লকডাউন নেই পাকিস্তানে, নেই চিকিৎসাও! করোনা রোগীদের পাক অধিকৃত কাশ্মীর ও গিলগিটে ‘নির্বাসনের’ অভিযোগ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে ধরা পড়লেই তাঁকে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা করার বদলে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর ও গিলগিট-বাল্টিস্তানে রেখে আসা হচ্ছে। ফলে সেসব এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা পড়েছেন চরম বিপদে। এমনই অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তানের সরকারের বিরুদ্ধে।

    প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানে করোনা-আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে হাজার। এখনও পর্যন্ত ন’জন মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে কয়েক জন পাক সেনার উঁচু পদের অফিসার রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ১১৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন করোনায়। এই অবস্থায় রোগ ছড়িয়ে পড়ার আগেই যেখানে গোটা দেশ লকডাউন করে ফেলা উচিত ছিল, সামাজিক স্পর্শ বন্ধ করার উপায় খোঁজার কথা ছিল, সেখানে সেসব করেননি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

    উল্টে অভিযোগ, আক্রান্তদের চিকিৎসারও তেমন ব্যবস্থা নেই। করোনা ধরা পড়লেই রোগীকে নির্বাসনে পাঠানো হচ্ছে সীমান্তের পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মীরপুর শহরে। মূল পাকিস্তানকে করোনা থেকে মুক্ত রাখার অভিপ্রায়েই এমন সিদ্ধান্ত।

    জানা গিয়েছে, পাঞ্জাব ও সিন্ধ প্রদেশে আক্রান্ত হওয়া রোগীদের কোয়ারান্টাইনে রাখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও তৈরি করা হয়েছে। তবে এতে অবশ্য মোটেও খুশি নন পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর ও গিলগিটের বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য, এভাবে তাঁদের মৃত্যুর পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। কারণ সারা দেশ থেকে নিয়ে আসা রোগীদের জন্য রাখার ব্যবস্থা করা হলেও, স্থানীয়দের জন্য মোটেও ভাবা হচ্ছে না বলে অভিযোগ।

    অন্যদিকে, সীমান্তের মাধ্যমে যাতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ না ঘটে, সেদিকে কড়া নজর রাখছে জম্মু ও কাশ্মীরের প্রশাসনও।

    গিলগিট বাল্টিস্তানের বাসিন্দারা অবশ্য বিপদের মুখে পড়েছেন আগে থেকেই। কারণ গিলগিটে চিনের অনেক প্রোজেক্ট রয়েছে। সেখানে চিনের সেনা আধিকারিক থেকে শুরু করে চিন থেকে আসা কর্মীদের মাধ্যমেই করোনা ছড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ। এদিকে বাকি দেশের মানুষদেরও করোনা হলেই সেখানে পাঠানো হচ্ছে। মন্ত্রী ইমরান খান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যাই হয়ে যাক তিনি লকডাউন ঘোষণা করবেন না। তাতে দেশের অর্থনীতি টিকবে না। এমনকি করোনা নিয়ে এই আপৎকালীন পরিস্থিতিতে সার্কের বৈঠকে কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলে সকলকে চমকেও দেয় পাকিস্তান। অনেকেরই অভিযোগ, মারণ ভাইরাস করোনাকে মোটেও গুরুত্ব দিচ্ছে না পাকিস্তান।

    এই অবস্থায় সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, কারও কোভিড ১৯ ধরা পড়লে, আক্রান্তদের বা তাঁর পরিবারের ইচ্ছেকে গুরুত্ব না দিয়েই, জোর করে নির্বাসনে পাঠানো হচ্ছে। পাক সরকার অবশ্য দাবি করেছে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মীরপুরে এবং গিলগিট বালিটিস্তানে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুলি তৈরি করা হয়েছে, তাই পাঠানো হচ্ছে এখানে। একটি সূত্রের দাবি, পাক সেনারাই এই ব্যবস্থা করেছে, যাতে পাকপঞ্জাবে সেনা চত্বরের আশপাশে কোথাও করোনার কোয়ারেন্টাইন সেন্টার খোলা না হয়। সেনা জওয়ানদের মধ্যে সংক্রমণ যাতে না ছড়ায়, তার জন্যই এই নির্দেশ বলে দাবি করা হয়েছে।

    এখানেই শেষ নয়। পাক সমাজকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক আর্থিক সাহায্য আদায়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই পাকিস্তানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানো হচ্ছে। সেই কারণেই সারাবিশ্বের এই অবস্থা দেখেও করোনা মহামারী সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে না পাকিস্তান। এমনকি পাকিস্তানের বড় শহরগুলিতে ভাল হাসপাতাল থাকলেও সেখানে আইসোলেশনের ব্যবস্থা না করে আক্রান্তদের সকলকে পাক-কাশ্মীরে পাঠানো হচ্ছে চোখ বন্ধ করে।

    বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ২২ হাজার ৩৪০ জনের। করোনায় মৃত্যু ঘটা দেশগুলির মধ্যে এখন ভয় বাড়াচ্ছে আমেরিকা, বৃহস্পতিবারই হাজার ছাড়িয়েছে মৃতের সংখ্যা। ইতালিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭১২ জন মারা গিয়েছেন। স্পেনে ৪৯৮ জন। বিপদের পারা বাড়তে দেখে শিক্ষা নিচ্ছে প্রায় সব দেশই। এত বড় দেশ ভারতও ১০০ শতাংশ লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার পরেও আক্রান্তের সংখ্যা ৭০০ পেরিয়েছে। মৃত্যি হয়েছে ১৬ জনের।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More