Latest News

দূষণ রোধের জন্য চাই সদিচ্ছা

ব্যাপারটা ক্রমশ হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে।

বেশ কয়েক বছর ধরে শোনা যাচ্ছিল, আমাদের দেশের বাতাসে দূষণ (Pollution) বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। বিশ্বে সবচেয়ে দূষিত ৩০টি শহরের মধ্যে ২২টিই ভারতের। কেবল বায়ুদূষণের জন্য প্রতি বছর দেশে ১০ লক্ষ মানুষ মারা যান। কোনও অতিমহামারীও এক বছরে অতজনকে মারতে পারে না। গ্রিনপিস জানিয়েছে, শুধু দিল্লিতেই বায়ুদূষণের জন্য প্রতি বছর ৫৪ হাজার মানুষের অকালমৃত্যু হয়।

আমাদের রাজনীতিকদের কাছে পরিবেশ বিশেষ গুরুত্ব পায় না। এখনও পর্যন্ত কোনও দল নির্বাচনী ইস্তেহারে দূষণ কমানোর প্রতিশ্রুতি দেয়নি। দূষণ রোধের জন্য সরকারের নানা কর্মসূচি আছে ঠিকই কিন্তু তাতে বিশেষ কাজ হয়নি। আসলে নেতাদের সদিচ্ছার অভাব ছিল। তাছাড়া দূষণ রোধে যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল, তাও প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্ত কম।
বায়ুদূষণ বাড়তে বাড়তে এমন জায়গায় পৌঁছেছে, অনেকে ভাবছে লকডাউন করা হোক। দিল্লি সরকারও সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছে, তারা লকডাউন করতে তৈরি।

লকডাউন ব্যাপারটার সঙ্গে আমজনতার পরিচয় হয়েছে ২০২০ সালে। ওই বছর মার্চ মাসে কোভিড অতিমহামারী ঠেকানোর জন্য লকডাউন জারি করা হয়। এবার শোনা যাচ্ছে, দূষণ ঠেকাতেও লকডাউন জরুরি হয়ে উঠতে পারে। প্রশ্ন হল, সবকিছু থামিয়ে দিলেই কি পরিবেশ নির্মল হবে? কলকারখানা, যানবাহন বন্ধ থাকলে হয়তো কিছুদিন বাতাসে সাসপেন্ডেড পার্টিকুলেট ম্যাটারের পরিমাণ কমবে, কিন্তু কতদিন সব বন্ধ রাখা হবে? ফের সব চালু হলে তো বাতাস আগের মতোই দূষিত হয়ে উঠবে।

দূষণ ঠেকানোর জন্য আরও অনেকে নানা পথের কথা বলছেন। কিন্তু সবার আগে চাই সদিচ্ছা। না হলে যে কোনও পরিকল্পনা মাটি হয়ে যাবে। সুপ্রিম কোর্ট সোমবার বস্তুত দিল্লি সরকারের সদিচ্ছা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে। বিচারপতিরা বলেছেন, প্রয়োজনে তাঁরা অডিট করে দেখবেন, দিল্লি সরকার তার বিজ্ঞাপনে কত টাকা খরচ করে। এখনকার দিনে সরকারি খরচে বিজ্ঞাপন দিয়ে সরকারের নানা সাফল্যের প্রচার করা নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। খবরের কাগজে, রাস্তার হোর্ডিং-এ প্রায়শই নেতা-নেত্রীদের হাসিমুখের সঙ্গে সরকারি সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরা হয়। সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্ন, সরকার বিজ্ঞাপন দিয়ে এত টাকা অপচয় করে কেন? সেই টাকা দিয়ে পরিবেশ দূষণের মতো একটা গুরুতর বিপদের মোকাবিলা করা হয় না কেন?
দিল্লি সরকার এই প্রশ্নের জবাব দিতে পারেনি।

দূষণের পুরো দায় দিল্লি সরকার মড়িপোড়ার ওপরে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। প্রতিবছর শীতের সময় পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের কৃষকরা ক্ষেতে ফসলের অবশিষ্টাংশ পুড়িয়ে ফেলেন। তাকে বলে মড়িপোড়া। সেই ধোঁয়ায় দূষণ সৃষ্টি হয়। কেজরিওয়াল সরকার দিল্লিতে দূষণের পিছনে কেবল মড়িপোড়ার কথাই উল্লেখ করেছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, রাজধানীতে যে পরিমাণ দূষণ হয়, তার মাত্র ১০ শতাংশের জন্য দায়ী মড়িপোড়া। ৭৫ শতাংশ দূষণের কারণ কলকারখানা, ধুলো এবং গাড়ির ধোঁয়া।

শীর্ষ আদালত কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে আগামী ১৬ নভেম্বর ডাকতে হবে মিটিং। সেখানে সিদ্ধান্ত নিতে হবে দূষণ কমাতে আপাতত কী কর্মসূচি গ্রহণ করা যায়। প্রস্তাব হিসাবে বলা হয়েছে, যে নির্মাণগুলি খুব প্রয়োজনীয় নয়, সেগুলি বন্ধ রাখা যেতে পারে। যানবাহন, কলকারখানাও কিছু কিছু বন্ধ রাখা হতে পারে।

এভাবে হয়তো সাময়িকভাবে বিপদকে ঠেকিয়ে রাখা যাবে, কিন্তু স্থায়ীভাবে দূষণ দূর করতে হলে অন্য কোনও পথ অবলম্বন করা দরকার। পাশ্চাত্যের যে উন্নত দেশগুলি দূষণ অনেকাংশে কমাতে সক্ষম হয়েছে, তাদের থেকে আমাদের কিছু শেখা উচিত।

You might also like