Latest News

Justice: বিচারপতিকেও বয়কট! কোন পথে বাংলা

কলকাতা হাইকোর্টে (Kolkata High Court) গত এক সপ্তাহ ধরে যা ঘটছে, গত দেড়শ বছরে তেমনটা হয়নি। বিচারপতিকেও (Justice) যে বয়কট করা যায়, তাঁর এজলাসে ঢুকতে আইনজীবীদের বাধা দেওয়া যায়, তা আগে কে জানত।

আইনসভা ও আমলাতন্ত্রের মতো বিচারবিভাগও (Justice) গণতন্ত্রের একটি স্তম্ভ। রাজনীতির উর্ধ্বে থেকে এই স্তম্ভটি রাষ্ট্র তথা সমাজের সেবা করে। কিন্তু এবার রাজনীতির আবর্তে টেনে আনা হল আদালতকেও।

শিক্ষায় ও প্রশাসনের নানা ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ অনেকের গা সওয়া হয়ে গিয়েছে। কিন্তু বিচারপতিকে (Justice) নিয়ে রাজনীতি করতে দেখে তাঁরাও চমকে উঠেছেন।

বিতর্কের কেন্দ্রে আছেন বিচারপতি (Justice) অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। বহুদিন ধরেই স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ, গ্রুপ ডি নিয়োগ ও আরও কয়েকটি ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। ওই বিচারপতি কয়েকটি অভিযোগে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

কিন্তু ডিভিশন বেঞ্চে তাঁর নির্দেশ স্থগিত হয়ে যায়। বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, কাদের স্বার্থে ডিভিশন বেঞ্চ এভাবে সিঙ্গল বেঞ্চের হাত বেঁধে দিচ্ছে? তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এক্ষেত্রে কী রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হচ্ছে? তিনি প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপও দাবি করেছিলেন।

এসএসসি-তে নিয়োগের দাবিতে বহু দিন ধরে অনেক পরীক্ষার্থী আন্দোলন করছেন। তাঁদের অভিযোগ, স্কুলশিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি হয়েছে। তাঁরা যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও চাকরি পাননি। যাঁরা চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের অনেকেই অযোগ্য।

এই আন্দোলনকারীরা বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন। কিন্তু আইনজীবীদের যে অংশটি তৃণমূলের সমর্থক তাঁরা ভয়ংকর ক্রুদ্ধ হয়েছেন। তাঁদের প্রশ্ন, ওই বিচারপতি একের পর এক মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিচ্ছেন কেন? গত সপ্তাহে তাঁরা বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে বয়কটের ডাক দেন। কোনও আইনজীবী তাঁর এজলাসে ঢুকতে চেষ্টা করলে তাঁকে গায়ের জোরে আটকাতে চেষ্টা করেন। এজলাসের সামনে দু’দল আইনজীবীর হাতাহাতি পর্যন্ত হয়।

বিচারপতি এজলাসে প্রবেশ করলে গোলমাল চরমে ওঠে। এজলাসের মেঝেয় বসে আইনজীবীদের একাংশ বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। বিচারপতি তাঁদের প্রশ্ন করেন, ‘আমার এজলাসে কি কারও কোনও অসুবিধা হচ্ছে?’ বিক্ষোভরত আইনজীবীরা বলেন, বার অ্যাসোসিয়েশন সর্বসম্মতভাবে তাঁর এজলাস বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তখন অন্যান্য আইনজীবী হইহই করে ওঠেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, মোটেই সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়নি। যাঁরা এজলাসে প্রবেশ করতে চান, তাঁদের যেন আটকানো না হয়।
বিচারপতি তৃণমূল সমর্থক আইনজীবীদের বলেন, রাজনীতি করবেন না। তৃণমূল সমর্থক আইনজীবী চণ্ডীচরণ দে বলেন, বিচারপতি সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিলে তাঁদের আপত্তি নেই। কিন্তু তিনি ডিভিশন বেঞ্চের বিরুদ্ধে বললেন কেন? বিচারপতি বলেন, আপনারা যদি মনে করেন আমি ভুল করেছি, তাহলে সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারেন। এভাবে বিক্ষোভ কেন?

সোমবার বিচারপতি আইনজীবীদের ডেকে বলেন, আপনারা এজলাসে আসুন। না হলে শুনানি থমকে যাচ্ছে। মানুষকে স্বস্তি দেওয়া যাচ্ছে না।

একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, তাঁর মাথায় বন্দুক ধরলেও তিনি চুপ করবেন না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলবেনই।

সাধারণ মানুষের ধারণা হয়েছে, বিচারপতি দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিলেন বলেই তৃণমূলের এত রাগ। পশ্চিমবঙ্গে শাসক দলের নেতা-নেত্রীরা প্রায়ই অভিযোগ করেন, নরেন্দ্র মোদীর সরকার প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের রাজনীতিকরণ করেছে। সেগুলি দখল করেছে। বিরোধীদের বিপাকে ফেলার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলি ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু তাঁরা নিজেরা কী করছেন? তাঁরা কি এমন বিচারপতি চান যিনি কেবল শাসকদলের পক্ষে রায় দেবেন?

তৃণমূল কি বিচারব্যবস্থাকে দখল করতে চায়?
যাঁরা বিচারপতির উদ্দেশে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, তাঁদের অবিলম্বে সংযত করুক দল। না হলে এই ঔদ্ধত্যের মূল্য দলকে দিতে হবে।

আরও পড়ুন : জিডি বিড়লার নোটিশ খারিজ করল হাইকোর্ট, সব পড়ুয়াকে ঢুকতে দেওয়ার নির্দেশ

You might also like