শহরতলির চায়ের ঠেকে আজও আড্ডায় মাতেন অস্কারের জুরি, বলিউডের শিল্প-নির্দেশক

বিভিন্ন অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের আইকনিক পুত্তলিতে ভরে উঠেছে তাঁদের ঘর। পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার। হয়েছেন সিনেমাজগতে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মান অস্কারের জুরি বোর্ডের সদস্য। তবু তিনি এতটুকু বদলে যাননি। জীবনযাপনে, আন্তরিকতায়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    শ্যামলেশ ঘোষ

    তিনি এইমুহূর্তে ভারতীয় ফিল্মের অন্যতম সেরা শিল্প-নির্দেশক জুটির একজন। তাঁদের জুটির হাত ধরে বলিউড পেয়েছে শিল্পনৈপুণ্যে ভরা অসাধারণ সব ছবির সেট। কমপক্ষে তিন ডজন সিনেমায় তাঁদের ‘সেট ডিজাইন’ তারিফ পেয়েছে চলচ্চিত্রজগতের বোদ্ধা ও দর্শকের। বিভিন্ন অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের আইকনিক পুত্তলিতে ভরে উঠেছে তাঁদের ঘর। পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার। হয়েছেন সিনেমাজগতে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মান অস্কারের জুরি বোর্ডের সদস্য। তবু তিনি এতটুকু বদলে যাননি। জীবনযাপনে, আন্তরিকতায়। এখনও ফুরসতে ঘরে ফিরলে পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে ওঠেন। শহরতলির স্টেশন লাগোয়া চা-দোকানে চায়ের কাপে তুফান ওঠে। তখন কে বলবে, ইনি দুনিয়া-কাঁপানো শিল্প-নির্দেশক অমিত-সুব্রত (চক্রবর্তী) জুটির অমিত রায়।

    নিউ বারাকপুর স্টেশন লাগোয়া কানুর চায়ের দোকানে আড্ডায় অমিত রায়।

    ‘হাওয়াইজাদে’, ‘হায়দার’, ‘প্রোজেক্ট ২৪’, ‘উড়তা পঞ্জাব’, ‘পদ্মাবৎ’, ‘বাজিরাও মস্তানি’, ‘সুপার ৩০’-র মতো ছবির শিল্প-নির্দেশক অমিত বর্তমানে মুম্বাই নিবাসী। যশরাজ ফিল্মসের ‘পৃথ্বীরাজ’, সঞ্জয় লীলা বনশালির ‘গাঙ্গুবাই কাঠিয়াবাড়ি’র মতো অন্তত আটখানা ফিল্মের কাজ এইমুহূর্তে তাঁর হাতে। দোলে বন্ধুদের সঙ্গে রং খেলতে ফিরেছিলেন নিউ বারাকপুরের বাড়িতে। প্রতিবারের মতো এ-বারও স্টেশন লাগোয়া কানুর চায়ের দোকানে পুরনো বন্ধুদের আড্ডায় হাজির হয়েছেন। ইয়ারদোস্তরাও ক’দিন চেষ্টা করেছেন যতটুকু সময় দেওয়া যায় প্রবাসী বন্ধুকে। রুপোলি পর্দার আড়ালে থাকা অসাধারণ শিল্পীর ‘সাধারণত্ব’ নিয়ে গর্বিত বন্ধুরাও বিশ্বাস করেন খ্যাতি বা প্রতিপত্তি তাঁকে একটুও পাল্টে দিতে পারেনি। ‘সিগারেটের সাইজ ছাড়া আর কিছুই বদলায়নি অমিতের’, এককথায় বলছেন পুরনো বন্ধু জয়ন্ত কাঞ্জিলাল।

    সমু ও জয়ন্তর সঙ্গে কানুর (একেবারে বাঁদিকে) দোকানে বলিউডের কৃতি শিল্প-নির্দেশক অমিত রায়।

    যে দোকানের চা পেটে না পড়লে দিনটা পানসে হয়ে থাকে, সেই দোকানির নাম অভিজিৎ দাস। তবে কানু নামেই তাঁর পরিচিতি। বয়সে অমিতের প্রায় সমবয়সী। সেই কানু জানাচ্ছেন, ‘আর্ট কলেজে পড়ার সময় থেকেই ওদের আড্ডা এখানে। অনেক লড়াইয়ের পর নিজেকে অন্য উচ্চতায় তুলে নিয়ে গিয়েছে অমিত। কিন্তু পা মাটিতেই আছে। পুরনো বন্ধুদের ভোলেনি। বন্ধুদের অনেকেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গিয়েছে। তবু যারা এখনও সকাল-সন্ধে ঠেকে আসে, তাদের সঙ্গ কিছুতেই হারাতে রাজি না অমিত। তাই কালেভদ্রে দেশের বাড়িতে ফিরলে নিয়ম করে ঠেকে আসবেই। ছোটবেলার বন্ধু তাপস দাস ওরফে সমু এ-সময় তাঁর ছায়াসঙ্গী। ওরা আমার দোকানের লিকার চা ভালবাসে। চা সহযোগে তাদের পুরনো দিনের গল্প আর স্মৃতিচারণে আমিও যোগ দিই অবরে-সবরে।’

    লিকার চায়ের পাত্র হাতে অস্কারের জুরি সদস্য অমিত রায়।

    দেশের বিশিষ্ট আর্ট ডিরেক্টর সমীর চন্দর সহকারী হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন অমিত। গুরুর প্রয়াণের পর ঝাড়গ্রামের বাসিন্দা বন্ধু সুব্রত চক্রবর্তীর সঙ্গে জুটি বেঁধে বড় বাজেটের হিন্দি ছবিতে অপূর্ব সব সেট তৈরি করেছেন। তাঁরা একাডেমি অব মোশন পিকচারস আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেসের ‘একাডেমি অ্যাওয়ার্ড’ বা অস্কারের জুরি বোর্ডের সদস্য হয়েছেন গতবছর। এ-বছরও বহাল রয়েছেন। এত ব্যস্ততা সত্ত্বেও নিউ বারাকপুরে ফিরে-ফিরে আসা কেন? চায়ের গ্লাসে চুমুক দিয়ে অমিত রায় বলেন, ‘এখন মুম্বাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আছি। কিন্তু নিউ বারাকপুরে বড় হয়েছি। জীবনের সবচেয়ে দামি সময়গুলি কাটিয়েছি বন্ধুদের সঙ্গে। পঁচিশ বছর আগে যে লড়াইটা শুরু করেছিলাম, তাতে সাহস যুগিয়েছিল বন্ধুরা। এখনও লড়ে যাচ্ছি। সেই লড়াইতেও প্রেরণা হয়ে থাকে তারাই।’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More