শুক্রবার, নভেম্বর ১৫

সীমান্তে পাক হানা দুই সেনা জওয়ান ও এক গ্রামবাসী নিহত, পাল্টা জবাব ভারতীয় সেনার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: যুদ্ধ বিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে রবিবাসরীয় সকালে জম্মু কাশ্মীরের কুপওয়ারা জেলায় হামলা চালাল পাক সেনা। পুলিশ জানিয়েছে এ ঘটনায় দুই ভারতীয় সেনা জওয়ান ও এক স্থানীয় গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়েছে।

এ দিন সকালে কুপওয়ারার টাঙ্গার সেক্টরে নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপার থেকে ওই হামলা চালিয়েছে পাক সেনা। পাক হামলায় সীমান্তের এ পারের গ্রামের দুটি বাড়ি পুরিপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেছে ভারতীয় সেনাও। শুধু কুপওয়ারা নয়, কাঠুয়াতেও যুদ্ধ বিরতির শর্ত পাকিস্তান লঙ্ঘন করেছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী। সেখানেও দুই পক্ষের মধ্যে গুলির লড়াই চলছে বলে জানা গিয়েছে।

গত সপ্তাহেই পাক হামলায় দুই সেনা জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। বারামুলা ও রাজৌরিতে সে বার সীমান্তের ওপার থেকে গুলি বর্ষণ শুরু করেছিল পাকিস্তান।

সেনা কর্তাদের বক্তব্য, জম্মু কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর থেকে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মহলে ক্ষোভ বিক্ষোভ জানাতে শুরু করেছে ঠিকই। তবে বাস্তব হল, তাদের কোনও বিশ্বাসযোগ্যতাই নেই। দু’দেশের মধ্যে সংঘর্ষ বিরতি চললেও জুলাই মাসে ২৯৬ বার যুদ্ধ বিরতির শর্ত লঙ্খন করেছে ইসলামাবাদ। অগস্ট মাসে শর্ত লঙ্ঘন করেছে ৩০৬ বার। হিসাব মতো এ বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২০৫০ বার সংঘর্ষ বিরতির শর্ত ভেঙেছে পাকিস্তান। তাতে ২১ জন ভারতীয় সেনা জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। এ ব্যাপারে ইসলামাবাদকে বহুবার কূটনৈতিক স্তরে বার্তাও দিয়েছে নয়াদিল্লি।

প্রসঙ্গত কার্গিল যুদ্ধের চার বছর পর ২০০৩ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ বিরতির চুক্তি করেছিল নয়াদিল্লি। কেন্দ্রে তখন ছিল অটল বিহারী বাজপেয়ীর সরকার। তবে সাউথ ব্লকের বক্তব্য হল, নামে যুদ্ধ বিরতি হলেও পাকিস্তান ছায়াযুদ্ধ চালিয়েই যাচ্ছে। কখনও পাক সেনা বাহিনী জঙ্গি অনুপ্রবেশে সরাসরি মদত দিচ্ছে। কখনও বা জঙ্গিদের আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ করছে। সেই সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর গুলি বর্ষণের ঘটনা তো রয়েছেই।

দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিকদের বক্তব্য, ভারতীয় সেনাও যে হাত গুটিয়ে থাকে তা নয়। তবে এটা ঠিক যে সীমান্তের ওপার থেকে বরাবরই প্ররোচনা বেশি।

আগে তো আমাদের বাঙালি হতে হবে, তারপরই না ফিউশন: সনজীদা খাতুন

Comments are closed.