Latest News

জেমস জয়েসের ‘ইউলিসিস’: পাঠকের ক্রমমুক্তির আখ্যান

শৌভ চট্টোপাধ্যায়

১৯২২ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি জেমস জয়েসের মহাগ্রন্থ ‘ইউলিসিস’ গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। ঘটনাচক্রে, ২রা ফেব্রুয়ারি আবার জয়েসের জন্মদিনও বটে। চল্লিশ বছর বয়সে, অর্থাৎ ‘ইউলিসিস’ প্রকাশের সময়ে, শিল্পসাহিত্যের জগতে জয়েসের নাম খুব একটা অপরিচিত ছিল না। আয়ারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডে তো বটেই, জয়েসের পরিচিতি ও খ্যাতি ততদিনে ইয়োরোপের সাংস্কৃতিক রাজধানী পারী হয়ে, আটলান্টিক-পারের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও প্রসারলাভ করেছে। ইয়েটসের সঙ্গে তাঁর প্রাথমিক সৌহার্দ্য ইতিমধ্যেই তীব্র মতপার্থক্যে পর্যবসিত। আবার, আয়ারল্যান্ডের বাইরে, স্তেফান ৎসোয়াইগ, ইতালো স্‌ভেভো, স্যামুয়েল বেকেট, ভ্যালেরি লারবো, এজরা পাউণ্ড, এলিয়ট প্রমুখ বিশিষ্ট আধুনিক সাহিত্যিকরা তাঁর পাণ্ডিত্য ও বাগবৈদগ্ধ্যে মুগ্ধ। এজরা পাউণ্ড, নিজের উদ্যোগেই, ‘ইউলিসিস’-এর কিছু অংশ মার্কিন সাহিত্য পত্রিকা ‘দ্য লিটল রিভিউ’-তে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করেন, ১৯১৮ থেকে ১৯২০-র মধ্যে। জয়েসের লেখার তথাকথিত অশ্লীলতা যুক্তরাষ্ট্রের পাঠকমহলে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দেয়, এবং পত্রিকাটির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। পারীতে, সিলভিয়া বীচের প্রকাশনা সংস্থা ‘শেক্সপীয়র অ্যান্ড কম্পানি’ থেকে গ্রন্থাকারে ‘ইউলিসিস’ প্রকাশ করার পেছনেও পাউণ্ডের তৎপরতা বড় কম ছিল না। সব মিলিয়ে, জয়েসের বহুমুখী পাণ্ডিত্য, তাঁর বিচিত্র চালচলন ও ব্যতিক্রমী ভাবনাচিন্তা একদিকে যেমন তাঁকে সংস্কৃতিজগতের এক বর্ণময় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল, তেমনই অন্যদিকে, তাঁর প্রকাশিতব্য বই-সম্পর্কে সমকালীন শিল্পী-সমালোচক মহলে যথেষ্ট আগ্রহও জাগিয়ে তুলেছিল। অবিশ্যি, বই-প্রকাশের পর, এই আগ্রহ ও প্রত্যাশার বেলুনগুলি ফুটো হতেও বেশি সময় লাগেনি।

প্রকাশক সিলভিয়া বীচের সঙ্গে লেখক জেমস জয়েস

‘ইউলিসিস’ প্রকাশের চার-পাঁচ মাসের মধ্যেই, ইউরোপ ও আমেরিকার প্রায় প্রত্যেকটি প্রধান পত্রিকায় তার আলোচনা প্রকাশিত হয়। দু-একটি ব্যতিক্রম বাদ দিলে, বেশিরভাগ সমালোচকই এ-ব্যাপারে একমত হয়েছিলেন যে, নির্মাণকুশলতা, গঠন ও শিল্পসৌকর্যের দিক থেকে এই উপন্যাস এক অভূতপূর্ব সৃষ্টি। কিন্তু শেষ অবধি তা দুষ্পাঠ্য (তার ভাষা ও গঠনগত জটিলতা-হেতু) অথবা অপাঠ্য (তার নৈতিক, বলা ভালো অনৈতিক, অবস্থানের কারণে)। ‘দি অবজার্ভার’ পত্রিকার সমালোচক শুরুতেই লেখেন, “No book has ever been more eagerly and curiously awaited by the strange little inner circle of book-lovers and littérateurs than James Joyce’s Ulysses.” তিনি এ-ও উল্লেখ করেন, “with all my courage I will repeat what a few folk in somewhat precious cénacles have been saying – that Mr James Joyce is a man of genius.” কিন্তু, এর পরেই তাঁর অকপট স্বীকারোক্তি—“I confess that I cannot see how the work upon which Mr Joyce spent seven strenuous years, years of wrestling and of agony, can ever be given to the public.” নিউ ইয়র্ক টাইমসের সমালোচক ডঃ জোসেফ কলিন্স অবিশ্যি এত ঘোরপ্যাঁচের মধ্যে যাননি; আলোচনার শুরুতেই তিনি বেড়াল মেরেছেন দ্ব্যর্থহীন ভাষায়—“A few intuitive, sensitive visionaries may understand and comprehend ‘Ulysses’, James Joyce’s new and mammoth volume, without going through a course of training or instruction, but the average intelligent reader will glean little or nothing from it — even from careful perusal, one might properly say study, of it — save bewilderment and a sense of disgust.” আলোচনার শেষাংশে, তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে লেখেন—“Finally, I venture a prophecy: Not ten men or women out of a hundred can read ‘Ulysses’ through, and of the 10 who succeed in doing so, five of them will do it as a tour de force.” ডঃ কলিন্সের বাকি আলোচনার সঙ্গে আমাদের ঐকমত্য থাকুক বা না-থাকুক, তাঁর এই ভবিষ্যদ্বাণী যে অক্ষরে-অক্ষরে ফলে গিয়েছে, সে-ব্যাপারে দ্বিমতের কোনো অবকাশ নেই।

 

অনুপস্থিত কথক

একটি উপন্যাস যে এইভাবে, একশো বছর ধরে, সারাবিশ্বের অসংখ্য পাঠককে যৎপরোনাস্তি নাস্তানাবুদ করে ছাড়ল, তার একটা প্রধান কারণ অবশ্যই তার জটিল, বহুস্তরীয় গঠন। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ কারণ, আমার মনে হয়, এই উপন্যাসে লেখক বা কথক-নামক কেন্দ্রীয় সত্তার সচেতন অনুপস্থিতি, বা আরও সঠিকভাবে বললে, অনুপস্থিতির ভান। বিষয়টা বোধহয় আরেকটু খোলসা করে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।

উপন্যাসের বয়নরীতির সঙ্গে, মাকড়শার জালের একটা প্রথাগত সাদৃশ্য রয়েছে। মাকড়শার জালের সমকেন্দ্রিক নকশাকে ধরে রাখে একাধিক কেন্দ্রাভিমুখী সুতোর বাঁধন, আর সেই কেন্দ্রে ওঁত পেতে বসে থাকে জালের উর্ণনাভ স্রষ্টা। জালের ভেতরে থাকা-সত্ত্বেও, সে নিজে তার আঠায় ধরা দেয় না। বরং, কেন্দ্রাভিমুখী সুতোর সামান্যতম কম্পনেই সে টের পায়, জালের যেকোনও প্রান্তে শিকার ধরা-পড়ার খবর। উপন্যাসের ক্ষেত্রেও, স্থান-কাল-পাত্র ও ঘটনার সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম সুতো দিয়ে বোনা কাহিনি-জালের কেন্দ্রে বসে থাকেন তার লেখক। আর এই জালের নকশাটিকে ধরে রাখতে সাহায্য করে এক সর্বজ্ঞ কথকের কেন্দ্রাভিমুখী স্বর। যদি সে-উপন্যাস উত্তমপুরুষের জবানিতেও হয়, তবু তার ভাবগত ও রূপগত ঐক্যের নকশাটি কেন্দ্রস্থ লেখকের অস্তিত্বকে নির্ভুলভাবে চিনিয়ে দেয়; এবং, দেরিদা-কথিত ‘transcendental signified’-এর মতোই, সে আমাদের যাবতীয় অর্থনির্মাণের প্রচেষ্টাকে অলক্ষ্যে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। ঔপন্যাসিক-হিসেবে, জয়েসের সবচেয়ে আশ্চর্য কৃতিত্ব বোধহয় এটাই যে, কেন্দ্রীয় লেখক ও তার কেন্দ্রাভিমুখী স্বরের ধারণাটিকে তিনি প্রায় পূর্ণত বর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

জেমস জয়েস, ‘ইউলিসিস’এর স্রষ্টা

‘ইউলিসিস’ উপন্যাসে, স্থান-কাল-পাত্রের নকশাটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট। ১৯০৪ সালের ১৬ই জুন, ডাবলিন-নিবাসী তিন চরিত্র—স্টিফেন ডিডালাস, লিওপোল্ড ব্লুম এবং তার স্ত্রী মলি ব্লুম—ঠিক কী কী করেছিল, কোথায় গিয়েছিল, কী বলেছিল, এবং সর্বোপরি কী ভেবেছিল, এই উপন্যাস তার এক বিশ্বস্ত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ। বইটিতে, স্থান ও কালের জ্যামিতি এতটাই নির্ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে যে, জয়েস দাবি করেছিলেন, কোনওদিন যদি ডাবলিন শহর আচমকা ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে এই বইয়ের বর্ণনা থেকে তার হুবহু পুনর্নির্মাণ সম্ভব। আবার, বর্ণনার পাশাপাশি, তথাকথিত নাটকীয় ঘটনারও অভাব নেই কাহিনিতে—মলি-র সঙ্গে হিউ বয়লানের পরকীয়া সম্পর্ক কাহিনির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা বইয়ের শেষ অধ্যায়ে, মলির বিখ্যাত স্বগতোক্তির মধ্যে দিয়ে এক চূড়ান্ত বিন্দু স্পর্শ করে। কিন্তু, মজার ব্যাপার হল, গোটা উপন্যাসের কথনভঙ্গিমায় আমরা এমন কোনও সুনির্দিষ্ট স্বর খুঁজে পাই না, যাকে লেখকের নিজস্ব বলে দাবি করা যেতে পারে। এমনকী, কোনও একটিমাত্র শৈলীর নিগড়ে একে বাঁধাও পূর্ণত অসম্ভব বলে মনে হয়।

ইউলিসিস লেখার সময়কালে এমনই ছিল ডাবলিন শহর

লেখকের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও স্বরকে আড়াল করার উদ্দেশ্যে, জয়েস প্রত্যেক চরিত্রের জন্য আলাদা-আলাদা সংলাপের ঢং ও লব্জ ব্যবহার করেছেন। মূল তিনটি চরিত্রের মনোগত স্বগতোক্তির (interior monologue) জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন তিনরকম ধাঁচা এবং তার মধ্যে মিশিয়ে দিয়েছেন অসংখ্য টেক্সচুয়াল রেফারেন্স ও উদ্ধৃতি। এমনকী, কথকের নিজস্ব জবানি যখন কাহিনির খাতিরে একান্ত অপরিহার্য হয়ে দাঁড়ায়, তখনও, কোনও একটি নির্দিষ্ট ভাষাভঙ্গিতে থিতু হওয়ার পরিবর্তে, জয়েস ব্যবহার করেন বিভিন্ন বিচিত্র টেক্সটের প্যারডি ও অনুকরণ। ফলে, সমস্ত উপন্যাস-জুড়ে এক তুমুল পলিফোনিক বিস্ফোরণ পাঠককে সর্বদাই বিব্রত ও ব্যতিব্যস্ত রাখে। একটা উদাহরণ দিলে হয়তো ব্যাপারটা পরিষ্কার হবে।

বইয়ের চতুর্দশ অধ্যায়ে, যার অলিখিত শিরোনাম ‘দি অক্সেন অফ দ্য সান’, ব্লুম তার পরিচিত এক সন্তানসম্ভবা মহিলার খোঁজ নিতে প্রসূতিসদনে গিয়ে হাজির হয়, এবং সেখানে তার দেখা হয়ে যায় স্টিফেনের সঙ্গে। এই গোটা অধ্যায়টা লেখা হয়েছে ইংরিজিভাষার ক্রমবিবর্তনের আদরাটিকে অনুকরণ করে—লাতিনগন্ধী প্রাক-ইংরিজি ও বেউলফের অনুপ্রাসবহুল অ্যাংলো-স্যাক্সন ভাষা থেকে শুরু করে, ম্যালরি-রচিত কিং আর্থারের উপাখ্যান; কিং জেমস বাইবেল; স্যামুয়েল পেপিসের ডায়রি; ডিফো, লরেন্স স্টার্ন ও হোরেস ওয়ালপোলের গদ্য; এডোয়ার্ড গীবনের ইতিহাস; ডিকেন্সের উপন্যাস ও কার্লাইলের প্রবন্ধ হয়ে, অধ্যায়টি শেষ হয় সমকালীন ডাবলিনের অপভাষার (স্ল্যাং) প্যারডিতে। আর এভাবেই, মাতৃগর্ভে ভ্রূণের ন’মাসের বিবর্তনচক্রটিকে, জয়েস প্রতিস্থাপিত করেন ভাষাগত বিবর্তনের রূপক দিয়ে। যাঁরা পড়েছেন, তাঁরা জানেন, কী অমানুষিক প্রতিভাবলে এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন জয়েস। কিন্তু এই অভিনব কৌশলের আশ্রয়ে, আরও একটি গূঢ় উদ্দেশ্য সাধিত হয়েছে— লেখকের নিজস্ব ভাষা ও শৈলীর প্রশ্নটিকে সুচতুরভাবে এড়িয়ে যেতে পেরেছেন তিনি; নিজস্ব স্বরের পরিবর্তে, পাঠকের সামনে সাজিয়ে দিয়েছেন অন্য হাজারো লেখকের স্বর, তাঁদের অনুকৃতি।

শুধু এই একটিমাত্র অধ্যায়েই নয়, বরং ‘ইউলিসিস’-এর প্রায় প্রতিটি অধ্যায়েই এধরণের জয়েসীয় কৌশল জারি থাকে—সংবাদপত্রের শিরোনাম ও রিপোর্টাজ, আইনি দস্তাবেজ, প্রাচীন আইরিশ ব্যালাড, আরিস্ততল ও প্লাতো-র দর্শনগ্রন্থ, থমাস অ্যাকুইনাসের ধর্মতত্ত্বসংবাদ, নতুন-পুরোনো অসংখ্য কবিতা, গদ্য ও গান, পথচলতি টুকরো সংলাপ, শব্দ, খিস্তি, এই সবকিছুই হয়ে ওঠে কাহিনিকথনের হাতিয়ার এবং তা লেখকের নিজস্ব জবানির বিরুদ্ধে আপোষহীন অন্তর্ঘাত চালিয়ে যেতে থাকে।

লেখকের নিজস্ব ভাষা ও শৈলীর এহেন অনুপস্থিতি, স্বভাবতই, পাঠককে এক অ-পূর্ব বিপন্নতার সামনে ঠেলে দেয়; এবং, সুস্থির কোনও কেন্দ্রের পরিবর্তে, ক্রমাগত কেন্দ্রাতিগ সরণ ও চ্যুতি তার পক্ষে যারপরনাই অস্বস্তির কারণ হয়ে ওঠে। যেন এক দিকনির্দেশহীন গোলকধাঁধায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তাকে, যেখান থেকে নিষ্ক্রমণের পথ তাকে নিজেকেই খুঁজে বের করতে হবে। আর, সেটি তখনই সম্ভবপর হবে, যখন লেখকের প্রতি প্রশ্নহীন আনুগত্য থেকে সে নিজেকে মুক্ত করতে পারবে। ‘ইউলিসিস’ আসলে, লেখকের অথরিটির বিপ্রতীপে, পাঠকের ক্ষমতায়নের প্রকল্প।

পুরাণ ও অন্যান্য প্রতিমা

‘ইউলিসিস’ নামকরণ থেকে এ-কথা অনুমান করে নেওয়াই যায় যে, এই উপন্যাসের সঙ্গে হোমারের মহাকাব্যের নির্ঘাত কোনও যোগসাজশ রয়েছে। কিন্তু সেই যোগটা যে ঠিক কী, তার কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত উপন্যাসের ভেতর খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এ-বাবদে সাধারণ পাঠকের বিভ্রান্তি ও আশাভঙ্গের সঙ্গত কারণ রয়েছে। এমনটা যে ঘটতে পারে, তা জয়েস নিজেও আন্দাজ করেছিলেন। ফলত, ১৯২০ সালে, ঘনিষ্ঠ সুহৃদ কার্লো লিনাতি-র অনুরোধে তিনি উপন্যাসটির একটি খসড়া নকশা বা রূপরেখা (schema) তৈরি করে দেন, যা থেকে এই উপন্যাসের চরিত্র, ঘটনা ও গঠনশৈলীর সঙ্গে হোমারের মহাকাব্যের সমান্তরাল সম্পর্কটি পাঠকের পক্ষে আঁচ করা সম্ভব হয়। পরের বছর, জয়েস আরও একটি নকশা তৈরি করেন, যা পরে স্টুয়ার্ট গিলবার্ট তাঁর বইতে ব্যবহার করেছিলেন। এই নকশাটি মোটের ওপর লিনাতি-র ছকের অনুরূপ হলেও, কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে গুরুতর প্রভেদ রয়েছে। বর্তমানে, ‘ইউলিসিস’-এর যেকোনো আলোচনা ও বিশ্লেষণ এদের ছাড়া অসম্পূর্ণ। এই দুটি ছকেই, ‘ওডিসি’-র কাহিনির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে, প্রতিটি অধ্যায়কে পৃথক নামে চিহ্নিত করা হয়েছে, যদিও গ্রন্থাকারে প্রকাশিত উপন্যাসের অধ্যায়গুলি শিরোনামহীন।

জয়েস কর্তৃক তৈরি করা খসড়া নকশা

লিনাতি ও গিলবার্টের ছক-মোতাবেক, স্টিফেন ডিডালাস— যে কি না জয়েসের অল্টার-ইগো এবং তাঁর পূর্ববর্তী উপন্যাসেরও নায়ক— ওডিসিয়ুস-পুত্র টেলিমেকাসের প্রতিরূপ। লিওপোল্ড ব্লুম হল ওডিসিয়ুস স্বয়ং, আর তার স্ত্রী, অতএব, পেনেলোপি। এই তিন মুখ্য চরিত্রের পাশাপাশি, হোমারের অন্য চরিত্ররাও— সার্সি, নেস্টর, ক্যালিপ্সো, একচোখো দানব পলিফেমাস, মায় সমুদ্ররাক্ষস স্কাইলা ও মরণফাঁদ জলঘূর্ণি ক্যারিবডিসও— এই উপন্যাসে স্বমহিমায় বিরাজমান, অবশ্যই রূপকের আড়ালে। পাঠক যদি একবার এই যোগাযোগের সাযুজ্যটুকু ধরে ফেলতে পারেন, তাহলে তিনি অবাক বিস্ময়ে লক্ষ করবেন, শতেক আপাত-তুচ্ছ ঘটনা, বস্তু ও চরিত্রকে কী অনায়াস নৈপুণ্যে অর্থপূর্ণ প্রতীকে রূপান্তরিত করেছেন জয়েস, যার ফলে, সামান্য দৈনন্দিনতাও এক সার্বজনীন তাৎপর্যে অন্বিত হয়।

কিন্তু সমস্যা হল, প্রতীকায়নের এই প্রক্রিয়াটি, জয়েসের মেধাবী বদান্যতায়, ঠিক ততোটা সহজ বা একমাত্রিক থাকেনি। যেমন, কাহিনি-অনুযায়ী, ব্লুম স্টিফেনের রক্তমাংসের পিতা নয়, বরং পিতৃবন্ধু। ব্লুমের পুত্রসন্তান অল্পবয়সে মারা গিয়েছিল। ফলে, তার অচরিতার্থ পুত্রস্নেহ স্টিফেনের প্রতি ধাবমান হয়, যদিও তার প্রকাশ সাতিশয় কুণ্ঠিত। অন্যদিকে, স্টিফেন নিজের মদ্যপ পিতাকে ঘৃণার চোখে দেখে, এবং একটি আদর্শ পিতৃ-প্রতিমার সন্ধান তার সমস্ত বৌদ্ধিক অভিযাত্রার অন্যতম অভিজ্ঞান হয়ে ওঠে। হোমারীয় প্রতীকের পাশাপাশি, পিতা-পুত্রের এই মোটিফটিকে মান্যতা দেওয়ার জন্য জয়েস ব্যবহার করেন খ্রীষ্টীয় ধর্মতত্ত্বের ট্রিনিটি (পিতা-পুত্র-পবিত্র আত্মার ত্রিমূর্তি, যেখানে পবিত্র আত্মার একটি ব্যাখ্যা হল নিজের সন্তান ও সৃষ্টির প্রতি ঈশ্বরের প্রেম) ও কনসাবস্ট্যানশিয়ালিটির ধারণা (পিতা ও পুত্রের সারসত্তা বা এসেন্স অভিন্ন, না মূলগতভাবে পৃথক)। এমনকী, হ্যামলেট ও তার মৃত পিতার রূপকল্পও ব্যবহৃত হয় এই একই অনুষঙ্গে। স্টিফেনের উর্বর কল্পনায়, হ্যামলেটের মৃত পিতা এবং নাটকের রচয়িতা শেক্সপীয়র বারংবার স্থানবদল করতে থাকে। অনুপস্থিত বা মৃত পিতার মোটিফের সঙ্গে, পাঠক লক্ষ করবেন, অনুপস্থিত কথকের (বা, রলাঁ বার্থের মতানুযায়ী, মৃত লেখকের) ভাবগত সাদৃশ্য খুব একটা দুর্লক্ষ্য নয়। যেন এভাবেই, পিতৃদায় থেকে পাঠককে মুক্ত করে, পাঠের বহুমুখী সম্ভাবনার ক্ষেত্রটিকে তার সামনে অবারিত করে দিচ্ছেন জয়েস।

শিল্প ও সত্তার স্বাধীনতা

‘আ পোর্ট্রেট অফ দি আর্টিস্ট অ্যাজ আ ইয়াং ম্যান’ উপন্যাসে, স্টিফেন ডিডালাস খুব জোর দিয়ে বলেছিল—“I will not serve that in which I no longer believe, whether it call itself my home, my fatherland or my church: and I will try to express myself in some mode of life or art as freely as I can and as wholly as I can, using for my defence the only arms I allow myself to use—silence, exile, and cunning.” শৈশবের ক্যাথলিক প্রতিবেশ, ইশকুলের জেসুইট আবহ, এবং চারপাশের উগ্র আইরিশ জাতীয়তাবাদ ও তজ্জনিত দলাদলির মাঝখানে, একসময়ে সে হাঁপিয়ে উঠেছিল। সে বুঝতে পেরেছিল, মানবমুক্তির অজুহাতে, ধর্ম, রাষ্ট্র, সমাজ ও ইত্যাকার প্রতিষ্ঠানগুলি, মানুষের স্বাধীনতাকে কেবলই খর্ব করতে থাকে। ফলে, নিজের জীবন ও শিল্পকে সমস্ত আরোপিত বন্ধন থেকে মুক্ত করার জন্য সে ক্রমশ মরিয়া হয়ে ওঠে। শিল্পের সর্বাত্মক স্বাধীনতার যে-স্বপ্ন স্টিফেন দেখেছিল, যদি বলি ‘ইউলিসিস’-ই তার সাকার রূপ, তাহলে বোধহয় খুব একটা ভুল করব না। এখানে বলে রাখা ভালো, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও কায়েমি ধ্যানধারণাগুলিকে বারংবার প্রশ্নায়িত করার এবং তাদেরকে মানুষের স্বাধীনতার পরিপন্থী-হিসেবে ভাবার ক্ষেত্রে, জয়েসের অবস্থানের সঙ্গে পরবর্তীকালের উত্তরাধুনিক চিন্তকদের একটা আলগা সাদৃশ্য রয়েছে। সেদিক থেকে ভাবলে, ‘ইউলিসিস’ হয়তো শুধু মডার্নিস্ট সাহিত্যের এক উত্তুঙ্গ শীর্ষবিন্দুই নয়, বরং পোস্টমডার্নিজমের সূচনাবিন্দুও বটে। অবিশ্যি সে-আলোচনা পৃথক পরিসর দাবি করে।আত্মার ও শিল্পের সর্বাঙ্গীণ মুক্তির লক্ষ্যে স্টিফেনের যাত্রার অভিমুখটি ছিল আদ্যন্ত বৌদ্ধিক। তার বিপুল মেধা, কল্পনাপ্রবণ মন, এবং ক্ষুরধার বিশ্লেষণীশক্তিই সেখানে একমাত্র পাথেয়। অন্যদিকে, ব্লুমের যাত্রাপথটি মূলত হৃদয়লগ্ন ও ইন্দ্রিয়সংবেদী। আমরা বরং এবার সেদিকেই দৃষ্টিপাত করি।

লিওপোল্ড ব্লুম জন্মসূত্রে ইহুদি, এবং তার এই ধর্মীয় পরিচয়ের একাধিক তাৎপর্য রয়েছে। জয়েস তাকে ওডিসিয়ুসের পাশাপাশি ‘Wandering Jew’-এর প্রতিরূপ হিসেবেও কল্পনা করেছেন। খ্রীষ্টীয় মিথ-অনুযায়ী, যিশুখ্রীষ্ট যখন ক্রুশকাঠ-কাঁধে ক্যালভারি-র দিকে যাচ্ছিলেন, তখন রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা এক ইহুদি তাঁকে দেখে বিদ্রূপ করেছিল। সেই পাপের প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ, তার জন্য এই শাস্তি বরাদ্দ হয় যে, যতদিন না মানবপুত্র দ্বিতীয়বার মর্ত্যলোকে অবতীর্ণ হচ্ছেন, ততদিন তাকে পৃথিবীর পথে-পথে হেঁটে বেড়াতে হবে, সামান্যতম বিশ্রামের অবকাশও জুটবে না তার কপালে, এমনকী মৃত্যুও তাকে মুক্তি দেবে না। ডাবলিনের পথেঘাটে ব্লুমের ধারাবাহিক পরিব্রাজন, অতএব, শুধুমাত্র ওডিসিয়ুসের ভাগ্যবিড়ম্বিত অভিযানের প্রতীকই নয়, বরং তা, একইসঙ্গে, ‘ভ্রাম্যমাণ ইহুদি’-র অভিশপ্ত যাত্রারও রূপক।

ইহুদি হওয়া-সত্ত্বেও, ব্লুমের মধ্যে কোনওরকম ধর্মীয় গোঁড়ামি আমাদের চোখে পড়ে না। উলটে, তার সঙ্গে আমাদের প্রথম আলাপের মুহূর্তটিতেই, আমরা দেখি, নিষিদ্ধ শূকরমাংসের রসাস্বাদনে সে যারপরনাই তৃপ্ত ও উৎফুল্ল। বাহ্যিক আচার-আচরণেও সে সুভদ্র, অমায়িক, হয়তো-বা ঈষৎ শিশ্নোদরপরায়ণ। কিন্তু তা-সত্ত্বেও, শুধুমাত্র তার ইহুদি পরিচয়ের কারণে তাকে ক্রমাগত সন্দেহ ও কটূক্তির শিকার হতে হয়। মনে রাখতে হবে, বিংশ শতকের গোড়া থেকেই, ইয়োরোপে ইহুদি-বিদ্বেষ ক্রমশ লাগামছাড়া হতে আরম্ভ করেছিল। ধীরে ধীরে পুঞ্জীভূত হওয়া এই ঘৃণা ও বিদ্বেষের বারুদই, অবশেষে, হিটলারের রাজনৈতিক উসকানিতে বিস্ফোরিত হয়। ‘ইউলিসিস’-এর দ্বাদশ অধ্যায়ে, লিনাতি-র ছক-অনুযায়ী যার নাম ‘সাইক্লপস’, অত্যুগ্র জাতীয়তাবাদ ও তার পাশাপাশি প্রগাঢ় ইহুদিবিদ্বেষের বিষাক্ত ক্ষতটিকে জয়েস নির্ভুলভাবে শনাক্ত করেছেন।

হোমারের বর্ণনা-অনুযায়ী, সাইক্লপসরা একচক্ষু দানব। তাদেরই একজন, পলিফেমাস— যে আবার সমুদ্রদেব পোসাইডনের সন্তান— ওডিসিয়ুস ও তার বারোজন সঙ্গীকে গুহায় আটকে রেখেছিল একে-একে উদরস্থ করবে বলে। আমরা সকলেই জানি, কীভাবে ওডিসিয়ুস তাকে অন্ধ করে, এবং বুদ্ধির জোরে তার খপ্পর থেকে পালাতে সমর্থ হয়। ‘ওডিসি’-র এই ঘটনাটিকেই আলোচ্য অধ্যায়ের পৌরাণিক প্রস্থানভূমি হিসেবে ব্যবহার করেছেন জয়েস।

‘একচোখো’ শব্দটি, রূপকার্থে— বাংলা ও ইংরিজি উভয় ভাষাতেই— সংকীর্ণমনা ও পরমত-অসহিষ্ণু ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বিজ্ঞান বলছে, দুটির বদলে একটিমাত্র চোখ থাকলে, মানুষের মস্তিষ্কে গভীরতার বোধ জন্মায় না। অর্থাৎ depth perception তৈরি হয় না। ফলে, জাতিধর্মগত গোঁড়ামি ও সংকীর্ণতা, অদূরদর্শী মতবাদের প্রতীক-হিসেবে জয়েস যে সাইক্লপসদেরই বেছে নেবেন, তাতে আর আশ্চর্য কী!

এই অধ্যায়ে, ব্লুম এসে হাজির হয় বার্নি কিয়ের্নানের পানশালায়। এবং সেখানে তার মোলাকাত হয় ‘সিটিজেন’-নামে এক উগ্র আইরিশ জাতীয়তাবাদীর সঙ্গে। অধ্যায়টি বর্ণনা করছে জনৈক নামহীন কথক, উত্তমপুরুষ একবচনে। ইংরিজিতে, উত্তমপুরুষ একবচন ‘I’ এবং ‘eye’-এর পানটি, এক্ষেত্রে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং একান্তভাবেই জয়েসীয়। সিটিজেন, কথক, এবং তাদের ইয়ারদোস্তদের ইহুদীবিদ্বেষী রসিকতা ও সংকীর্ণ দেশপ্রেমের উগ্র প্রকাশ ক্রমশ মাত্রাছাড়া হতে থাকে। প্রথমে চুপ করে থাকলেও, একসময়ে ব্লুম এই ধারাবাহিক কটুকাটব্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সে জানায়, “Persecution, all the history of the world is full of it. Perpetuating national hatred among nations.” ব্লুমের বিশ্বাসমতে, নেশনের ধারণাটি নিতান্ত সহজ—“A nation is the same people living in the same place.” অর্থাৎ, কেবলমাত্র পারস্পরিক সহাবস্থানের দাবিটুকু ছাড়া, রাষ্ট্রের অন্য সমস্ত সম্ভাব্য অভিজ্ঞানকে—ধর্ম, জাতি, ভাষা ইত্যাদি—ব্লুম সদর্পে অস্বীকার করতে উদ্যত হয়। সে আরো বলে, “And I belong to a race too… that is hated and persecuted. Also now. This very moment. This very instant.” কিন্তু এই ঘৃণা ও নিপীড়ন যে শেষ অবধি মানুষের অন্বিষ্ট হতে পারে না, সে-কথাও সে মনে করিয়ে দিতে ভোলে না—“but it is no use. Force, hatred, history, all that. That’s not life for men and women, insult and hatred. And everybody knows that it’s the very opposite of that that is really life.”

তার এই বিশ্বজনীন প্রেম ও সম্প্রীতির বার্তা শুনে বিরক্ত হয়ে সিটিজেন তাকে “A new apostle of the gentiles” বলে বিদ্রূপ করে। আমরা লক্ষ করি, কীভাবে আস্তে আস্তে ব্লুমের চরিত্রের ওপর যিশু খ্রীষ্টের রূপারোপ করছেন জয়েস। অধ্যায়ের শেষে, ব্লুমের বকলমে তিনি বলেন—“Mendelssohn was a jew and Karl Marx and Mercadante and Spinoza. And the Saviour was a jew and his father was a jew. Your God… Christ was a jew like me.”

লিনাতি-র জন্য বানানো ছকটিতে, হোমারীয় চরিত্রগুলির পাশাপাশি, জয়েস প্রমিথিয়ুসের কথাও উল্লেখ করেছেন, যে-প্রমিথিয়ুস মানুষের জন্য স্বর্গ থেকে আগুন ছিনিয়ে এনেছিল। আবার, শেলী-র ‘প্রমিথিয়ুস আনবাউণ্ড’ কাব্যে, জুপিটারের ঘৃণা ও পীড়নের বিরুদ্ধে প্রেমের জেহাদ ঘোষণা করে প্রমিথিয়ুস। সে বলে—“I wish no living thing to suffer pain.” জয়েসের পরিকল্পনায়, ব্লুম শুধু ওডিসিয়ুস বা যীশুখ্রীষ্টের প্রতীকই নয়, সে সত্যদ্রষ্টা প্রমিথিয়ুসেরও প্রতিভূ।

শুধু রাষ্ট্র, ধর্ম বা জাতি-ই নয়, যেকোন বিধিনিষেধ, সামাজিক ট্যাবু বা ন্যায়নীতির প্রচলিত ধারণার বিরুদ্ধেই জয়েস সমান খড়্গহস্ত। খুব সঙ্গত কারণেই, ডঃ জোসেফ কলিন্স তাঁর সমালোচনায় লিখেছিলেন, “Mr. Joyce has no reverence for organized religion, for conventional morality, for literary style or form. He has no conception of the word obedience, and he bends the knee neither to God nor man.” এবং, জয়েসের এই সর্বাত্মক আপোষহীনতাই, ‘ইউলিসিস’-এর প্রধান চালিকাশক্তি। বইয়ের ত্রয়োদশ অধ্যায়ে, একটি অল্পবয়সী তরুণীকে দেখে, সমুদ্রের ধারে ব্লুমের স্বমেহনের দৃশ্যটি তৎকালীন পাঠকদের রুচিতে কী বিপুল আঘাত হেনেছিল, সে-কথা আমরা সকলেই জানি। যদিও, ব্লুম সত্যিই স্বমেহন করেছিল, না গোটা ব্যাপারটাই তার দিবাস্বপ্ন, সেটা তর্কসাপেক্ষ। আবার, বইয়ের শেষ অধ্যায়ে, মলি ব্লুমের দীর্ঘ ও যতিহীন স্বগতোক্তিটি, পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বিরুদ্ধে একজন নারীর সদম্ভ বিদ্রোহের দলিল।

 

যে-আলোচনা লেখকের নিয়ন্ত্রণমুক্তির প্রসঙ্গ দিয়ে শুরু হয়েছিল, অবশেষে তা এসে পৌঁছল সামাজিক ও রাজনৈতিক শৃঙ্খলমোচনের অঙ্গীকারে। কিন্তু এটাই বোধহয় হওয়ার ছিল। কেননা, ‘ইউলিসিস’-এর অবস্থান সমস্ত ক্ষমতাকেন্দ্র ও প্রাতিষ্ঠানিকতার বিপরীতে—তা শিল্প-সাহিত্যের প্রতিষ্ঠানই হোক, বা সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার। প্রচলিত কাঠামোগুলির বিরুদ্ধে সে গোপনে অন্তর্ঘাত চালিয়ে যায়, আর উলটে দিতে থাকে ক্ষমতার বয়ান। কার্যত তা উপন্যাসের সংজ্ঞাকেও ধীরে ধীরে বদলে দিতে থাকে। বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে, এই কারণেই, ‘ইউলিসিস’ এক যুগান্তকারী ঘটনা, এক তীব্র বাঁকবদল। ‘ইউলিসিস’-পরবর্তী কোনো উপন্যাসই বোধহয় তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব এবং ঋণ অস্বীকার করতে পারবে না।

 

লেখক শূন্য দশকের বিখ্যাত কবি, প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ

You might also like