Latest News

আদিবাসীরা হিন্দু নয়, ধর্ম আর রাজনীতির আগ্রাসনের শিকার তারা

অভিমন্যু মাহাত

Image - আদিবাসীরা হিন্দু নয়, ধর্ম আর রাজনীতির আগ্রাসনের শিকার তারা

রাষ্ট্র কিভাবে সমস্ত কিছুকে গ্রাস করে তা নিয়ে অনেক চর্চা আছে। বিশেষ করে একনায়ক শাসনের ইতিহাসে তার প্রমাণ খোলামকুচির মতো ছড়ানো। কিন্তু ধর্ম? ধর্মীয় ভাবাবেগ রাষ্ট্র দখল করে নিচ্ছে, এ দৃশ্য বোধহয় স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরে ভারতবর্ষই একমাত্র দেখাতে পারছে। মন্ত্রতন্ত্রের দেশে এও এক মন্ত্রপ্রভাব বৈ কি! কিন্তু প্রশ্নটা এখানে নয়, ধর্মীয় ভাবাবেগের, ধর্ম ঠিক করে দেওয়ার বেসাতি যখন চরমে তখন ধর্মের স্বীকৃতির দাবি তুলতে হচ্ছে একটি জনগোষ্ঠীকে! এই বৈপরীত্যই আলোচ্য এবং বিবৃতব্য। সেই আলোচনার মধ্যেই লুকিয়ে আছে হিন্দু এবং হিন্দুত্বই সারসত্য এই প্রবণতার ধারাকথন, ধর্ম আছে এবং ধর্ম নেই-এর রক্তাক্ত ইতিহাস। এক সার্বভৌম দেশের অন্তরে বয়ে চলা ভৌমসত্যের সাতকাহন।

আদি জনজাতিদের ধর্ম নিয়ে কোনও এক কবি একটি কবিতা লিখেছিলেন। কবিতাটির সারমর্ম এই ছিল যে, জনজাতিরা দুর্গা পুজো, কালী পুজো করে না। মূর্তিপুজোয় তারা বিশ্বাসী নয়। আজান দেয় না। চার্চে যায় না। বড়দিনের উৎসব নেই।  তারা পাহাড়, নদী, গাছকে পুজো করে। প্রকৃতির পূজারী তারা। তারা এই ধর্মের নাম খুঁজে পাচ্ছেন না কোনও অভিধানে। ওই কবি তাঁর কবিতার শেষ লাইনে লিখেছেন, ‘আজও ধর্মের পাশের শূন্যস্থান বয়ে নিয়ে চলেছি।’ অর্থাৎ তাদের ধর্মের স্বীকৃতি আজও মেলেনি। এখানেই প্রশ্ন ওঠে, যে সম্প্রদায় বা জাতি বা জনগোষ্ঠী ভারতীয় ভূ-খণ্ডের আদি বাসিন্দা, তাদের ধর্মেরই স্বীকৃতি নেই!! (World Tribal Day)

শুধু কী ধর্ম? ভাষা, সংস্কৃতি, সামাজিকতাও উপেক্ষিত। সাঁওতালি ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি কবে মিলল? এই দুই দশক আগে। ২০০৩ সালে। স্বাধীনতার ৫৬ বছর পর একটি আদিবাসী ভাষার স্বীকৃতি! রাষ্ট্রনেতাদের উন্নয়নবোধ নিয়ে সংশয় জাগে বৈ কি। ২০১১ সালে এ রাজ্যে সাঁওতালিকে দ্বিতীয় ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এই ভাষায় পঠনপাঠন চালানোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্র কতটা উদাসীন, তা উড়িষ্যার বা বঙ্গের কোনও সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গেলেই পরিষ্কার হবে। শিক্ষক শূন্য, পাঠ্যপুস্তক মেলে না। হস্টেলগুলির পরিকাঠামো বেহাল। সাঁওতালি ভাষার পঠনপাঠনের জন্য কেন আলাদা পর্ষদ নেই? কেন সিলেবাস কমিটি নেই? হস্টেলগুলিতে যে খাবার দেওয়া হয়, তা গলার নীচে নামানো যায় না। রুমের মধ্যে সাপের উপদ্রব। বিদ্যুৎ থাকে না। সরকারি বরাদ্দ মঝে মধ্যেই আটকে যায়। হস্টেল ছাড়তে বাধ্য হয় পডুয়ারা। আদিবাসী পড়ুয়াদের মধ্যে স্কুলছুটের প্রবণতা বাড়তেই থাকে।

এ তো গেল সাঁওতালি ভাষা। কেন্দ্রীয় সরকার ঘটা করে বীরসা মুন্ডার জন্মদিন পালন করে। হেমন্তের আলগা শীতে রাঁচির উলিহাতু গ্রামে জন্মেছিলেন বীরসা। ফি বছর ওই আলগা শীতেই উলিহাতু জেগে থাকে বীরকে স্মরণ জানাতে। আদিবাসীদের বন আর ভূমির অধিকার যিনি জাগিয়েছিলেন, তিনি আর কেউ নন, তিনি বীরসা মুন্ডা। গত বছর কেন্দ্রীয় সরকার তাঁর জন্মদিনটিকে (১৫ নভেম্বর) ‘ জনজাতি গৌরব দিবস’ হিসেবে উদযাপন করেছে। মধ্যপ্রদেশে একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই অনুষ্ঠানের খরচ হয়েছে নাকি ২৩ কোটি টাকা! এই বিপুল অঙ্কের অর্থ আদিবাসী উন্নয়নে খরচ করা যেত কি যেত না, সেই প্রসঙ্গ এখানে অবান্তর। উলগুলানের হোতা বীরসা মুন্ডার মাতৃভাষা আজও উপেক্ষিত। বীরসা ছিলেন মুন্ডা সম্প্রদায়ের। তাঁর মাতৃভাষা মুন্ডারি। আদিবাসীদের সেই ভাষাকে আজও কেন্দ্রীয় সরকার সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়নি। আদিবাসী ভাষা মানেই শুধু সাঁওতাল ভাষা নয়। মুন্ডারি, সাঁওতালি, কড়া, কুড়মালি, টোটো, ককবরোক, কুই, খাসি, লেপচা, হো, গারো, ভূমিজ-সহ ৪০টির বেশি ভাষা রয়েছে। অনেক ভাষা আজ বিলুপ্তির পথে।

Image - আদিবাসীরা হিন্দু নয়, ধর্ম আর রাজনীতির আগ্রাসনের শিকার তারা
উলগুলানের হোতা বীরসা মুন্ডা

সারা ভারতে এই মুন্ডা সম্প্রদায়ের মানুষরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী ভারতে ২ কোটি ২২ লক্ষের বেশি মুন্ডা সম্প্রদায়ের। মানুষ বসবাস করেন। ঝাড়খণ্ডে ১২ লক্ষ ২৯ হাজার ২২১, পশ্চিমবঙ্গে ৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৩৮৬ জন, ওড়িশায় ৫ লক্ষ ৮৪ হাজার ৩৪৬ জন। ছত্তিশগড়, বিহারেও রয়েছেন এই সম্প্রদায়ের মানুষেরা। যাঁকে বীরযোদ্ধা, আদিবাসীদের আইকন হিসাবে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে সরকার, তাঁর মাতৃভাষাই উপেক্ষিত! স্বীকৃতিহীন কুড়মালি ভাষাও। পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, ওড়িষ্যা, আসাম, ছত্তিশগড়, বিহার-সহ ভারতে বিভিন্ন রাজ্যে বসবাসকারী কুড়মিরা এই ভাষায় কথা বলেন প্রায় চার কোটি মানুষ। বাংলাদেশেও কুড়মালি ভাষাভাষিরা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই ভাষাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের স্বীকৃতি আজও মেলেনি। যে জাতির ভাষা বিলুপ্ত হয়ে যায়, সেই জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি, কৃষ্টিও বিলুপ্ত হয়। (World Tribal Day)

শুধু কী আদি জনজাতিদের ভাষা নিয়ে উপেক্ষা? ধর্মের স্বীকৃতিও অধরাই থেকে গেছে। বহুকাল ধরে সারি বা সারনা ধর্মের স্বীকৃতির দাবিতে আন্দোলন চলে আসছে। রেল অবরোধ, ডহর ছেঁকা, সরকারি দফতরে ডেপুটেশন প্রদান কিছু বাদ যায়নি। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর সারনা ধর্মের স্বীকৃতির দাবিতে রেল রোকোর ডাক দিয়েছে কুড়মিরা। খ্রিষ্টধর্মের প্রচারকরা আদিবাসী মহল্লায় এসে অভাবের সুযোগে কত পরিবারকে ধর্মান্তরিত করেছে, তার ইয়ত্তা নেই। স্বয়ং বীরসা মুন্ডাও ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন। আর হিন্দু ধর্মের আগ্রাসন? যা প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে। আদিবাসীদের সংস্কৃতি বিলুপ্তির জন্য কাঠগড়ায় বরাবর বর্ণবাদী এই ধর্ম। আজ দেশের রাষ্ট্রপতি পদে আসীন জনজাতি নারী দ্রোপদী মুর্মু। এবার কি সারনা ধর্মের স্বীকৃতি মিলবে? মিলবে কি না সময় বলবে। কিন্তু বাস্তবটা এই যে, আদিবাসীদের ধর্মকে স্বীকৃতি দিতে চাইছি কই? বরং সুকৌশলে তাদের হিন্দু করে দিতে চাইছি। সহজেই বিচার করা যায় যে, হিন্দু ধর্মের সঙ্গে আদিবাসীদের কোনও যোগ নেই। তাহলে তাদের স্বাতন্ত্র্য কেড়ে নিয়ে চাইছি কেন? এখানে রাষ্ট্রের আগ্রাসন। এখানেই রাষ্ট্রের কৌশল ধর্মের মনসবদারি নিজের হাতে নিয়ে নেওয়া। সেখানে দ্রৌপদী মুর্মু একটি মোটিফ মাত্র। নইলে এ অবিচার হবে কেন? যে দেশের শীর্ষপদে বসে আছেন একজন আদিবাসী সেই দেশেই আদিবাসীরা ধর্মহীন, পরধর্ম বহনে বাধ্য। এ অপমান কার? সর্বগ্রাসী রাষ্ট্রক্ষুধার না কি আদিবাসীদের? সমস্যার আরও গভীরে গিয়ে ভাবতে হবে। শুধুই জনচিত্তমোহিনী সংলাপ দু’দিনের হাউসফুল হতে পারে কিন্তু আদিবাসীদের এত বোকাও ভাবার কোনও কারণ নেই। ‘হক’ শব্দটি তারা ভালোই বোঝে। হ্যাঁ তারা সরল। তারা ‘হ’কে ‘হ’, ‘না’ কে ‘না’ বলে কিন্তু বোঝে না, কখনও বুঝবে না, এমন ভ্রান্তিবিলাস অপ্রয়োজনীয়।

আদিবাসী উন্নয়ন নয়। বরং আদবিাসী ভোট পেতে কী কী করণীয়, তার কৌশল ভালো রপ্ত করেছেন রাষ্ট্রনায়করা। কেন ২০০৬ সালের অরণ্য অধিকার আইন লাগু হয় না? বনভূমি থেকে আজও আদিবাসীদের উচ্ছেদ চলছে অহরহ। আদিবাসী নিধন আর উচ্ছেদের এই যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতবর্ষের প্রথম আদিবাসী রাষ্ট্রপতিকে স্বাগতম! আপনিও কি রক্তাক্ত নন হার হাইনেস? একবার কি ফিরে দেখবেন অতীত ঐতিহ্য না কি পাইয়ে দেওয়া ক্ষমতার মৌতাতে থেকে গিয়ে সর্ববৃহৎ গণতন্ত্রকে শেখানো বুলিতেই মহত্তম করে পাঁচ বছর পার করে দেবেন! তাহলে কিন্তু আদিবাসীরাও ভাবতে বাধ্য হবে আপনার উত্তরণ শুধুই ভোটবাক্সের ভেলকি, না কি আদিবাসীদের ‘কত্ত দিলাম’-এর চর্বিতচর্বন। না, দেবেন না। দান নয়, হক চাই। আদিবাসীরা হক বোঝে। কারণ তারা এখনও ঐতিহ্যলগ্ন হয়ে থাকে। সেখানেই সত্তার উত্তরণ খুঁজে পায়।

আর একটা তথ্য দেওয়া খুব প্রাসঙ্গিক। একদা এই বাংলায় প্রান্তিক মানুষকে পঞ্চায়েতি ক্ষমতার শীর্ষে আনার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছিল। এখনও তা বলবৎ আছে। রাজপাটে পতাকার রং বদলেছে কিন্তু সেই কানুন এখনও বহমান। অনেক জায়গাতেই আদিবাসীরা পঞ্চায়েতের ক্ষমতার শীর্ষে থাকেন। কিন্তু ক্ষমতা কতটা তাঁদের কাছে থাকে। শুধু এলাকাভিত্তিক জনবিভাজনের সূত্র মানা ছাড়া তাঁদের প্রকৃত ক্ষমতায়ন হয়েছে কি? উত্তর সোজা। হয়নি। সর্বত্রই আদিবাসীরা ভোটরাজনীতির পাশাখেলায় একটি ছক মাত্র। দেশের সাংবিধানিক প্রধান নির্বাচনে বাগাড়ম্বরটিও বস্তুত তারই বিকশিত চেহারা নয় তো? ভাবার জন্য পাঁচ বছর সময় অবশ্য আছে। (World Tribal Day)

একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৯ সালের পয়লা জানুয়ারি থেকে ৬ নভেম্বর এর মধ্যেই ২২টি রাজ্যে বন সংরক্ষণ আইনের আওতায় ১১,০০০ হেক্টরের বেশি আদিবাসিদের বনভূমি শ্রেণির জমি ৯৩২ টি নানান অ-বনজ প্রজেক্টের জন্যে বরাদ্দ করা হয়েছে। এই পরিমাণ জমির এক তৃতীয়াংশ বরাদ্দ হয়েছে কেবল ওড়িশাতে, মোট ১৪ টি অ-বনজ প্রজেক্টের জন্যে। মোট বনভূমির মধ্যে সেচ খাতে হয়েছে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ ( ৪২০০ হেক্টর) এবং তারপরে সর্বোচ্চ বরাদ্দ হয়েছে খনি শিল্পে (৩৮০০ হেক্টর)। তথ্য অনুযায়ী সারা দেশের মোট বক্সাইট সঞ্চয়ের ৫১ শতাংশ ওড়িশা রাজ্যে। পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম বক্সাইট রিজার্ভ এই রাজ্যেই। ২০২০ এর ১৬ জুলাই থেকে এখনও পর্যন্ত কেবল ওড়িশাতেই শেষ যে প্রপোজালগুলি জমা পড়েছে তাতে মোট  ৪৫০০ হেক্টরের বেশি বনভূমি ধংসের আবেদন করা আছে। তার মধ্যে জাজাং আর নুয়াগাও-তে ১১০০ হেক্টর চেয়েছে জিন্দাল’রা, মন্দাকিনি তে ৭১৪ হেক্টর চেয়েছে এনটিপিসি, ঠাকুরানিতে আরসেলর মিত্তল চেয়েছে ২২৮ হেক্টর, দইতারিতে ওএমসিএল চেয়েছে ৭৬০ হেক্টর। সমস্ত ওড়িশা জুড়ে জমি লুট চলছে। চলছে সভ্যতার লড়াই। একদিকে আম্বানি, টাটা, জিন্দল, আদানি তো অপরদিকে সাধারণ আদিবাসীরা। আর এই বাংলায় পুরুলিয়ার টুরগা প্রকল্পে ধ্বংস হবে ৫০০ একর বনভূমি। বৃক্ষনিধন হবে কয়েক লক্ষ। যা নিয়ে আদিবাসীরা ইতিমধ্যেই আন্দোলনে নেমেছে।  বীরভূমের ডেউচা-পাঁচামি প্রকল্পেও সেই একই উচ্ছেদ কাহিনী। আদিবাসীরাই উচ্ছেদের তালিকায়।

উন্নয়নের নামে আদিবাসী উচ্ছেদ এখন স্বাভাবিক ঘটনা। এদেশের জমি দখলকারীরা (পড়ুন কর্পোরেট সংস্থা) চুপ বসে নেই।  তাদের হাতে সবকিছু এবং সমস্তকিছু দিয়ে ওড়িশা, ছত্তিসগড়, বাংলা, ঝাড়খণ্ডের সমস্ত খনিজ সম্পদ লুঠ না করা অবধি কিছুতেই থামবে না। আমাদের হার হাইনেস এই এলাকারই বাসিন্দা। এই এলাকার জনপ্রতিনিধি ছিলেন। ভাববেন কি আধুনিকতার নামে একটি মাটিলগ্ন জনজাতিকে মাটিচ্যুত করার পরিণাম কি হতে পারে? বীরসা ভগবানের সন্তানেরা নিশ্চয়ই পরিণাম জানে, তাঁরা নিশ্চয়ই একদিন পাহাড়, জঙ্গলের আদিম দেবতাদের তাদের নিজস্ব স্বর্গচ্যুত করার প্রতিশোধ নেবেন। সমস্ত শঠতা, প্রবঞ্চনার জবাব ভবিষ্যতের সিধু, কানহু, বীরসা, চানকুরা নিশ্চয়ই লড়েই দেবেন। কারণ তারা ভোলাভালা, সহজসিধা কিন্তু তারা হক ভোলে না। একটা দ্রৌপদী মুর্মু তাদের হক নয়, ওই সিউডো জাতিসত্তার বিজয়ভেরীতে তারা বিগলিত হবে না। বরং তারা এই রাষ্ট্রকে ধন্যবাদ দেবে বাস্তবকে চিনিয়ে দেওয়ার জন্য। সে সময় আর বেশি দূরে নেই। 

You might also like