অতিমহামারীর মধ্যে অন্যান্য রোগীও যেন চিকিৎসা পায়

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    করোনা অতিমহামারী শেষ হবে কবে এখনও নির্দিষ্ট করে বলতে পারছে না কেউ। তাকে ঠেকাতে পুরো শক্তি নিয়োগ করেছে প্রতিটি দেশ। এর ফাঁকেই ঘনিয়ে উঠছে আর এক বিপদ। অতিমহামারীর মধ্যে অন্যান্য রোগের যথাযথ চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে না। তাতে অনেকের প্রাণসংশয় হচ্ছে।

    গত কয়েকদিনে কয়েকটি মর্মান্তিক মৃত্যুর কথা সংবাদ মাধ্যমে উঠে এসেছে। জয়নগরের বাসিন্দা অশোক রুইদাস টাইফয়েডে ভুগছিলেন। সোমবার তাঁকে কলকাতা মেডিকেল কলেজে আনা হয়েছিল। হাসপাতালে ভর্তি হতে না পেরে মেডিকেলের উঠোনেই তিনি ছটফট করতে করতে মারা গিয়েছেন। ওইদিনই আকড়ার বাসিন্দা মনীষা দাসকে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে মেডিকেল কলেজে আনা হয়েছিল। তিনিও ভর্তি না হতে পেরে মারা গিয়েছেন। এর কিছুদিন আগে শোনা গিয়েছে ইছাপুরের তরুণ শুভ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কথা। প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টে ছটফট করছিল ১৮ বছরের ছেলেটি। তিন-তিনটি বেসরকারি হাসপাতাল তাকে ফিরিয়ে দেয়। শেষকালে মেডিকেল কলেজের সামনে এসে তার মা-বাবা আত্মহত্যার হুমকি দেন। তখন তাকে ভর্তি নেওয়া হয়। তারপরে অবশ্য সে বেশিক্ষণ বাঁচেনি।

    সারা দেশেই এমন ঘটছে। উত্তরপ্রদেশের হারদোই জেলার থেকে পোস্ট করা একটি ভিডিও নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দেশ জুড়ে। তাতে দেখা যাচ্ছে, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বাইরে পড়ে আছেন এক অসুস্থ বৃদ্ধা। তাঁকে ভর্তি করার জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দরজায় ধাক্কা দিচ্ছেন তাঁর ছেলে। কেউ সাড়া দিচ্ছে না। অবশেষে রাস্তার ওপরে পড়ে থেকেই বৃদ্ধা মারা গেলেন।

    এরকম ঘটনা আরও আছে। তার সামান্যই প্রকাশিত হচ্ছে সংবাদ মাধ্যমে। অনেকের জরুরি অস্ত্রোপচার আটকে আছে। ক্যানসার রোগীরা যথাসময়ে কেমোথেরাপি নিতে পারছেন না। কিডনির রোগে যাঁরা ভুগছেন, তাঁদের ডায়ালিসিস হচ্ছে না। গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষ, যাঁদের দামি থেকে অতি দামি বেসরকারি পরিষেবা নেওয়ার ক্ষমতা নেই, তাঁরাই পড়েছেন সবচেয়ে বিপদে। এই সমস্যার কথা অনুধাবন করে সরব হয়েছেন মেডিকেল কলেজের ১ হাজার জুনিয়ার ডাক্তার। জুলাইয়ের শুরু থেকে তাঁরা দাবি তুলেছেন, মেডিকেলে কোভিড বাদে অন্যান্য রোগেরও চিকিৎসা করতে হবে।

    আমাদের দেশের লোকসংখ্যার তুলনায় এমনিতেই স্বাস্থ্য পরিকাঠামো যথেষ্ট নয়। এখানে প্রতি এক হাজার জন পিছু একজনও ডাক্তার নেই। তার ওপরে করোনা অতিমহামারী মহা দুর্যোগ হিসাবে উপস্থিত হয়েছে। তার মধ্যে সরকার কোনও মিরাকল ঘটিয়ে দেবে আশা করা ঠিক নয়। কিন্তু একটা ব্যবস্থা করাই যায়। তা হল রোগী এবং তাঁর বাড়ির লোককে জানিয়ে দেওয়া, কোন হাসপাতালে বেড খালি আছে। এমনও হতে পারে, রোগী কোনও হাসপাতালে গেলেন, সেখানে বেড না থাকলেও তাঁকে নির্দিষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হল, অমুক হাসপাতালে বেড আছে। ফলে তাঁকে আর চিকিৎসার জন্য দোরে দোরে ঘুরতে হবে না।

    প্রতিটি রোগের চিকিৎসা শুরু করার একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। সেই সময় পেরিয়ে গেলে রোগ হাতের বাইরে চলে যায়। আমরা দেখছি, প্রবল রোগযন্ত্রণা নিয়ে একটার পর একটা হাসপাতালে ঘুরতে ঘুরতে রোগী শেষ হয়ে যাচ্ছে। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে রোগী ও তাঁর বাড়ির লোকজনের এই হয়রানি বন্ধ করা যায়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More