Latest News

(Online) অনলাইন পরীক্ষার বিপদ

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি স্বশাসিত হলেও সরকার সুযোগ পেলেই তাদের কাজকর্মে হস্তক্ষেপ করে। অতীতে বামফ্রন্ট আমলে এমন নজির আছে ভুরি ভুরি। এখনও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। কিছুদিন আগে সরকার একতরফা গরমের ছুটি ঘোষণা করে দিল। রাজ্যের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে গরমের ছুটিই পড়ে না। তারা সুবিধামতো ছুটি দেয়। সরকার তাদের ওপরেও গরমের ছুটি চাপিয়ে দিল।

তারপরে সরকার ভালমানুষের মতো বলল, তাদের কাছে অনেকেই জানতে চাইছে কলেজ -বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে এবার পরীক্ষা অনলাইনে (Online) হবে নাকি অফলাইনে? এব্যাপারে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় নিজের মতো সিদ্ধান্ত নিক।

আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়, সরকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলির স্বশাসনকে সম্মান করছে। কিন্তু অনলাইনে (Online) পরীক্ষার প্রশ্ন উঠছে কেন? অনলাইনে পরীক্ষার দাবিতে কি রাজ্যে কোথাও বিরাট আন্দোলন হচ্ছে? গত ছয়-সাত মাসে তো রাজ্যের জনজীবন দিব্যি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।।গাড়িঘোড়া স্বাভাবিক চলাচল করছে। দোকান-বাজার খুলে গিয়েছে। কলেজে গিয়ে ছেলেমেয়েরা চতুর্থ সেমিস্টারের ক্লাসও করেছে। তাহলে অনলাইনে (Online) পরীক্ষা হবে কেন?

কিছুদিন আগে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সঙ্গে দেখা করে অনলাইন পরীক্ষার দাবি জানান। তারপরেই রাজ্য সরকার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলে, অনলাইন না অফলাইনে পরীক্ষা হবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি স্থির করুক। আসলে বিজ্ঞপ্তি নয়, এর মধ্যে আছে প্রচ্ছন্ন নির্দেশ। বোঝাই যাচ্ছে, সরকার চায়, অনলাইনে পরীক্ষা হোক। নাহলে সবকিছু যখন অফলাইনে হচ্ছে, তারা অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ খোলা রাখছে কেন?

রাজ্যের কলেজগুলিতে এখন কোনও নির্বাচিত ছাত্র সংসদ নেই। আইন-শৃঙ্খলার অবনতির দোহাই দিয়ে সরকার কলেজে-বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন বন্ধ রেখেছে। সুতরাং বিভিন্ন কলেজের ছাত্র সংসদ অনলাইন বা অফলাইন পরীক্ষা নিয়ে কী ভাবছে জানার সুযোগ নেই। এই অবস্থায় শুধুমাত্র শাসক দলের ছাত্র সংগঠনের কথা শুনেই অনলাইন পরীক্ষার ওপরে জোর দেওয়া হচ্ছে কেন?

ইতিমধ্যে রবীন্দ্রভারতী ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি অনলাইন পরীক্ষার বিরুদ্ধে জোরালো মতপ্রকাশ করেছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা জানিয়ে দিয়েছেন, অনলাইনে পরীক্ষা হলে তাঁরা পরীক্ষা প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকবেন না। উত্তরবঙ্গ ও বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমে স্থির করেছিল, অফলাইনে পরীক্ষা হবে। পরে অনলাইনে পরীক্ষা হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এখনও কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি। সেখানে আগামী ২০ মে মিটিং বসবে। তখনই পরীক্ষার মোড নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

আসলে এভাবে অনলাইন-অফলাইন করতে করতে পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে নৈরাজ্যের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। একশ্রেণির ছাত্রছাত্রী সত্যিই অনলাইন পরীক্ষা পছন্দ করে। কারণ তাতে বাড়িতে বসে ঢালাও টোকাটুকির সুযোগ পাওয়া যায়। তারা ভাবে, অনলাইনে পরীক্ষা হলে ফেল করার ভয় নেই। বরং আশাতীত ভাল নম্বর নিশ্চিত।

এই ছাত্রছাত্রীদের বয়স বেশি নয়। জীবনের অভিজ্ঞতাও খুব অল্প। তারা জানে না, অনলাইনে পরীক্ষা দিয়ে যে সার্টিফিকেট মিলবে, তার দাম বেশি হবে না। সেই সার্টিফিকেট নিয়ে কেউ চাকরির পরীক্ষায় বসতে গেলে মুশকিলে পড়বে। নিয়োগকর্তা যেই শুনবেন, চাকরিপ্রার্থী অনলাইনে পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছিল, সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মনে সন্দেহ জাগবে। তিনি ভাববেন, প্রার্থী টুকে পাশ করেনি তো? সে কি আদৌ কিছু জানে?

অনলাইনে পরীক্ষা হলে ভবিষতে যে এইধরনের বিপদ ঘটতে পারে, তা সরকারি কর্তাব্যক্তিরা জানেন। কিন্তু তারা সস্তা জনপ্রিয়তার লোভে অনলাইনের অনুমতি দিচ্ছেন। তাতে কোনও কোনও ছাত্রছাত্রী খুশি হবে ঠিকই। কিন্তু পরীক্ষা পাশের সার্টিফিকেট নিয়ে তারা যখন বিপাকে পড়বে, সরকার তখন দায়িত্ব‌ নেবে কি?

আরও পড়ুন : জ্ঞানবাপীর পর মথুরার শাহী ঈদগা মসজিদ, হিন্দু মন্দিরের অংশ ফেরানোর আর্জি আদালতে

You might also like