শনিবার, এপ্রিল ২০

পরিবর্তনের ভোট, না ভোটের পরিবর্তন

সম্প্রীতি আতর্থী

ভোট আসে ভোট যায়। লোকসভা থেকে বিধানসভা হয়ে এসে পৌঁছয় পঞ্চায়েত ভোট। আমাদের এলাকা  যেহেতু পঞ্চায়েতের দখলে, তাই ভোট এল এখানেও, ২০১৮পঞ্চায়েত ভোট। অনেক জট-জটিলতা কাটিয়েও এসে পৌঁছল।

বলে রাখা ভালো, কোচবিহার খাগড়াবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের যে অংশে আমরা থাকি, তা পঞ্চায়েত এলাকার অন্তর্ভুক্ত হলেও আমরা শহরের সমস্ত সুযোগ-সুবিধাই পেয়ে থাকি। চাকরিজীবি থেকে ডাক্তার, ব্যবসায়ী কিংবা ইঞ্জিনিয়ার— সব রকম পরিবারের বাস এখানে। এক কথায় বলতে গেলে মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত এলাকা। তাই বেশির ভাগ পঞ্চায়েত এলাকার মতো গ্রামীণ এলাকার ছবি পাওয়া যাবে না এখানে একেবারেই। সবাই মিলেমিশে থাকে। সে হিন্দু-মুসলিম-খ্রিস্টান হোক, বা  সিপিআইএম-তৃণমূল-বিজেপি হোক। কারও সাথে বিরোধ নাই কারও। বিরোধ থাকলেও, বিদ্বেষ নেই।

প্রায় খান কুড়ি ভোটে অন্তত এমনটাই দেখেছি। শাসকগদির পরিবর্তনও দেখেছি, বিধানসভা থেকে লোকসভায়। কালের নিয়মে পঞ্চায়েতেও হয়েছে পরিবর্তন। কখনও বিজেপি, কখনও সিপিএম কিংবা কংগ্রেস পঞ্চায়েতে এসেছে ।তবে সেটা জবরদস্তি করে নয় কোনো বারই। সব সময়েই মানুষের স্বাধীন মতপ্রকাশের মধ্যে দিয়ে। ছাপ্পা ভোট কিংবা ভয় দেখানো, এ সব কিছু এত দিন টিভিতেই সীমাবদ্ধ ছিল এই এলাকায়। এইবারও ভেবেছিলাম তেমনটাই হবে। গর্বের সঙ্গে বলব, “খাগড়াবাড়ি প্রাথমিক স্কুলে বুথ শান্তিপূর্ণ। কোনও ঝামেলা কিংবা গা-জোয়ারি নেই। আমরা সবাই ভোট দিয়েছি যাকে পছন্দ তাকেই।”

কিন্তু সব হিসেব পাল্টে গেল একটু বেলা গড়াতেই। তখন সকাল আটটা কি সাড়ে আটটা। দেখি পাড়ার লোকজন ফিরে আসছে দলে দলে। জিজ্ঞাসা করতেই জানা গেল বুথ দখল! ফিরিয়ে দিয়েছে সবাইকে ওখান থেকে। বুথের ভিতর চলছে অবাধে ছাপ্পা! অবাক হলাম প্রথমে। এই ঘটনার সাথে পরিচিত নই আমরা একেবারেই।

প্রথমে ভাবলাম মজা করছে ওরা। কিন্তু না, কারও আঙুলে চিহ্ন নেই ভোট দেওয়ার। তবে সত্যিই কি পরিবর্তন! ভোটের পরিবর্তন। ভোট দেওয়ার পদ্ধতিতে পরিবর্তন! যে পরিবর্তনের সাথে আমি আমার এলাকাবাসী একেবারেই পরিচিত নই। আর একটু বেলা পড়তেই জানা গেল, দুপুর নাগাদ আরও যারা ভোট দিতে গিয়েছিলেন, তাঁরা দেখে এসেছেন,  তাদের ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গিয়েছে ভূতুড়ে ভাবেই। বুথও বন্ধ। এমনটা মানতে পারিনি অনেকেই। এই অঞ্চলে তো এমন হওয়ার কথা ছিল না। কথা ছিল না ছাপ্পার। কথা ছিল না নিজের ভোট নিজে না দিতে পারার।

কিন্তু অনেক কথাই তো থাকে না। তবু ঘটে। আমরা থাকি নীরব দর্শক হয়ে। কোন মধ্যবিত্তই বা ঝামেলায় জড়াতে চায়।

আমরা যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, তারা সকলেই পরিবর্তন চাই। কালের নিয়মেই দরকার আছে পরিবর্তনের। রাজনীতিতে পরিবর্তনই একমাত্র চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দেয়, কে ভালো আর কে খারাপ। তবে গণতান্ত্রিক দেশে ভোটের নিয়মে পরিবর্তন?  তা বোধ হয় কেবল ক্ষমতাবানরাই করতে পারে।

সে পরিবর্তনের সাক্ষী থাকলাম আমিও, ২০১৮তে এসে।

(লেখিকা কোচবিহারের খাগড়াবাড়ির বাসিন্দা, জলপাইগুড়ি পিডি উইমেন্স কলেজ থেকে ভূগোলে স্নাতক)

Shares

Leave A Reply