শুক্রবার, নভেম্বর ২২
TheWall
TheWall

চিনের যৌনপল্লীতে পাচার বাড়ছে পাকিস্তানি মহিলা, বন্ধু দেশে বিকোচ্ছে সংখ্যালঘু নববধূও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ে করে নারী পাচার। রমরমিয়ে চলছে। আর তা দেখে রীতিমতো চিন্তিত পাকিস্তানের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। আর এই বেআইনি কারবারে মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে উঠেছে বন্ধু দেশ চিন।

নারী পাচারের অন্যতম পন্থাই হল বিয়ে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে, অথবা বিয়ে করেই মহিলাদের অন্যত্র বিক্রির পরিচিত এই কায়দা প্রতিনিয়ত বেড়ে চলছে পাকিস্তানে। পাক কর্তৃপক্ষ ক্রমবর্ধমান এই নারী পাচারের তদন্তে নেমে একাধিক চক্রের হদিশ পয়েছে। গত মে মাসেই ১২ জন সন্দেহভাজন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। জানা যায়, এই দলের সদস্যরা পাক তরুণীদের চিনে পাচার করত। গ্রেফতার হওয়া এই ব্যক্তিদের মধ্যে আট জন চিনের ও চারজন পাকিস্তানের নাগরিক। পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির শীর্ষ এক কর্তা জামিল আহমেদ বলেন, “পাকিস্তানি নারীদের চিনে পাচার করে তাঁদের দিয়ে পতিতাবৃত্তির কাজ করানোর খবর আমাদের কানে আসার পরেই এই গ্যাংয়ের উপর নজর রাখছিলাম আমরা।” তিনি বলেন, বেশ কয়েকটি গ্যাং এই কাজ করে। প্রধানত পাকিস্তানি খ্রিস্টান সংখ্যালঘু মানুষই এদের লক্ষ্য।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ নামে এক সংগঠন অনেকবারই জানিয়েছে, চিনের পাক নারী পাচারের সাম্প্রতিক রিপোর্ট যা, তাতে পাকিস্তানকে সতর্ক হওয়া উচিত। কমপক্ষে পাঁচটি এশীয় দেশ থেকে চিনে ‘বউ’ পাচারের ঘটনা ক্রমে বাড়ছে। ইসলামাবাদে চিনা দূতাবাসও অবৈধ, সীমান্ত পারাপার করে বিয়ে দেওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

পাক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, কিছুদিন আগেই ফয়সালাবাদে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হানা দেয় পুলিশ। একজন খ্রিস্টান মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল সেটি। অনুষ্ঠানে চ‌িনের একজন পুরুষ ও একজন মহিলাকে এবং একজন ভুয়ো পাদরিকে গ্রেফতার করা হয়। আহমেদ বলেন, “ওই গ্যাংয়ের সদস্যরা স্বীকার করেছে যে তারা কমপক্ষে ৩৬ জন পাকিস্তানী মেয়েকে চ‌িনে পাঠিয়েছেন তাঁরা, চিনে তাঁদের পতিতাবৃত্তির জন্যই ব্যবহার করা হয়।”

Comments are closed.