বুধবার, মে ২২

এলওসি-তে তৈরি পাক সেনা, এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের পুরো স্কোয়াড্রন

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বালাকোটে ভারতের বায়ুসেনার বিমান আক্রমণের পরে কেটেছে দু’সপ্তাহ। এমন সময় শোনা গেল, পুরোদমে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান। সেনাবাহিনী ও বায়ুসেনার উদ্দেশে হাই অ্যালার্ট জারি করেছে ইসলামাবাদ। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রস্তুত রয়েছে এফ-১৬ বিমানের একটি স্কোয়াড্রন।

কিছুদিন ধরেই জানা যাচ্ছিল, পাকিস্তানের ড্রোন বিমানগুলি আকাশসীমা লঙ্ঘন করে ভারতে ঢুকে পড়ছে। ভারতীয় সেনার গোলায় ধ্বংস হয়েছে এমন কয়েকটি বিমান। সাধারণত শত্রু সৈন্যের অবস্থান জানার জন্য ওই চালকবিহীন বিমানগুলি ব্যবহার করা হয়। বালাকোটে বিমান হানার পরে পাকিস্তান প্রথমে বলেছিল, কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। কিন্তু পরে ক্রমশ উপগ্রহ চিত্র থেকে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। তারই সঙ্গে জানা যাচ্ছে, যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি চলছে পাকিস্তানে।

একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সদর দফতর থেকে সেনা পাঠানো হয়েছে এলওসি-তে। সিয়ালকোট থেকে স্পেশ্যাল ফোর্সকেও সেখানে পাঠানো হয়েছে। ভারতের এক সেনা অফিসার বলেছেন, পুলওয়ামার ঘটনার পরেই পাকিস্তান আশঙ্কা করেছিল, আমরা আবার ২০১৬ সালের মতো সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করব। সেজন্য তারা এলওসি বরাবর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মজবুত করেছিল। আমাদের কাছে নিশ্চিত খবর আছে, পাকিস্তানের বায়ুসেনা আমেরিকা থেকে যে এফ -১৬ বিমানগুলি কিনেছে, সেগুলি এখন রাখা হয়েছে ভারতের সীমানা বরাবর। সিন্ধের হায়দরাবাদ থেকে উত্তর পাকিস্তানের স্কার্দু অঞ্চল পর্যন্ত নানা স্থানে রয়েছে বিমানগুলি। রেডার এবং বিমান হানা ঠেকানোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও তৈরি রেখেছে পাকিস্তান।

২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানে ভারতের বিমান হানার পরেই পাকিস্তান সীমান্তে ব্যাপক গোলাবর্ষণ করতে থাকে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সুন্দরবেনি, নৌশেরা, পুঞ্চ, ভীমবার গলি এবং কৃষ্ণগতি সেক্টরে হেভি মর্টার ও ১২০ মিলিমিটার আর্টিলারি গান থেকে গোলাবর্ষণ করা হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি মোট ১৯ বার সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করে গুলি চালায় পাকিস্তান। গত দু’মাসে পাকিস্তান মোট ৪৬৭ বার গোলাগুলি চালায়। তার মধ্যে কেবল ফেব্রুয়ারিতেই চালিয়েছে ২৫১ বার। ২০১৭ সালে পাকিস্তান মোট ৯৭১ বার সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করে। ২০১৮ সালে লঙ্ঘন করে ২১৪০ বার।

দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর জন্য প্রতি সপ্তাহে ফোনে কথা বলেন ডায়রেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনসের কর্তারা। ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে দু’পক্ষের কথা বন্ধ রয়েছে। ভারতের ডিজিএমও থেকে ফোন করা হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তানের সেনাকর্তারা ফোন ধরেননি।

Shares

Comments are closed.