আফগানিস্তানে কর্মরত ভারতীয়দের টার্গেট করছে পাকিস্তান, সংসদে জানাল সরকার

৩৩

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : আফগানিস্তানে যে ভারতীয়রা চাকরি করতে গিয়েছেন, তাঁদের অনেককে অপহরণ ও খুন করেছে পাকিস্তানে। সোমবার সংসদে একথা জানিয়েছে সরকার। বিদেশমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী ভি মুরলিধরন বলেন, গতবছর সেপ্টেম্বর মাস থেকে পাকিস্তান চেষ্টা করছে যাতে চার ভারতীয়কে রাষ্ট্রপুঞ্জ সন্ত্রাসবাদী বলে ঘোষণা করে। তাঁরা একসময় আফগানিস্তানে নানা উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত ছিলেন। যদিও রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ পাকিস্তানের এই উদ্যোগে জল ঢেলে দিয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে মুরলিধরন বলেন, আফগানিস্তানে কর্মরত ভারতীয়দের নানাভাবে টার্গেট করে পাকিস্তান। গত ১২ বছরে তাঁদের অনেককে অপহরণ করা হয়েছিল। আফগান সরকারের সহায়তায় আমাদের সরকার তাঁদের অনেককে মুক্ত করেছে। ভারতের বিভিন্ন কনস্যুলেট ও দূতাবাসেও হামলা হয়েছে। ২০১৮ সালে জঙ্গিরা আফগানিস্তানে সাত ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারকে অপহরণ করে। তাঁদের ছ’জনকে আগেই উদ্ধার করা গিয়েছিল। সপ্তম জনকে গত মাসে তালিবান মুক্তি দিয়েছে।

পরে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী জানান, ভারতের প্রচেষ্টার ফলে এখন আন্তর্জাতিক মহল পাকিস্তানের কার্যকলাপ সম্পর্কে সচেতন হয়েছে। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিভিন্ন দেশ পুলওয়ামায় জঙ্গি হানার তীব্র নিন্দা করেছিল। তারা পাকিস্তানকে বলেছিল সন্ত্রাসবাদীদের যেন কোনওভাবে প্রশ্রয় না দেওয়া হয়। এই প্রসঙ্গে মুরলিধরন বলেন, যে জঙ্গিরা পাকিস্তানে ঘাঁটি বানিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের অনেককে ইতিমধ্যে নিষিদ্ধ করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স ২০১৮ সালের জুন মাসে পাকিস্তানকে ‘ধূসর তালিকাভুক্ত’ করেছে। জানা গিয়েছে, পাকিস্তানে নিয়মিত অর্থসাহায্য পেয়ে থাকে লস্কর ই তৈবা ও জৈশ ই মহম্মদের মতো জঙ্গি সংগঠন।

গত এপ্রিল মাসে আফগানিস্তানে তালিবানের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে আচমকা জৈশ ই মহম্মদের প্রশিক্ষণ শিবিরের খোঁজ মেলে। আফগান সেনা খবর পেয়েছিল, নাংধের প্রদেশে ট্রেনিং ক্যাম্প চালাচ্ছে তালিবান। সেখানে মহম্মদ দারা অঞ্চলে অবস্থিত ওই ক্যাম্পগুলিতে সেনাবাহিনী অভিযান চালায়। দু’পক্ষে গুলিবিনিময় চলে। চার আফগান সেনা মারা যায়। নিহত হয় ১৫ জঙ্গি। পরে আফগান সেনা জানতে পারে, মৃতদের মধ্যে ১০ জন ছিল জৈশ ই মহম্মদের সদস্য। কাশ্মীরে গিয়ে লড়াই চালানোর জন্য তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছিল।

কাবুল থেকে দিল্লিকে জানানো হয়েছে, মৌলানা মাসুদ আজহারের নেতৃত্বাধীন জৈশ ই মহম্মদ আফগানিস্তানের নাংধের প্রদেশে তিনটি প্রশিক্ষণ শিবির চালাচ্ছিল। একইসঙ্গে চলছিল তালিবানের চারটি প্রশিক্ষণ শিবির। তালিবানের ঘনিষ্ঠ হাক্কানি নেটওয়ার্ক পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ নেয়। তার বিনিময়ে জৈশকে আফগানিস্তানের নাংধের অঞ্চলে প্রশিক্ষণ শিবির চালাতে দিয়েছিল তালিবান।

ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড লিস্টে আছেন মৌলানা মাসুদ আজহার। তিনি এখন অসুস্থ। পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে জৈশের সদর দফতরে থাকেন। তাঁর ভাই মুফতি রউফ আসগর জৈশকে পরিচালনা করেন। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, রউফ আসগরের ছেলে ওয়ালি আসগর আফগানিস্তানের এক ট্রেনিং ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। সেই ক্যাম্প চালায় হরকত উল মুজাহিদিন নামে এক সংগঠন। তাদের নেতার নাম মুফতি আসগর কাশ্মীরি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More