শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০

পাক সেনা প্রধান বাজওয়ার চাকরির মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়ালেন ইমরান, কিন্তু কেন?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাশ্মীর প্রশ্নে ভারত-পাক দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা যখন ক্রমশই বাড়ছে, তখন পাক সেনাপ্রধান জেনারেল (নিশান-ই-ইমতিয়াজ) কামার জাভেদ বাজওয়ার চাকরির মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়িয়ে দিলেন ইমরান খান।

সোমবার পাক প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের তরফে একটি বিবৃতি দিয়ে এই ঘোষণা করা হয়। সেই সঙ্গে ওই একই বিবৃতিতে বলা হয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

প্রশ্ন হল, আঞ্চলিক নিরাপত্তা বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী? বাজওয়ার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য কি সেটাই একমাত্র কারণ?

কূটনীতিকরা বলছেন, একে তো কাশ্মীর নিয়ে ভারতের সঙ্গে পায়ে পা দিয়ে ঝগড়ায় অবতীর্ণ হয়েছেন ইমরান। মূলত ঘরোয়া রাজনীতির কারণেই তা করতে হচ্ছে তাঁকে। দ্বিতীয়ত, পাক-আফগান সীমান্তের নিরাপত্তা নিয়েও কম উদ্বেগ নেই। আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার ও সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আমেরিকা ও আফগান-তালিবানদের মধ্যে এখন আলোচনা চলছে। ওই আলোচনায় পাকিস্তান বড় শরিক। সেক্ষেত্রেও জেনারেল বাজওয়ার ভূমিকা রয়েছে বলে জানাচ্ছেন কূটনীতিকরা।

তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, শুধু এটাই বাজওয়ার মেয়াদ বাড়ার এক মাত্র কারণ নয়। পাক সংবাদপত্র ও নিরপেক্ষ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাই বলছেন, ইমরান ও বাজওয়ার মধ্যে তালমিল অসম্ভব ভাল। অথচ সাম্প্রতিক ইতিহাস বলছে, পাকিস্তানে এই দুই চেয়ারের মধ্যে সম্পর্ক বরাবরই ছিল অস্থির, এমনকী অবিশ্বাসেরও। কিন্তু ইমরান ও বাজওয়ার তালমিল নিয়ে এখন ঘরোয়া রাজনীতিতেও জোর চর্চা চলছে। সম্প্রতি ইমরান যখন কঠোর অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন, তখন তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে পাশে দাঁড়ান বাজওয়া। তিনি ইমরানের পক্ষ সমর্থন করে প্রকাশ্যেই বলেন, কখনও কখনও সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে অপ্রিয় এবং কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আমাদের তা মেনে নিতে হবে।

২০১৬ সালের নভেম্বরে কামার জাভেদ বাজওয়াকে সেনাপ্রধান নিযুক্ত করেছিলেন তৎকালীন পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। ৫৮ বছর বয়সী বাজওয়ার এ বছরই অবসর নেওয়ার কথা। এক সপ্তাহ আগেই তিনি বলেছিলেন, তাঁর সেনাবাহিনী কাশ্মীরিদের সাহায্য করার জন্য ‘যতদূর দরকার ততদূরই’ যেতে তৈরি। কিছুদিন আগে সেনাবাহিনীর সদর দফতরে কোর কম্যান্ডোদের এক বৈঠক হয়। সেখানে আলোচনার একটিই বিষয় ছিল। তা হল কাশ্মীর। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাজওয়া।

সেখানেও তিনি সেনা কম্যান্ডারদের বলেন, কাশ্মীরিরা ন্যায্য লড়াই চালাচ্ছেন। আমরা ‘শেষ অবধি’ তাঁদের সঙ্গে আছি।

Comments are closed.