মঙ্গলবার, মার্চ ২৬

ইনফ্লুয়েঞ্জা হলে ভয় পাবেন না, তবে ফেলেও রাখবেন না

সাধারণত শীত, বর্ষা, গ্রীষ্ম হলে গা ম্যাজম্যাজ করে।  জ্বরজ্বর লাগে।  সকলে ভাবেন season change এর জ্বর বা এমনি ভাইরাল হয় তো।  কিন্তু সেটা মারাত্মক কিছু নয় তো! অর্থাৎ শত শত ভাইরাসের মধ্যে সেটা যদি ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের অ্যাটাক হয় তাহলে কিন্তু বেশ বিপদ।  সে বিষয়েই বিশিষ্ট পালমোনলজিস্ট ডঃসুমিত সেনগুপ্তর সঙ্গে কথা বললাম আমরা, কী বললেন তিনি শুনে নিন….

দ্য ওয়াল: ইনফ্লুয়েঞ্জা আসলে কী? কেন হয়?
ডঃ সেনগুপ্ত: কোনও ভাইরাল infection এর মতো এটাও একটা infection ।  বছরে প্রায় প্রতিটি মানুষেরই গড়ে চার বার ফ্লু হয়।  সবচেয়ে সাধারণ অসুখ এই ফ্লু।  ৩৫০ এর উপর ভাইরাস আছেতবে সাধারণ ভাইরাল ইনফেকশনে ২১দিনের কাশি এবং তিনদিনের জ্বর থাকলেও ইনফ্লুয়েঞ্জা এতটাই মারাত্মক হতে পারে যেখানে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে।  যদিও একমাত্র এই ফ্লুয়েরই ভ্যাকসিন আছে এবং চিকিৎসা করানো সম্ভব।

এই ছোঁয়াচে অসুখটা বর্ষা শীত বা গ্রীষ্মের সঙ্গে যে খুব সম্পর্কিত তা নয়মূলত হাঁচি কাশি থেকে তিনফুটের মধ্যে এর জার্ম ছড়ায়।  একে ডাক্তারি পরিভাষায় বলে droplet infection।  একই পরিবারের কারও হলে তাঁর থেকে বাকিদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এই অসুখ।  মুখ চেপে হাঁচি কাশি এবং বারবার হাত ধুয়ে ফেললে অনেকটাই আটকানো যায় ইনফ্লুয়েঞ্জা।

দ্য ওয়াল: বয়সের কোনও সীমা আছে?
ডঃ সেনগুপ্ত: সাধারণভাবে ৬৫এর উপরে বয়স হলে মুশকিল হয় বেশি।এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।  যে কোনও chronic অসুখ অর্থাৎ ডায়বেটিস, কিডনির অসুখ, হার্টের অসুখ বা ক্যনসারের মতো সমস্যা থাকলে এই রোগ মোকাবিলা করা অনেকটাই কঠিন হয়ে যায়।  ৫০ এর কম বয়স হলেও rare case হলে সমস্যা ফেলে রাখলে বিপদ।  antigenic shift মাঝেমধ্যে হয়ে influenza সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে।  সেই সময়ে  নতুন করে  প্রতিরোধ ক্ষমতা  তৈরি করতেই সময় লাগে এতটা যে সোয়াইন ফ্লুতে মৃত্যু হয়।  seasonal ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিবছর  antigenic drift হতে পারে।  এতে উপসর্গগুলো প্রতিবছরই একটু আধটু পরিবর্তন করে ফিরে ফিরে আসে।  আর তাতে অফিস ছুটি নিতে হয় দু থেকে তিনদিন।

দ্য ওয়াল: ছোটদের এবং বড়দের কোনও আলাদা উপসর্গ আছে?
ডঃ সেনগুপ্ত: উপসর্গ মোটামুটি একই থাকে সকলের। শিশুদের যে কোনও ফ্লুতেই খেতে না চাওয়া ঘ্যানঘ্যান করা ইত্যাদি থাকে। বড়দের ক্ষেত্রে গা হাত পা ব্যথা করেনাক বন্ধ হয়ে যায়গলা ব্যথা করে। এক একজনের এক একরকম উপসর্গ কাজ করে। তবে এবছর যাঁর হাত পা ব্যথা করল বা গলা ব্যথা করলতাঁর পরের বছর হলে হয় তো শুধু গা ব্যথা বা নাক বন্ধ ইত্যাদি রইল। তাই যে কোনও একটা উপসর্গ হলেই ইনফ্লুয়েঞ্জা কি না দেখে নিতে হবে।

দ্য ওয়াল: যাঁরা স্মোক করেন তাঁদের জন্য সমস্যা কতটা বেশিপলিউশন কতটা ক্ষতিকর হয় এক্ষেত্রে?
ডঃ সেনগুপ্ত: স্মোকিং যে কোনও সময়েই ক্ষতিকর।  ইনফ্লুয়েঞ্জা হলেও কেউ যদি স্মোক করেন তাঁর শ্বাসকষ্ট বাড়বে বলাই বাহুল্য। যাঁরা স্মোক করেন তঁদের সিওপিডির সমস্যা থাকে।  আর ইনফ্লুয়েঞ্জায় সে সমস্যা আরও বেড়ে যায়।
যে কোনও সময়েই ধোঁয়া ধুলো ক্ষতি করে এক্ষেত্রেও আলাদা নয়।  আর তাতে ভাইরাল অ্যাটাকের সম্ভাবনাও থাকে।তাই সামলে তো চলতে হবে।

দ্য ওয়াল: আগে থেকে প্রোটেকশন নেওয়া যায় কি?
ডঃ সেনগুপ্ত: প্রতিবছরই সেপ্টেম্বর মাসে ইনফ্লুয়েঞ্জার ভ্যাকসিন আসে।  হাসপাতালনার্সিংহোম বা পাড়ার ডিসপেন্সারিতে সহজেই সেই ইঞ্জেকশন পেয়ে যাবেন।  চেষ্টা করুন প্রতিবছর এই ভ্যাকসিন নিতে।  কারণ একটা ইঞ্জেকশনের মেয়াদ একবছরই থাকে।

দ্য ওয়াল: তারপরেও হলে কী করতে হবে?
ডঃ সেনগুপ্ত: droplet infection থেকে বাঁচতে হবে।  হাঁচি কাশি থেকে দূরে থাকুন।  চেষ্টা করুন বারবার হাত ধুতে।  নইলে ছড়িয়ে পড়বে এই ভাইরাস। রুমাল চাপা দিয়ে হাঁচতে হবে বা কাশতে হবে।

দ্য ওয়াল: ঘরোয়া কোনও টোটকা আছে কি?
ডঃ সেনগুপ্ত: সেই অর্থে ঘরোযা টোটকা নেইতবে বাড়িতে গরম খাবার খেতে হবে।  সাধারণত আগেকার দিনের লোকজনরা বলতেন গরম খাবার খেতেরেস্টে থাকতে এবং হাঁচি কাশির সময়ে রুমাল ব্যবহার করতে ।  সেগুলো মেনে চললেই হয়।  এছাড়া বিজ্ঞানভিত্তিক আর কোনও টোটকা সেভাবে হয় না।

ডঃ সেনগুপ্ত কী বলছেন ইনফ্লুয়েঞ্জার তথ্যপঞ্জী (ডেটাবেস) নিয়ে, কতটা সিরিয়াস হতে  পারে এই অসুখ শুনুন তাঁর মুখেই।

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মধুরিমা রায়

Shares

Comments are closed.