Latest News

যা কিছু ভাল তার কৃতিত্ব মোদীর, খারাপ হলে দায় বিরোধীদের

ইংরেজিতে একটা ইডিয়ম (Idiom) আছে, ‘অ্যাটাক ইজ দ্য বেস্ট ডিফেন্স’। তার অর্থ, আক্রমণই (Attack) প্রতিরক্ষার সর্বশ্রেষ্ঠ উপায়। মনে হয়, আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) সেই কথাটি অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলেন। পাছে বিরোধীরা নানা ব্যর্থতা নিয়ে তাঁর সরকারকে চেপে ধরেন, তাই তিনি আগেভাগে বিরোধীদের উদ্দেশে তোপ দাগছেন। বহুদিন তাঁকে এমন আক্রমণাত্মক ভূমিকায় দেখা যায়নি।

মোদীর অভিযোগ, কংগ্রেস নির্বাচনে হেরে গিয়েও আগের মতোই উদ্ধত রয়ে গিয়েছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকেও রাহুল গান্ধীর দল ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য কিছু করেনি। শিল্পপতিদের কোভিড ভ্যারিয়ান্টের সঙ্গে তুলনা করে রাহুল অপরাধ করেছেন। কংগ্রেস যদি নিজের আচরণ না বদলায় তাহলে আগামী ১০০ বছরেও ফের ক্ষমতায় আসবে না।

প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে বড় অভিযোগ করেছেন অতিমহামারীর সময় কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে। তাঁর বক্তব্য, ২০২০ সালের মার্চ মাসে কোভিডের প্রথম ওয়েভ রুখতে দেশে লকডাউন করা হয়েছিল। কিন্তু লকডাউনের উদ্দেশ্য অনেকাংশে ব্যর্থ করে দিয়েছিল কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দল। কেন্দ্রীয় সরকার চাইছিল, যে যেখানে আছে, সেখানেই থাকুক। তাহলে দেশের নানা প্রান্তে কোভিড ছড়িয়ে পড়া রোধ করা যেত। কিন্তু বিরোধীরা পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। এর ফলে উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে অতিমহামারী ভয়ানক রূপ ধারণ করেছিল।

অতিমহামারীর সময় কেন্দ্রীয় সরকার যে ক’টি বড় ধরনের ভুল করেছে, তার অন্যতম হল আচমকা লকডাউন। ২০২০ সালের ২৪ মার্চ টিভিতে মোদী ঘোষণা করেন, কোভিড ঠেকাতে আগামী ২১ দিন দেশ জুড়ে লকডাউন চলবে। প্রায় ১৩৮ কোটি মানুষের একটি দেশ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অচল হয়ে যায়। যে শ্রমিকরা নিজেদের বাসস্থান ছেড়ে দূরে কাজ করতে গিয়েছিলেন, তাঁদের এক বড় অংশ বাড়িতে ফিরতে চেষ্টা করেন। কারণ, কলকারখানা বন্ধ থাকায় দূরের শহরে তাঁদের আর রোজগারের উপায় ছিল না।

এই শ্রমিকদের বেশিরভাগই অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করেন। সেখানে বেতন খুবই কম। চাকরির আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধাও নেই। তাঁদের পক্ষে কাজ হারিয়ে শহরে টিকে থাকা সম্ভব নয়। মোদী নিশ্চয় ভাল উদ্দেশ্য নিয়েই সবকিছু বন্ধ করে দিয়েছিলেন। মহামারী রুখতে লকডাউন একটি চালু পন্থা। কিন্তু আগে তাঁর ভাবা উচিত ছিল, লকডাউনে গরিবরা খাবে কী। দুঃখের কথা, মোদী তাদের কথা না ভেবেই হঠকারী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

অনেক অর্থনীতিবিদ বলেছিলেন, পরিযায়ী শ্রমিকরা যাতে নিজেদের কর্মস্থলে থেকে যেতে পারেন, সেজন্য তাঁদের হাতে কাঁচা টাকা দেওয়া হোক। কেন্দ্রীয় সরকার সেই পরামর্শ অগ্রাহ্য করেছিল।

লকডাউনের সময় বিরাট সংখ্যক শ্রমিক বাড়ি ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। অনেকে হেঁটেই কয়েক হাজার কিলোমিটার পাড়ি দেন। বিরোধীরা কয়েকটি ক্ষেত্রে তাঁদের বাড়ি ফিরতে সাহায্য করেছিলেন। এর পিছনে হয়তো সস্তা জনপ্রিয়তা লাভের চেষ্টা থাকতে পারে, কিন্তু পরিযায়ী শ্রমিকদের মানবিক সংকটের দিকটিও উপেক্ষা করা যায় না।

একটা কথা ঠিক যে, অতিমহামারীর ধাক্কা সামলে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ভারতের অর্থনীতি। মোদী এর জন্য কৃতিত্ব দাবি করতে পারেন। সেই সঙ্গে পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশার দায়ও তাঁকেই নিতে হবে। আর কিছুদিনের মধ্যেই উত্তরপ্রদেশ সহ কয়েকটি রাজ্যে ভোট আছে। তার আগে কোভিডকালে ব্যর্থতার সব দায় মোদী বিরোধীদের ঘাড়ে চাপাতে চাইছেন। এতে বিশেষ সুবিধা হবে না। তার চেয়ে দোষ স্বীকার করে নিলেই ভাল করতেন।

You might also like