শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১

বোতলে ভরা সৈকতের বালি, বেড়াতে গিয়ে হাজতবাসের মুখে দম্পতি!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফ্রান্স থেকে ইতালি বেড়াতে গিয়েছিলেন দম্পতি। চেয়েছিলেন, সেখান থেকে এমন কিছু নিয়ে যেতে, যা স্মারক হিসেবে রয়ে যাবে তাঁদের কাছে। অনেকেই তো বেড়াতে গেলে এমন কিছু নিয়ে আসেন। হয়তো গাছের শুনো ফল, কিংবা সুন্দর দেখতে কোনও পাথর। ওই দম্পতি সমুদ্রের তীর থেকে বোতলে ভরে নিয়েছিলেন বালি। ইচ্ছে ছিল বাড়ি ফিরে সেই বালি ঘরে সাজিয়ে রাখবেন। কিন্তু কে জানত, এই বালি নেওয়ার অপরাধেই হাজতবাসের মুখোমুখি হবেন তাঁরা!

জানা গিয়েছে, ইতালির দক্ষিণাংশে ভূমধ্যসাগরে অবস্থিত সার্দানিয়া দ্বীপের দক্ষিণ তটে অবস্থিত শিয়া সৈকত থেকে বোতলে করে বালি নিয়েছিলেন দম্পতি। কিন্তু সেখানে এ রকম ভাবে বালি তোলা যে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ওই দম্পতির দাবি, সেটা তাঁরা মোটেই জানতেন না। যদিও তাঁদের যুক্তি শুনতে রাজি হয়নি প্রশাসন।

এই সার্দানিয়া দ্বীপ ভৌগোলিক ভাবে ইতালির অংশ হলেও এটি স্বায়ত্বশাসিত একটি এলাকা। এমন কিছু নিয়ম এই দ্বীপের প্রশাসন তৈরি করেছে, যা শুধু এই দ্বীপেই প্রযোজ্য। তারই মধ্যে একটা হল, সৈকত থেকে নুড়ি, বালি, ঝিনুক কিছুই তোলা যাবে না। তুললে তা আইনত অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

এত কিছু না জেনেই বোতলে ভরা বালি নিয়ে যখন সার্দানিয়া থেকে ফ্রান্সের জাহাজে উঠতে যান ওই দম্পতি, তখনই তাঁদের ধরে ফেলেন ইতালির সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সেনা। তাঁরা ইচ্ছাকৃত ভাবে কিছু করেননি বলে জানান। আবেদন করেন, তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হোক। যদিও ছেড়ে দেওয়া তো দূর, তাঁদের জেলে পাঠানোর কথা বলা হয়।

সূত্রের খবর, ২০১৭-এর অগাস্ট মাসে এই নিয়ম কার্যকর হয়  সার্দানিয়া দ্বীপে। কারণ পর্যটকেরা এসে সৈকতের বালি, পাথর এবং ঝিনুক তুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন প্রচুর পরিমাণে। এতে নষ্ট হচ্ছিল সৈকতের সৌন্দর্য। এটা আটকানোর জন্যই এই আইন চালু করা হয়।

স্থানীয় প্রশাসনের অবশ্য দাবি, ওই পর্যটকেরা নিয়ম জানেন না বলে জানালেও, গোটা সৈকত জুড়েই এই নিয়ম লেখা একাধিক বোর্ড লাগানো হয়েছে। এমনকী পর্যটকেরা যাতে বালি না তুলতে পারেন, সেই ব্যাপারেও কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার পরেও এটা তাঁরা করেছেন ইচ্ছাকৃত ভাবে এবং লুকিয়ে।

আটক হওয়া বালি

পুলিশ জানিয়েছে, ওই দম্পতি সব মিলিয়ে ১৪ বোতল বালি তুলেছেন, যার ওজন প্রায় ৪০ কেজি। এটা ‘ভুল করে’ তোলা বলে মানতে পারছেন না তাঁরা। ওই দম্পতিকে আদালতে তোলা হলে বিচারক প্রায় ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেন তাঁদের। কারাবাসের শাস্তিও দেন।

পুলিশ জানিয়েছে, এই সৈকতে সাদা বালি এবং পাথর চুরি করা একটি নিয়মিত ঘটনা। এগুলো বিক্রি করার জন্য অনলাইনে আলাদা বাজারও আছে। আপাতদৃষ্টিতে এটি খুব সাধারণ একটি বিষয় বলে মনে হলেও, এতে পরিবেশের ক্ষতি হয়, যা আইন করে ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।

Comments are closed.