বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮

শিখ তীর্থযাত্রীদের কাছে খলিস্তানের প্রচার পাকিস্তানে, ধৃত চর

দ্য ওয়াল ব্যুরো : রেফারেন্ডাম ২০২০। এই নামে বিদেশ থেকে খলিস্তানের হয়ে প্রচার চালাচ্ছে উগ্রপন্থীরা। উদ্দেশ্য, শিখ জঙ্গিবাদকে আবার চাঙা করে তোলা। খলিস্তানের পক্ষে ২০২০ সালে সোশ্যাল মিডিয়ায় গণভোটেরও চেষ্টা হচ্ছে বহুদিন ধরে। এর মধ্যে নতুন করে ভারতের চিন্তা বাড়াচ্ছে পাকিস্তান। সেদেশে প্রতি বছর ভারত থেকে যে তীর্থযাত্রীরা যান, তাঁদের ‘স্বাধীন খলিস্তানের’ আদর্শে দীক্ষিত করার জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন পাকিস্তানের গোয়েন্দারা। অর্থাৎ কাশ্মীরের পরে এখন খলিস্তানি জঙ্গিদেরও পাকিস্তান মদত দেওয়া শুরু করেছে।

গত ২৮ জুন ফরিদকোট থেকে ধরা পড়ে ২৪ বছরের সুখবিন্দর সিং। অভিযোগ, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে সে পাকিস্তানের গোয়েন্দাদের হয়ে কাজ করছে। সে থাকত মোগায় আর্মি ক্যান্টনমেন্টের কাছে। সেনাবাহিনীর গতিবিধির কথা পাকিস্তানে তার প্রভুদের জানিয়ে দিত। সেই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় খলিস্তানের হয়ে প্রচার করত।

সুখবিন্দরকে জেরা করে জানা যায়, সে ২০১৫ সালে গুরু পরব উৎসব উপলক্ষে পাকিস্তানে শিখ তীর্থস্থানগুলিতে গিয়েছিল। রাওয়ালপিন্ডিতে তার সঙ্গে পাকিস্তানের গোয়েন্দাদের সাক্ষাৎ হয়।

এদেশ থেকে শিখ তীর্থযাত্রীরা যাতে পাকিস্তানে তীর্থ করতে যেতে পারেন, সেজন্য ১৯৭৪ সালে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হয়। তারপর থেকে বছরে চারবার শিখরা দল বেঁধে পাকিস্তানে যান। সেদেশে ১৮ টি শিখ তীর্থস্থান আছে। লাহৌর, শেখপুরা, নানকানা সাহিব, নারোওয়াল এবং রাওয়ালপিন্ডির কাছে হাসান আবদেল অঞ্চলে তীর্থস্থানগুলি অবস্থিত। কারগিল যুদ্ধের পরে দু’-তিনবছর তীর্থযাত্রা বন্ধ ছিল। ২০০৪ সাল থেকে প্রতি বছর সাত থেকে ১০ দিন ধরে শিখরা তীর্থযাত্রা করেন।

সাউথ ব্লকের বক্তব্য, পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক চুক্তির অবমাননা করছে। শুধু ভারতীয় তীর্থযাত্রী নয়, কানাডা, ব্রিটেন, জার্মানি থেকে যে শিখরা আসছেন, তাঁদের কাছেও পাকিস্তান প্রচার করছে খলিস্তান নিয়ে। রেফারেন্ডাম ২০২০-তেও বিপুল অর্থ দিচ্ছে ইসলামাবাদ।

সিধুর আগেও একাধিক যুবককে চর হিসাবে নিয়োগ করেছে পাকিস্তান। ২০০৯ সালে চর হিসাবে ধরা পড়েছিল নায়েব সিং ও ভোলা সিং, ২০১২ সালে ধরা পড়েছিল সুখপ্রীত কাউর ও সুরজপাল সিং, ২০১৩ সালে ধরা পড়েছিল তালবিন্দর সিং।

এরই মধ্যে ভারত ও পাকিস্তান যৌথভাবে কর্তারপুর করিডোর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। কর্তারপুর সাহিবে যাঁরা তীর্থ করতে যাবেন তাঁদের ওপর গুরুদোয়ারা দরবার সাহিবে একদফা নজরদারি চালাবে ভারত। কিন্তু তাতেও পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। দিল্লির অনেক কর্তা চান, যে শিখরা কর্তারপুরে যাবেন, তাঁদের সেদিনই ফিরে আসতে বলা হোক। তাহলে পাকিস্তানের ছক সফল হবে না।

Comments are closed.