মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২

জঙ্গিদের অর্থসাহায্য ও প্রশিক্ষণ বন্ধ করেনি পাকিস্তান, দাবি মার্কিন রিপোর্টে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: লস্কর-ই-তৈবা ও জৈশ-ই-মহম্মদের মতো জঙ্গি সংগঠনকে টাকা দেওয়া বন্ধ করেনি পাকিস্তান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ মন্ত্রকের সাম্প্রতিকতম রিপোর্টে এই দাবি করা হয়েছে।  রিপোর্টে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের মাটিতে এই দুই জঙ্গি সংগঠনের বাড়বাড়ন্ত ও প্রশিক্ষণেও রাশ টানেনি পাকিস্তান।

মার্কিন রিপোর্টে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের মাটিকে নিরাপদ স্থান হিসাবে ব্যবহার করছে আফগান তালিবান এবং হাক্কানি নেটওয়ার্ক।  ‘কান্ট্রি রিপোর্টস অন টেররিজম’ শীর্ষক রিপোর্টে এ নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে মার্কিন বিদেশ মন্ত্রক।

গত ১৫ অক্টোবর আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ) এর প্লেনারি সেশনে জঙ্গিদের অর্থসাহায্য বন্ধ করার ব্যাপারে পাকিস্তানকে চরম সতর্ক করা হয়েছ। সদস্য দেশগুলি মনে করে, জঙ্গিদের অর্থসাহায্য বন্ধ করতে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি পাকিস্তান। তাকে ধূসর তালিকায় রেখে দেওয়া হয়।

এফএটিএফ পাকিস্তানকে ২৭ টি শর্ত পালন করতে বলেছিল। তার মধ্যে মাত্র ছ’টি পালন করেছে পাকিস্তান। সেজন্য গত বছর জুন মাসে তাদের ধূসর তালিকাভুক্ত করা হয়। এর পরের পর্যায়টি হল তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা। কিন্তু ধূসর ও কালোর মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী পর্যায় আছে। তা হল গাঢ় ধূসর তালিকা। কোনও দেশকে ওই তালিকায় ফেলা মানে তাকে শেষবারের মতো সতর্ক করা হচ্ছে।

জঙ্গি তোষণ বন্ধ করতে পাকিস্তানকে সাবধান করেছেন মার্কিন বিদেশ মন্ত্রকের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া সংক্রান্ত ভারপ্রাপ্ত সহ-সচিব অ্যালিস জি ওয়েলস।

অ্যালিসের কথায়, “আলোচনা ও সন্ত্রাস দমন এক সঙ্গে চলতে পারে না। পাকিস্তানকে জঙ্গিদের মদত দেওয়া বন্ধ করতে হবে। সন্ত্রাস রুখতে দ্রুত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে অচিরেই। প্রয়োজন হলে মধ্যস্থতা করতে রাজি ট্রাম্প প্রশাসন।”

পাকিস্তানকে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই জঙ্গি কার্যকলাপে অর্থের জোগান বন্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে বলেছিল আন্তর্জাতিক নজরদারি সংস্থা ‘এফএটিএফ’। বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে পাক সেনাপ্রধান কমর বাজওয়া জানিয়েছিলেন, সন্ত্রাস দমনে সব ব্যবস্থা নিচ্ছে পাক সরকার। হালে তার কিছুই দেখা যায়নি। উল্টে কাশ্মীর উপত্যকার জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে প্রত্যক্ষ ভাবে মদত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল দিল্লিতে পাক দূতাবাসের বিরুদ্ধে। এনআইএ জানিয়েছিল, পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি সরাসরি যোগাযোগ রাখে দূতাবাসের সঙ্গে। অর্থের যোগানও যায় এখান থেকেই।

প্যারিসে পাঁচ দিনের ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ)-এর শীর্ষ বৈঠকের শেষে জানানো হয়েছিল,  জঙ্গিদের আর্থিক ভাবে পঙ্গু করে দিতে যে ৪০টি পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছিল এফএটিএফ-র পক্ষ থেকে, তার প্রায় কিছুই করেনি ইসলামাবাদ। ন্যূনতম ২৭টি নির্দেশিকার মধ্যে মধ্যে ২২টিই করতে পারেনি ইসলামাবাদ। আগামী বছর ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে পাকিস্তানকে সত্যি সত্যিই কালো তালিকাভুক্ত করা হবে।

অ্যালিস বলেছিলেন, “নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা, জইশ-ই-মহম্মদকে পালন করে পাকিস্তান। এই জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো নিয়ন্ত্রণরেখায় অশান্তি তৈরি করে চলেছে। সব জেনেও মুখ বন্ধ করে রয়েছে পাকিস্তান।” তারই প্রতিফল দেখা গেল সাম্প্রতিক রিপোর্টে। অ্যালিস জানিয়েছিলেন,  রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের ১২৬৭ নম্বর ধারায় তালিকাভুক্ত বিশেষ করে লস্কর-ই-তৈবা, জামাত-উদ-দাওয়া, ফালাহ-ই-ইনসানিয়াতের মতো সংগঠন বা তাদের শীর্ষনেতাদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়নি পাকিস্তান। আগামী চার মাস এই জঙ্গি সংগঠনগুলিকে মদত দেওয়া ও তাদের অর্থ জোগানো বন্ধ না করলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments are closed.