Latest News

Murder : কাউন্সিলর খুন, অতঃপর!

সব আমি একলা খাব। আর কাউকে দেব না। প্রমোটিং, তোলাবাজি, সিন্ডিকেট চক্র, আরও যেখান থেকে যা টাকা উঠবে, সব এসে ঢুকবে আমার একার পকেটে। আজকাল বেশিরভাগ রাজনীতিকের মনোভাব এইরকম। তাঁরা যেমন অন্য দলকে জমি ছাড়তে চান না, তেমনই নিজের দলের লোককেও ছাড়েন না। এই মনোভাব জন্ম দেয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও হানাহানির (Murder)।

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনীতিতে এই দু’টি রোগ খুব গুরুতর আকারে দেখা দিয়েছে। যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হল দুই কাউন্সিলর খুনের (Murder) ঘটনা।

গত ১৩ মার্চ, রবিবার, রাজ্যের দুই প্রান্তে দুই কাউন্সিলরকে গুলি করে খুন (Murder) করা হয়। বিকালে পুরুলিয়ার ঝালদায় খুন হন কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দু। তার কয়েক ঘণ্টা পরে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে খুন হন তৃণমূল কাউন্সিলর অনুপম দত্ত।

 তপনবাবু ইভনিং ওয়াকে বেরিয়েছিলেন। দুষ্কৃতীরা মোটর বাইকে চড়ে এসে তাঁকে গুলি করে। অনুপমবাবুকে খুনের ছবি সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে। দেখা যাচ্ছে, সন্ধ্যা পৌনে সাতটা নাগাদ তিনি একটি ওষুধের দোকান থেকে বেরিয়ে আসছেন। আলোআঁধারী রাস্তায় তিনি যখন এক পরিচিতের মোটর বাইকে উঠছেন, এমন সময় পিছন থেকে এগিয়ে এল এক যুবক। সে কাউন্সিলরের মাথায় ওয়ান শটার রিভলভার ঠেকিয়ে গুলি করল।

রাত ১২ টা নাগাদ অনুপমবাবুর খুনি ধরা পড়ে। যেখানে কাউন্সিলর খুন হয়েছিলেন, তার কাছেই রয়েছে হোগলার জঙ্গল। তার মধ্যে সে লুকিয়ে ছিল। খুনির আচরণ অনেকের কাছেই অদ্ভূত ঠেকেছে। সাধারণত অপরাধী তার অপরাধের জায়গা থেকে দ্রুত যত দূরে সম্ভব চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ওই ব্যক্তি কাছেই অতক্ষণ লুকিয়ে ছিল কেন? কেউ কি তাকে হোগলা বনে লুকিয়ে থাকতে বলেছিল? সে কি সময়মতো খুনিকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করত?

দু’টি খুনের পিছনে যে অনেক বড় ষড়যন্ত্র আছে তা স্পষ্ট। শোনা যাচ্ছে, অনুপমবাবু এলাকায় প্রমোটার চক্রের বিরাগভাজন হয়েছিলেন। তাঁর অনেক শত্রু তৈরি হয়েছিল। তপন কান্দু খুনের ঘটনায় কংগ্রেসের অভিযোগ, ঝালদা পুরসভায় গরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য শাসক দল তাঁকে খুন করিয়েছে।

ঝালদা পুরসভা এখন ত্রিশঙ্কু অবস্থায় রয়েছে। মোট ১২টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস পেয়েছে পাঁচটি, তৃণমূলও পাঁচটি। বাকি দু’টি নির্দলদের দখলে। কংগ্রেসের বক্তব্য, তাদের এক কাউন্সিলরকে হত্যা করে পুরসভা দখলে আনতে চায় তৃণমূল।

তৃণমূলের পালটা দাবি, দু’টি খুনের পিছনে রয়েছে বিজেপি। তারা রাজ্যে অস্থিরতা তৈরি করতে চায়।

খুনি যেই হোক, একটি বিষয় স্পষ্ট। দু’টি খুনের সঙ্গে রাজনৈতিক নীতি-আদর্শের কোনও সম্পর্ক নেই। স্রেফ লোভের জন্য খুন বলেই মনে করা হচ্ছে। সেজন্য ভাড়াটে খুনি লাগানো হয়েছিল।

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক খুনোখুনির দীর্ঘ ইতিহাস আছে। কিন্তু আগে খুনোখুনি হত আদর্শের জন্য। নকশাল, সিপিএম, কংগ্রেস, সব দলের ছেলেরাই ভিন্ন আদর্শের অনুগামীদের পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে চাইত। এজন্য বহু অমূল্য প্রাণ ঝরে গিয়েছে। সেই রাজনীতিও সমান নিন্দনীয়। তবে সেই আমলে কেউ সুপারি কিলার ভাড়া করার কথা ভাবত না।

আসলে মানুষ যখন লোভের বশে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে, তখনই তার এমন লোককে প্রয়োজন হয় যে টাকার জন্য মানুষ খুন করতে রাজি। আমাদের রাজনীতিকদের একাংশ এখন নিজেদের প্রভাব-প্রতিপত্তি বাড়ানোর জন্য ওই ধরনের লোকের ওপরে ভরসা করছেন। এটা খুবই চিন্তার কথা। রাজ্য সরকারের উচিত দুটি খুনের ঘটনাতেই খুনি এবং ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। সে তিনি যে দলের, যে গোষ্ঠীর লোকই হোন না কেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হামেশাই নিজের দলকে শাসন করতে গিয়ে বলে থাকেন, অপরাধ করে কেউ রেহাই পাবে না। তৃণমূল রাজ্যে ক্ষমতাসীন দল। মুখ্যমন্ত্রী সেই দলের সর্বোচ্চ পদাধিকারী। শাসক দলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্য-মিথ্যা প্রকাশ্যে আনা দল ও সরকারের প্রধান হিসেবে তাঁর বাড়তি কর্তব্য। তা যতটা প্রশাসনিক, ততটাই নৈতিক।

আরও পড়ুন : বিতর্কিত অডিও টেপে কাউন্সিলরের দলবদল করানো নিয়ে চাপ! কংগ্রেসের কাঠগড়ায় পুলিশ

You might also like