বুধবার, অক্টোবর ১৬

ভারতের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে পিছনের দরজা দিয়ে কূটনীতির প্রস্তাব, নারাজ পাকিস্তান

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে অত চড়া সুরে মন্তব্য করবেন না। বিভিন্ন শক্তিশালী দেশ এমনই অনুরোধ করেছিল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে। তার মধ্যে কয়েকটি মুসলিম দেশও ছিল। কিন্তু ইমরান রাজি হননি। তাঁকে আরও বলা হয়েছিল, ভারতের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে ‘ব্যাকডোর ডিপ্লোম্যাসি’ অর্থাৎ পিছনের দরজা দিয়ে কূটনীতির আশ্রয় নিন। তাতেও আপত্তি জানিয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। পাকিস্তানের এক্সপ্রেস ট্রিবিউন সংবাদপত্রে সোমবার প্রকাশিত হয়েছে এই খবর।

এক্সপ্রেস ট্রিবিউন সংবাদপত্রে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উচ্চপদস্থ পাকিস্তানি অফিসারকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, ইমরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁরা ভারতের সঙ্গে একমাত্র প্রথামাফিক কূটনীতিতেই রাজি। কিন্তু তার আগে ভারতকে জম্মু-কাশ্মীর থেকে কার্ফু তুলে নিতে হবে। অন্যান্য যে নিষেধাজ্ঞা জারি আছে, তাও তুলে নিতে হবে।

গত ৫ অগস্ট সংবিধানের ৩৭০ ধারা লোপ করে ভারত সরকার। জম্মু-কাশ্মীরকে দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করা হয়। তখন থেকেই বিক্ষোভ থামানোর জন্য নানা কড়াকড়ি করা হতে থাকে কাশ্মীরে। এক্সপ্রেস ট্রিবিউন সংবাদপত্রের খবর অনুযায়ী, সৌদি আরবের উপ বিদেশমন্ত্রী আদেল অল জুবেইর এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিদেশমন্ত্রী আবদুল্লা বিন অল নাহাইন একসঙ্গে গত ৩ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে এসেছিলেন। তাঁরা বলেন, কয়েকটি শক্তিশালী দেশ চায়, পিছনের দরজা দিয়ে, অর্থাৎ গোপনে ভারতের সঙ্গে কূটনীতি চালু করুক পাকিস্তান। একদিনের সফরে তাঁরা ইমরান বাদে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান কামার জাভেদ বাওয়েজার সঙ্গে দেখা করেন। সংবাদপত্রের খবর অনুযায়ী, এই মিটিং ছিল অত্যন্ত গোপনীয়। বিদেশমন্ত্রকের কয়েকজন খুব উচ্চপদস্থ অফিসার বাদে কেউই ওই বৈঠকের কথা জানতেন না।

বৈঠকে অল জুবেইর এবং অল নাহাইন বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে তাঁরা নির্দিষ্ট ভূমিকা নিতে রাজি। তাঁরা ভারত সরকারকে অনুরোধ করবেন যেন কাশ্মীর থেকে কিছু কড়াকড়ি তুলে নেওয়া হয়। তবে একইসঙ্গে ইমরানকেও প্রতিশ্রুতি দিতে হবে, তিনি আর অত চড়া ভাষায় মোদীকে আক্রমণ করবেন না।

গত সপ্তাহে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মহম্মদ ফয়জল জানিয়ে দেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য তাঁরা ‘ব্যাক ডোর ডিপ্লোম্যাসি’র আশ্রয় নিতে রাজি নন। সংবাদপত্রে মন্তব্য করা হয়েছে, পাকিস্তানের সরকার মনে করে, নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভার আগে চড়া সুরে ভারতের সমালোচনা করলে ফল ভালোই হবে।

Comments are closed.