মঙ্গলবার, মার্চ ১৯

ফের ভারতের আকাশে পাকিস্তানি ড্রোন, গুলি করে নামাল বিএসএফ

দ্য ওয়াল ব্যুরো : রবিবার ভারতের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে ঢুকে পড়েছিল একটি পাকিস্তানি ড্রোন বিমান। দেখতে পেয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনী প্লেনটিকে গুলি করে নামায়। পাকিস্তানের বালাকোটে ভারতের বায়ুসেনা বোমাবর্ষণ করার পরে এই নিয়ে চারবার ভারতের আকাশসীমা লঙ্ঘন করল পাকিস্তানের ড্রোন। সাধারণত শত্রুর সেনা সমাবেশের ওপরে নজর রাখার জন্যই ওই ধরনের বিমান ব্যবহার করা হয়। ভারত ও পাকিস্তানের সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এদেশের আকাশে বার বার পাকিস্তানি ড্রোন দেখা যাচ্ছে।

রাজস্থান সীমান্তে শ্রীগঙ্গানগরের এক উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসার বলেন, আমরা খবর পেয়েছিলাম, একটি বাড়ির ছাদে আকাশ থেকে কী সব পড়েছে। আমরা সঙ্গে সঙ্গে আর্মি এবং বিএসএফকে জানিয়েছি।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণে ৪০ জনের বেশি সিআরপিএফ জওয়ান নিহত হন। এই ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেনাবাহিনীকে ফ্রি হ্যান্ড দেন। পরে বায়ুসেনা বালাকোটে জঙ্গি জইশ ই মহম্মদের ঘাঁটিতে বোমাবর্ষণ করে। পরদিন পাকিস্তানের কয়েকটি এফ-১৬ বিমান ভারতে ঢুকে পড়ে। সেনাবাহিনীর ঘাঁটি লক্ষ করে বোমা ফেলার চেষ্টা করে। সেই বিমানগুলিকে তাড়াতে গিয়ে মিগ-২১ প্লেন নিয়ে পাকিস্তানে ঢুকে পড়েন উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। তাঁর বিমানটি পাকিস্তানের গোলায় ধ্বংস হয়। তিনি প্যারাসুট নিয়ে লাফিয়ে পড়েন। পাকিস্তানের সেনা তাঁকে বন্দি করে। কিন্তু আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

এর পর থেকেই ভারতের আকাশে হানা দিতে থাকে পাকিস্তানের ড্রোন। ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রথম ড্রোনটিকে দেখা গিয়েছিল গুজরাতের কচ্ছ এলাকায়। ভারতের স্পাইডার মিসাইলের আঘাতে প্লেনটি ভেঙে পড়ে। কচ্ছের নানগাটাড় গ্রামে তার ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়।

দ্বিতীয়বার পাকিস্তানের একটি আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল দেখা যায় ৪ মার্চ। বারমের সীমান্তে তাকে দেখার পরে তাড়া করে ভারতের একটি সুখোই ফাইটার জেট। ৯ মার্চ সন্ধ্যায় তৃতীয় একটি ড্রোন আকাশসীমা লঙ্ঘন করে শ্রী গঙ্গানগর সেক্টরে ঢুকে পড়ে। তাকেও গুলি করে নামানো হয়। সীমান্তের কাছে থাকা গ্রামগুলির বাসিন্দারা জানান, তাঁরা সেদিন রাতে ব্যাপক গোলাগুলির আওয়াজ শুনেছেন।

প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্র কর্নেল সম্বিত ঘোষ বলেন, ৯ মার্চ গঙ্গানগর সেক্টরে একটি আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল দেখা যায়। তাকে গুলি করে নামানো হয়েছে। জসলমির জেলার পুলিশের উচ্চপদস্থ অফিসার কিরণ কাং বলেন, ৯ মার্চই গুপ্তচর সন্দেহে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার নাম ফাতান খান।

 

Shares

Comments are closed.