Latest News

কিছু না পারি, ছুটি (ছুটির আতঙ্ক) তো দিতে পারি

অমল সরকার

রাজ্যগুলির মধ্যে প্রতিযোগিতায় বছর কয়েক যাবৎ যে বিষয়গুলি যুক্ত হয়েছে তার একটি হল ছুটি (Holiday)। সরকারি অফিস, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে কোন রাজ্য কত ছুটি মঞ্জুর করেছে, বছর কয়েক যাবৎ তাও জন-দরদী হওয়ার মানদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেমন, শুনতে হয়, ‘ছটে বিহারে একদিন ছুটি। আমি দু’দিন দিয়েছি।’ পুজোয় সরকারি অফিসের ছুটিতে কবেই রাজ্য নিজের রেকর্ড ভেঙেছে। গত পুজোয় টানা ১৬দিন অফিস কাছারি বন্ধ ছিল।

ছুটি সংস্কৃতির আমাদের মন জগতে কীভাবে অধিষ্ঠান করছে তার একটি নমুনা গত বছর পুজো চলাকালীন প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বেশ সুন্দর ধরা আছে। তাতে বলা হয়, ‘চলতি বছর সবে হয়েছে দেবীর বোধন। বাঙালির হাতে এখনও তিনদিন। কিন্তু তার আগেই হাতে চলে এসেছে বাইশের পুজোর নির্ঘণ্ট। তবে দুঃসংবাদ একটাই আগামি বছর পুজোর অর্ধেক দিন নষ্ট হবে জাতীয় ছুটির কারণে। প্রকাশিত নির্ঘণ্ট অনুযায়ী ২০২২-এ সপ্তমী ২ অক্টোবর। সেদিন আবার গান্ধী জয়ন্তী এবং রবিবার। ষষ্ঠী অর্থাৎ দেবীর বোধন পয়লা অক্টোবর অর্থাৎ শনিবার। এদিন থাকে সরকারি ছুটি। অর্থাৎ একসঙ্গে নষ্ট একাধিক ছুটি। লক্ষ্মীপুজো আবার ৯ অক্টোবর মানে সেই রবিবার, নষ্ট ছুটি। তবে ২০২২-এ কালীপুজো সোমবার ২৪ অক্টোবর। অর্থাৎ টানা তিন দিন ছুটি পাবে বাঙালি। দুর্গাপুজোর ছুটি নষ্টের সান্ত্বনা কালীপুজোয় তুলে নিতে পারবে বাংলা।’

অর্থাৎ অফিস বন্ধ থাকাটাই যেন স্বাভাবিক। ফলে শাসকের মোদ্দা কথা, কিছু না পারি, ছুটি তো দিতে পারি। আর কে না জানে, মুখে যে যাই বলুক, ছুটি পেলে কে না খুশি। ছুটি ঘিরে মানুষের সুবিধাবাদী ভাবনা, স্বার্থপরতা ইত্যাদি নিয়ে একটি অভিজ্ঞতা বিনিময় এখানে প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

মাদার টেরিজা তখন শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি। তাঁর মেডিক্যাল বুলেটিন ঘিরে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার পারা ওঠানামা করছে। সংবাদপত্রের অফিসে ফোন করে অনেকেই শারীরিক অবস্থা জানতে চাইছেন। নিয়ম করে রাত ন’টা-সাড়ে ন’টা নাগাদ একজনের ফোন আসত যিনি একটু বিশদেই মাদারের শরীর-স্বাস্থ্যের কথা জানতে চাইতেন। মনে মনে ভাবলাম, মাদারের এমন ভক্তদের নিয়ে একটা সুন্দর খবর হতে পারে। একদিন তাই কথায় কথায় জানতে চাইলাম তাঁর পরিচয়, কোথায় থাকেন, বাড়িতে কে কে আছেন, ইত্যাদি।

ভদ্রলোক সরকারি কর্মচারী। কলকাতায় ফ্যামিলি নিয়ে থাকেন। উত্তরবঙ্গের এক শহরে আদি বাড়িতে একাই থাকেন মাদারেরই বয়সি অসুস্থ বৃদ্ধা মা। এসব শুনে আমি ভাবছি, হয়তো মাদারের সঙ্গে জন্মদাত্রী মায়ের অসুস্থতাও ভদ্রলোককে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। আলাপ জমে যাওয়ায় তিনি অকপটে বললেন, আসলে এক-দু’দিনের জন্য দিঘা যেতে চাই। মাদারের ব্যাপারটা (চোখ বুঝলে) মিটে গেলে সেই ছুটিটায় ঘুরে আসব ভাবছি।

এমন মানুষেরা এখনও আছেন। সরকার জানে, এরাই সংখ্যায় বেশি। আর সংখ্যাকে খুশি করাই তো সু-শাসনের মানদণ্ড ধরা হয়ে থাকে। ন্যায্য-অন্যায্য, ভাল-মন্দ বিচার-বিশ্লেষণ, পাঁচজনের মতামত নেওয়া এ সবের বালাই উঠে গেছে। স্কুলের ইউনিফর্মের রং থেকে গরমের ছুটি, সিদ্ধান্ত একজনের। গরমের ছুটি এগিয়ে আনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে শিক্ষামন্ত্রীর মতামতও গুরুত্ব পায়নি, একথা এখন আর গোপন নেই। সম্ভবত সরকারি সিদ্ধান্তটি তিনিও সংবাদমাধ্যম থেকে জেনেছেন।

কিন্তু সরকারি ঘোষণা ঘিরে অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী, পড়ুয়ার প্রতিক্রিয়া শুনে বোঝা যায়, প্রায় কেউই চায়নি, শিক্ষাঙ্গনে এখন তালা পড়ুক। পরিচিত তথাকথিত ছুটি বিলাসী মানুষের মুখেও ভিন্ন কথা শুনেছি। বিগত কয়েক বছর যাবৎ নানা অনাচারের পাশাপাশি শিক্ষামহলে আর এক দুশ্চিন্তা, আতঙ্ক গ্রাস করেছে, তাহল, এই বুঝি তালা পড়ে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছুটির আতঙ্ক!

নবান্নের ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা আগে দাবদাহের কথা মাথায় রেখেও শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেছিলেন, ‘আবহাওয়া দফতর বলেছে, সোম-মঙ্গলবারের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। আমরা ওই দুটো দিন সিচিউয়েশনটা একটু দেখে নিতে চাইছি। যদি প্রয়োজন বুঝি তাহলে গরমের ছুটি এগিয়ে আনতে হবে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, দু’বছর প্যানডেমিকের কারণে স্কুল বন্ধ ছিল। এখন যখন পুরো প্রক্রিয়াটাই আবার নড়েচড়ে বসেছে, ছেলেমেয়েদের স্বাভাবিক পাঠাভ্যাস ফিরে আসছে, সেই প্রেক্ষিতটাও আমরা মাথায় রাখছি। পুরোটাই আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে জানাচ্ছি।’

বাস্তবে দেখা গেল, সরকারি ঘোষণায় শিক্ষামন্ত্রীর ভাবনার ছাপ নেই। নাই থাকতে পারে। প্রশাসনে মুখ্যমন্ত্রীই শেষ কথা, একথা মেনে নিয়েও বলতে হয়, তিনিই বা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছলেন কীভাবে? অনুমান করা যায়, কথায় কথায় ‘হ্যাঁ ম্যাডাম’, ‘ইয়েস ম্যাডাম’, ‘ডেফিনিটলি ম্যাডাম’ বলা বশংবদ আমলাকূলের পরামর্শ মেনে এই সিদ্ধান্ত, যাঁরা বুঝে গিয়েছেন, কোন ক্ষেত্রে ‘হ্যাঁ’ আর কোন ক্ষেত্রে ‘না’, দুটোই মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ভাবনার সঙ্গে খাপ খেয়ে যাবে।

সরকারের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গরমের ছুটি বরাদ্দ ছিল ২৪ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত। অর্থাৎ টানা ১২ দিন স্কুল বন্ধ রাখার কথা হয়েছিল। এখন সেটাই বেড়ে হয়েছে দেড় মাস বা ৪৫ দিন।

শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, দেশের গোটা দশেক রাজ্য গরমের ছুটি এগিয়ে এনেছে। তবে সেই রাজ্যগুলি প্রায় প্রতি বছরই তা করে থাকে। তাদের স্কুল ক্যালেন্ডার সেই মতো তৈরি করা হয়, যাতে পঠনপাঠনের সমস্যা না হয়। আবার পড়শি রাজ্য ওড়িশা পাঁচ দিনের জন্য স্কুল বন্ধ রেখে ফের চালু করে দিয়েছে আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ায়। এ রাজ্যেও অতীতে গরমের ছুটি এগিয়ে আনা, মেয়াদ বৃদ্ধি ইত্যাদি করা হয়েছে।

কিন্তু বিগত বছরগুলির তুলনায় এবার পরিস্থিতি জনিত পার্থক্যটা বিবেচনায় রাখা জরুরি ছিল, যে কথা শিক্ষামন্ত্রী আগের দিন বলেছিলেন। অর্থাৎ করোনার জন্য টানা দু-বছর স্কুল বন্ধ ছিল। বাড়ি বসে অনলাইন ক্লাস, টিভির পর্দায় পঠনপাঠন এসব দুর্যোগ-দুর্বিপাকে বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে মন্দ নয়। কিন্তু কখনই তা সরকারি ক্লাস রুমের বিকল্প হতে পারে না। তা যদি হত, তাহলে ইওরোপ, আমেরিকা করোনা প্যানডেমিকের অপেক্ষায় না থেকে অনেক আগেই স্কুল-কলেজের পাট তুলে দিয়ে অনলাইন ক্লাসকেই শিক্ষার প্রধান মাধ্যম করে ফেলত।

গরমের ছুটি এগিয়ে আনায় তাৎক্ষণিক যে সমস্যাগুলি সামলে আসছে সেগুলিকে একটু চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক।

• ৭ মে অবধি ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের প্রারম্ভিক মূল্যায়ন পরীক্ষার কথা ছিল। এখন যেটা ১৫ জুনের পর হবে, ফলে শিক্ষাবর্ষের দিন কমে গেল।

• আগামী বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা এখন দশম শ্রেণিতে পড়ছে। কোভিডের কারণে এরা অষ্টম ও নবম শ্রেণি স্কুলে বসে পরীক্ষাই দেয়নি। শেষ পরীক্ষা দিয়েছিল ২০১৯-এ, সপ্তম শ্রেণিতে। ফলে তাঁদের প্রস্তুতি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত।

• একাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের ইদের ছুটির পরই ক্লাস শুরুর হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। আগামী বছর তারা উচ্চ মাধ্যমিক দেবে। ছুটি পড়ে যাওয়ায় বার্ষিক প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা স্থগিত হয়ে গেছে। তারা মাধ্যমিক পরীক্ষাও দেয়নি। একাদশে সেভাবে কোনও প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসও হয়নি।

• স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের ফাইনাল সেমেস্টার যারা মে মাসের শেষে বা জুনে দিত, তাদের ক্যাম্পাসে তিন সপ্তাহের ক্লাস ও প্র্যাকটিক্যাল বা ল্যাব বন্ধ হয়ে গেল। ফলে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের অনলাইন পরীক্ষার দাবি উঠবে।

• মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ২২০দিনের ক্লাস হওয়ার তিনবার সামেটিভ পরীক্ষা ছাড়াও তাতে ১৮০ দিন শুধু ক্লাসে পড়াশোনা হওয়ার কথা। এবার গরমের ছুটি ৪৫ দিন হওয়ায়, তার ধারে কাছে ক্লাস পৌঁচ্ছোবে না।

• আইসিএসই-সিবিএসই অনলাইনে ক্লাস চালু করছে ২ মে থেকে। ফলে তাঁদের পড়ুয়ারা অনেকটাই কম ক্ষতির মুখে পড়বে।

• মিড মিল নির্ভর পড়ুয়াদের জন্য ছুটি এখন এক অভিশাপ। মিড-ডে মিলের চাল-ডাল বাবা-মায়ের হাতে দিলে তাতে অনেকগুলি হাত ভাগ বসাবে, স্কুলে যা পুরোটাই শিশু পায়। সুপ্রিম কোর্ট রান্না করা খাবার দেওয়ার কথাই বারে বারে বলেছে।

• কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের বয়সি বহু ছেলেমেয়ে চাকরি, ব্যবসা করে। গরমের কারণে তাঁদের ঘরে বসে থাকার উপায় নেই। আবার বেরতে হচ্ছে বলে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ছে তাও নয়। প্রকৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াও একটা শিক্ষা। তা থেকেই সভ্যতা এগোয়।

গরমের ছুটি এগিয়ে আনার আগে পরিস্থিতি জনিত কিছু গুণগত পরিবর্তনকেও বিবেচনায় রাখা যেতে পারত। ভারত সরকারের ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্যাল অর্গানাইজেশন দু-বছর আগের সমীক্ষা রিপোর্টে বলেছে, দেশের প্রায় ৯৩ শতাংশ স্কুল পড়ুয়ার বাড়ি থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে স্কুল আছে। সেকেন্ডারি স্কুলের ক্ষেত্রে গড় দূরত্ব দেড় কিলোমিটারের মতো। নিশ্চয়ই পশ্চিমবঙ্গ এর বাইরে নয়। সবুজসাথীর সাইকেলেক সুবাদে বিপুল সংখ্যক ছেলেমেয়ের কাছে সেই দূরত্বটাও কিছুই নয়। রাজ্য সরকারের দাবি, প্রায় এক কোটি ছেলেমেয়ে সাইকেল পেয়েছে। সবুজসাথী প্রকল্পের আসল সুবিধাটাই সঠিক সয়ম ব্যবহার করা হল না।

ছুটি এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও অনেক বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করা যেত। সর্বশিক্ষা অভিযান কিংবা সার্বিক শিক্ষা অভিযানের কল্যাণে এখন বেশিরভাগ স্কুলের পাকা বাড়ি। পর্যাপ্ত না হলেও আছে পানীয় জল, শৌচাগারের ব্যবস্থা। আছে মাথার উপর পাখা, আলোর ব্যবস্থা। বাস্তব হল, অনেক পড়ুয়ার বাড়িতে সেই সুবিধাটুকু নেই। বছর কয়েক আগের হিসাব অনুযায়ী, ৪০ শতাংশ ভারতীয় পরিবার এক কামরায় বাস করে। বাড়িতে শৌচাগার নেই। নেই বিদ্যুৎ। ফলে স্কুল চালু থাকলে ছেলেমেয়েরা সবচেয়ে তপ্ত সময়টায় পাঁচ-ছয় ঘণ্টা অন্তত খানিক আরামে কাটাতে পারত। সঙ্গে ক্লাস রুমে বসে পড়াশুনো তো আছেই।

আরও যে বিষয়গুলি বেমালুম এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে তা হল, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রকৃতির খামখেয়ালিকে সঙ্গী করেই আমাদের বাঁচতে হবে। যেমন করোনার দিনক্ষণ ঘোষণা করা যাবে না। প্রকৃতির সঙ্গে, সংক্রামক ব্যধির সঙ্গে মানিয়ে চলার শিক্ষা এখন স্কুলে-কলেজে আবশ্যিক পাঠ হওয়া দরকার। এই সময়টাই ছিল তার জন্য আদর্শ। জুন-জুলাই নাগাদ ফের করোনা হানা দেবে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হয়তো তখন আবার করোনার কারণেই শিক্ষাঙ্গনে তালা ঝোলাতে হবে। অথচ ছেলেমেয়েদের প্রতিকূলতাকে মোকাবিলার শিক্ষা দেওয়াটাই এখন আশু কাজ ছিল।

এসব বিষয়ই আলোচনায় আসতে পারত, যদি সিদ্ধান্তটি গ্রহণের আগে শিক্ষক সংগঠন, অভিভাবক ফোরাম, শিক্ষা-প্রশাসক, শিক্ষা-সংগঠক, বিশেষজ্ঞ, প্রমুখের মতামত নেওয়ার চেষ্টা হত। সে সবের পাট চুকে গিয়েছে। হতে পারে, আমরা নির্বোধ, বুঝতেই পারছি না যে, সরকারের সাশ্রয়ের পথে হাঁটছে। শিক্ষাঙ্গন বন্ধ থাকলে গড়ে হয় শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের , বড়োজোর বেতনটুকু দিলেই চলবে, জল, বিদ্যুতের বিল মেটাতে হবে না। মিড-ডে মিলের জ্বালানির খরচ বেঁচে যাবে। চুলোয় যাক শিক্ষা।

দেড় দশক ধরে নিখোঁজ মা, শিলিগুড়িতে কুশপুতুল বানিয়ে সৎকার করলেন তিন ছেলে

You might also like