বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪

ভিয়েনা কনভেনশনের রীতি ভেঙেছে পাকিস্তান, রাষ্ট্রপুঞ্জে বললেন আন্তর্জাতিক আদালতের সভাপতি

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ভারতীয় বন্দি কুলভূষণ যাদবকে নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধাক্কার মুখে পড়ল পাকিস্তান। ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসের প্রেসিডেন্ট আবদুলকোয়াই ইউসুফ বুধবার রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় বলেছেন, ভারতীয় বন্দি কুলভূষণ যাদবের ক্ষেত্রে পাকিস্তান ভিয়েনা কনভেনশনের ৩৬ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করেছে। একইসঙ্গে কুলভূষণের মৃত্যুদণ্ডের আদেশও পুনর্বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। বন্দি কুলভূষণের মৃত্যুদণ্ড যাতে না হয়, সেজন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছে ভারত। রাষ্ট্রপুঞ্জে আন্তর্জাতিক আদালত যেভাবে পাকিস্তানকে তিরস্কার করেছে, তাতে ভারতের সেই উদ্যোগের সাফল্য দেখছেন অনেকে।

কুলভূষণ যাদব নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত অফিসার। পাকিস্তানের অভিযোগ, তিনি চরবৃত্তি করতে সেদেশে ঢুকেছিলেন। ২০১৭ সালে পাকিস্তানের সেনা আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ভারতের পালটা বক্তব্য, কুলভূষণ তাঁর ব্যবসার কাজে ইরানে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে পাকিস্তানের গুপ্তচরেরা তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছে। ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে ভিয়েনা কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছিল দিল্লিও। তার বক্তব্য ছিল, পাকিস্তানে ভারতীয় কনস্যুলেটের কর্মীরা কুলভূষণের সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না। দিল্লির অভিযোগেই সায় দিয়েছে আন্তর্জাতিক আদালত।

আবদুলকোয়াই ইউসুফ রাষ্ট্রপুঞ্জে বলেন, “আমাদের বিচার্য বিষয় ছিল, ভিয়েনা কনভেনশনের ৩৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী পাকিস্তান কুলভূষণের সঙ্গে ভারতীয় কনস্যুলেটের কর্মীদের দেখা করতে দিতে বাধ্য কিনা। আমরা দেখেছি, ভিয়েনা কনভেনশনে কোথাও বলা হয়নি, গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে যাঁরা ধরা পড়বেন, তাঁদের সঙ্গে দূতাবাস কর্মীদের দেখা করতে দেওয়া হবে না।

কুলভূষণ যাদব সম্পর্কে বলা হয়েছে, পাকিস্তান তাঁকে গ্রেফতার করার তিন সপ্তাহ পরে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সেকথা জানায়। এক্ষেত্রেও তারা ভিয়েনা কনভেনশন লঙ্ঘন করেছে। গ্রেফতার করার সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় কনস্যুলেটকে জানানো উচিত ছিল।

২০১৬ সালের ২৫ মার্চ কুলভূষণ গ্রেফতার হন। তার ২২ দিন পরে পাকিস্তানের বিদেশ সচিব আইজাজ আহমেদ ইসলামাবাদে ভারতের হাইকমিশনারকে সেকথা জানান। পাকিস্তান জানায়নি কেন গ্রেফতারের পরে সেকথা জানাতে তাদের ২২ দিন লাগল।

Comments are closed.