শুক্রবার, নভেম্বর ১৫

কাশ্মীর নিয়ে কোনও বিবৃতি নেই নিরাপত্তা পরিষদের, ব্যর্থ চিন-পাকিস্তান

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কাশ্মীর ইস্যুকে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাকিস্তান ও তার বরাবরের মিত্র চিনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হল। চিন অনেক চেষ্টা করার পরে শুক্রবার রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসে। সেখানে ভারত বা পাকিস্তানের কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসাবে চিনের প্রতিনিধি ছিলেন। আগেই রাষ্ট্রপুঞ্জ জানিয়ে দিয়েছিল, কাশ্মীর নিয়ে ঘরোয়া বৈঠক হবে। এদিন বৈঠক চলে একঘণ্টা। চিন চেষ্টা করেছিল যাতে নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান পোল্যান্ড কাশ্মীর নিয়ে কোনও বিবৃতি দেয়। কিন্তু পোল্যান্ড বিবৃতি দিতে রাজি হয়নি।

বৈঠকের শেষে নিরাপত্তা পরিষদে চিনের প্রতিনিধি ঝ্যাং জুন সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের জবাব না দিয়েই বেরিয়ে যান। বৈঠকে কী ফলাফল হয়, তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানের প্রতিনিধি মালিহা লোদি। তিনিও সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের জবাব দেননি।

রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি সৈয়দ আকবরউদ্দিন জানান, নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে বেশিরভাগই বিবৃতি দিতে রাজি হয়নি। এখন চিন আলাদা করে কোনও বিবৃতি দিতে পারে। কিন্তু তা কোনওভাবেই নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতি বলে ধরা হবে না। চিন যদি বিবৃতি দেয়, ভারতও রাষ্ট্রপুঞ্জে তার পালটা বিবৃতি দেবে।

সৈয়দ আকবরউদ্দিন জানান, নিরাপত্তা পরিষদের বেশিরভাগ সদস্য বলেছে, কাশ্মীর দ্বিপাক্ষিক ইস্যু। ভারত ও পাকিস্তানকেই সেই বিতর্কের সমাধান করতে হবে। ইসলামাবাদ চায়, কাশ্মীর আন্তর্জাতিক ইস্যু হয়ে উঠুক। শুক্রবারের বৈঠকে কাশ্মীরকে আন্তর্জাতিক ইস্যু বলে তুলে ধরার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। চিনের চেষ্টায় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক হয়েছে ঠিকই কিন্তু তার কোনও মিনিটস রাখা হয়নি।

নিরাপত্তা পরিষদের বেশিরভাগ সদস্য বলেছে, কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের বক্তব্য ধোপে টেকে না। ইসলামাবাদ থেকে বলা হচ্ছে, ভারত কাশ্মীর নিয়ে যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে ওই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হতে পারে। কিন্তু ভারতও পালটা প্রশ্ন তুলতে পারে, তাদের সংবিধানে একটি ধারা রইল কি রইল না, তাতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হবে কেমন করে?

পাকিস্তান কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্ন তুলেছে। কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা তাতেও গুরুত্ব দিতে নারাজ। কারণ পাকিস্তানের হয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ওই প্রশ্ন তুলছে চিন। চিনের বিরুদ্ধেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ আছে। তাঁদের মুখে কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা শুনতে রাজি নয় নিরাপত্তা পরিষদের অনেক সদস্য।

Comments are closed.