BREAKING: নজিরবিহীন নাটকের শেষে গ্রেফতার হলেন চিদম্বরম

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো:  নজিরবিহীন নাটকের পরে অবশেষে গ্রেফতারই হলেন আইএনএক্স মিডিয়া দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ও হেভিওয়েট কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম। বলা যায়, চিদম্বরমকে গ্রেফতার করেই ছাড়লো সিবিআই। এবং তাঁকে নিয়ে গেল সিবিআই-এর সেই সদর দফতরে, যার উদ্বোধন করেছিলেন চিদম্বরম নিজেই।

    আইএনএক্স মিডিয়া মামলায় চিদম্বরমের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পরে তা চ্যালেঞ্জ করে আইনি রক্ষাকবচ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে জরুরি ভিত্তিতে মামলার শুনানি চেয়েছিলেন চিদম্বরম। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এই আবেদন গ্রাহ্য না করে আগামী শুক্রবার ওই মামলার দিন ফেলে। সিবিআইয়ের টিম চিদম্বরমের বাসভবনে যায়। কিন্তু তাঁকে কোথাও পাওয়া যায়নি। মোবাইলও ছিল সুইচ অফ। সিবিআই গিয়ে তাঁর বাড়ির মেন গেটে একটি আইনি নোটিসও ঝুলিয়ে আসে।

    এর প্রায় ২৭ ঘণ্টা পরে চিদম্বরম উদয় হন সরাসরি এআইসিসি সদর দফতরে। সেখানে তিনি ছোট ও লিখিত বিবৃতিতে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেন। তখন তাঁর পাশে কপিল সিব্বল, অভিষেক মনু সিংভি ও গুলাম নবি আজাদদের মতো বড় নেতারা।

    কংগ্রেস দফতরে নিজের বিবৃতি দিলেও সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্ন নেননি চিদম্বরম। তিনি বিবৃতি দিয়েই চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়েন। বিবৃতিতে তিনি যা বলেন, তার মোদ্দা কথা হলো, তিনি কোনও অন্যায় করেননি। তিনি কোথাও পালিয়েও যাননি। তিনি সারা রাত জেগে তাঁর আইনজীবী তথা বন্ধুদের কাছ থেকে আইনি পরামর্শ নিচ্ছিলেন। তিনি দাবি করেন, কোথাও কোনও চার্জশিটে তাঁর বা তাঁর পরিবারের কারও নাম নেই। কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে চিদম্বরমের সাংবাদিক বৈঠক করার খবর পেয়ে সিবিআই ও ইডি সেখানে পৌঁছে গেলেও, তার কিছু আগেই ঝড়ের বেগে বেরিয়ে যান চিদম্বরম। ফলে তখন ধরা যায়নি তাঁকে। এর পরেই তাঁকে ধাওয়া করে সিবিআই ও ইডি-র একাধিক টিম পৌঁছে যায় ।

    জোরবাগে আর এক প্রস্থ নাটক শুরু হয়। বাসভবনের মেন গেট বন্ধ থাকে। বাইরে তখন সিবিআই অফিসারদের টিম, অসংখ্য মিডিয়া।  বাড়ির বাইরে ঘিরে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিতে থাকে কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকেরা। গেট কেউ না খোলায়, পাঁচিল টপকে ভিতরে নামেন সিবিআই অফিসারেরা। এর পরে এসে পৌঁছন ইডি-র অফিসারেরা। ভিতরে আনা হয় একটি মারুতি আর্টিগা গাড়ি। প্রস্তুতি তখন চরম পর্যায়ে। টানটান উত্তেজনা। এর কিছুক্ষণ পরেই চিদম্বরমকে গ্রেফতার করে সেই গাড়িতে তুলে নিয়ে বেরিয়ে যায় সিবিআই।

    সিবিআইয়ের দফতরে নিয়ে গেলেও, এর পরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয় বলে সূত্রের খবর।

    অত্যন্ত হেভিওয়েট কোনও রাজনৈতিক নেতাকে নিয়ে এই ধরনের নাটক অতীতে কোনও দিন দেখা যায়নি। এর আগে ২০১১ সালে গ্রেফতার হয়েছিলেন ডিএমকে সাংসদ কানিমোঝি ও মন্ত্রী এ রাজা। কানিমোঝি সাংসদ থাকলেও রাজা গ্রেফতারের আগেই মন্ত্রিত্ব ছেড়েছিলেন। তারও অনেক আগে ২০০১ সালে গভীর রাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন করুণানিধি। তবে টানা ২৪ ঘণ্টা ধরে টান টান নাটক, উত্তেজনা, জল্পনার পরে চিদম্বরমের এই ভাবে গ্রেফতারি রাজনৈতিক ভাবে কংগ্রেসের পক্ষে চূড়াম্ত অস্বস্তির এতে সন্দেহ নেই।

    চিদম্বরম গ্রেফতার হওয়ার পরেই তাঁর ছেলে কার্তি বাইরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই এ সব করা হচ্ছে। সিবিআই ও ইডির অফিসারেরা এর থেকে ‘ভয়েরিস্টিক প্লেজ়ার’ পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন কার্তি।

    দেখুন ভিডিও।

    সত্য বা মিথ্যা যা-ই হোক না কেন, চিদম্বরমের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দুর্নীতি-মামলার ঘটনা পরম্পরা যে দিকে এগোচ্ছে তা যে ক্রাইম থ্রিলারের চিত্রনাট্যকেও হার মানাচ্ছে, সে কথা মেনে নিচ্ছেন প্রায় সকলেই। গত দু’দিন ধরেই এই ঘটনা নিয়ে নজিরবিহীন নাটকের সাক্ষী রয়েছে রাজধানী। আজ তা তুঙ্গে পৌঁছয়।

    আইএনএক্স মিডিয়া এবং এয়ারসেল ম্যাক্সিসকাণ্ডে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি মামলায় চিদম্বরম যে গ্রেফতার হতে পারেন, তা পরিষ্কার হতে শুরু করে বুধবার সকাল থেকেই। দিল্লি হাইকোর্টের রক্ষাকবচ উঠে যাওয়ার পরেই, বুধবার সকালে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে পি চিদম্বরমের হয়ে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের এজলাসে সওয়াল করার চেষ্টা করেন কংগ্রেসের আরেক নেতা কপিল সিব্বল।

    কিন্তু অযোধ্যা মামলার শুনানিতে ব্যস্ত থাকায় সময় দিতে পারেননি প্রধান বিচারপতি। বিচারপতি রামান্নার এজলাসেও সওয়ালের জন্য হাজির হয়ে যান সলমন খুরশিদ, অভিষেক মনু সিংভির মতো কংগ্রেস নেতা আইনজীবীরা। আর তখনই ধরা পড়ে চিদম্বরমের আবেদনে প্রচুর ভুল-ত্রুটি রয়ে গেছে। ফলে দিনের শেষে রক্ষাকবচহীন চিদম্বরমকে গ্রেফতার করার সুযোগ ছিলই সিবিআই-এর। কিন্তু সে জন্য যে এত ঝক্কি পোহাতে হবে, তা বোধ হয় ভাবতে পারেননি কেউ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More