্ত্রীর পদ থেকে সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে সরিয়ে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? কলকাতা পুরসভার মেয়র পদে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ভবিষ্যৎই বা কী?

এ খবরের শুরুতেই বলে রাখা ভাল যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কখন কী পদক্ষেপ করবেন, তা দলের মধ্যে গুটিকয় কেন, অনেক সময় কারও কাছেই হদিশ থাকে না। ভাইপো তথা ডায়মণ্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও না। যেমন সম্প্রতি রাজ্যসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের সময় দলের কোনও নেতার কাছেই আগাম খবর ছিল না, কাকে কাকে মনোনীত করতে চলেছেন নেত্রী। দলের নেতারা এ ওঁকে জিজ্ঞাসা করে জানতে চেয়ে বৃথা সময় নষ্ট করেছেন।

তবে পঞ্চায়েত নির্বাচন শেষ হতেই নবান্নের আমলা মহলে জোর আলোচনা চলছে দুই মন্ত্রীকে নিয়ে। একজন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। দ্বিতীয় জন শোভন চট্টোপাধ্যায়। শোভনবাবু কলকাতার মেয়র ছাড়াও দমকল, আবাসন ও পরিবেশ মন্ত্রী।

কেন এই আলোচনা?

সুব্রত মুখোপাধ্যায় পঞ্চায়েত দফতরের কাজ থেকে নিজেকে যে অনেকটা গুটিয়ে নিয়েছেন তা শীর্ষ আমলাদের সকলের কাছেই জানা। পঞ্চায়েত ভোটের দিনক্ষণ ঠিক করা থেকে শুরু করে হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্ট পর্বে সুব্রতবাবুকে কার্যত দেখাই যায়নি। নবান্নের সঙ্গে সমন্বয় রেখে যা করার করেছেন দফতরের সচিব সৌরভ দাস। কেবল মাত্র সুব্রতবাবুকে হাতে গোনা কয়েকদিন দেখা গিয়েছিল ভোট প্রচারে।

সুব্রতবাবুর কাছে পঞ্চায়েত ছাড়াও জনস্বাস্থ্য কারিগরী দফতরের দায়িত্ব রয়েছে। ওই দফতরের কাজ নিয়ে অবশ্য সুব্রতবাবু রীতিমতো নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন। সংশ্লিষ্ট দফতরের আওতায় বিশ্ব ব্যাঙ্ক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক এবং জাইকার বহু হাজার কোটি টাকায় গোটা বাংলা জুড়ে বেশ কিছু পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্পের কাজ চলছে। এ ব্যাপারে তাঁর কাজে কেবল মুখ্যমন্ত্রী সন্তুষ্ট শুধু নন, কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক এবং বিদেশি ঋণ দানকারী সংস্থার কর্তারাও খুশি।

আমলাদের করিডরে খবর, সুব্রতবাবুকে পঞ্চায়েত দফতর থেকে সরালেও তাঁকে কোনও না কোনও উল্লেখযোগ্য প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়া হবে। কারণ, এমনিতে তিনি এখন সাতে পাঁচে থাকেন না। নিজের দফতরের কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। হতে পারে তাঁকে শুধু জনস্বাস্থ্য কারিগরী দফতরের মন্ত্রী পদে রেখে দেবেন মমতা। তবে এর থেকেও বড় একটি চমকের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তা হল, মন্ত্রিসভায় রাখার পাশাপাশি সুব্রতবাবুকে কলকাতা পুরসভার মেয়র পদের দায়িত্ব দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। তা হলে কাকে করা হবে পঞ্চায়েত মন্ত্রী? সদ্য শেষ হওয়া পঞ্চায়েত ভোটে দলের যে নেতা তৃণমূলের জন্য বড় জয় ছিনিয়ে আনতে পেরেছেন, অর্থাৎ যাঁর সঙ্গে মাটির যোগ আছে, এমন কোনও নেতাকে পঞ্চায়েত দফতরের দায়িত্ব দিতে পারেন মমতা।

কারণ, এক, মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় নানা কারণে এখন পুরসভায় বেশি সময় দিতে পারছেন না। স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা নিয়েও বিব্রত রয়েছেন। তা ছাড়া শরীর স্বাস্থ্য তাঁর খুব একটা ভাল যাচ্ছে না বলে খবর। ঘন ঘন তাঁকে দেখা যাচ্ছে বেলভিউ নার্সিংহোমে। দুই, কলকাতা পুরসভার মেয়র পদে ইদানীং কালে সবথেকে সফল মেয়াদ ছিল সুব্রতবাবুর। কলকাতা পুরসভার ব্যাপারে তাঁর ব্যক্তিগত আগ্রহ এখনও অসীম। তবে সুব্রতবাবুকে মেয়র করতে হলে তাঁকে পুরসভার কোনও একটি ওয়ার্ড থেকে আগে ভোটে জিতিয়ে আনতে হবে।

এ ব্যাপারে সুব্রতবাবুকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি একগাল হেসে বলেন, “পঞ্চায়েত দফতর থেকে সরিয়ে দিলে দেবে। এটা তো মুখ্যমন্ত্রীর এক্তিয়ার। আমার কিছু বলার নেই।“

Leave A Reply