Latest News

এই বাজেটে প্রাণ পাবে মহামারী

কোভিড অতিমহামারী (Covid Pandemic) এখনও শেষ হয়নি। কয়েকদিন বাদেই উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে ভোট হবে। অনেকে ভেবেছিলেন এবারের কেন্দ্রীয় বাজেট (Central Budget) হবে ভোটমুখী। কেউ কেউ আশা করেছিলেন, কোভিডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে কিছু সহায়তা দেওয়া হবে। কিন্তু কোনও প্রত্যাশাই পূরণ হল না এই বাজেটে। একে ভোটমুখী বাজেট বলা যাবে না। আবার, কোভিড অতিমহামারীর ক্ষয়ক্ষতি দূর করার জন্যও তেমন কোনও প্রস্তাব নেই। মোটের ওপরে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার পথেই হাঁটল মোদী সরকার। ফলে করোনা কমলেও মহামারী দুর হওয়ায় আশা কম। বরং আর্থিক দুর্দশা মানুষকে আরও বেশি বিপর্যস্ত করে তুলবে। প্রাণ পাবে মহামারীই।

অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, করোনা অতিমহামারীর ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে অর্থনীতি। ২০২২-২৩ সালে আর্থিক বিকাশের হার হবে সম্ভবত ৯.২৭ শতাংশ। নির্মলার দাবি, এবারের বাজেটে যুবক, মহিলা, কৃষক ও তফসিলী জাতি-উপজাতির মানুষজন উপকৃত হবেন। কীভাবে উপকৃত হবেন তিনি স্পষ্ট করে বলেননি।

বাজেটে এমন কিছু নেই যাতে বলা যায়, সমাজের ওই সব অংশের মানুষের খুব লাভ হবে। ইনক্লুসিভ ডেভলপমেন্ট অর্থাৎ সকলকে উন্নয়নের ভাগ দেওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রী মাঝে মাঝেই বলে থাকেন। নির্মলা তারই পুনরাবৃত্তি করেছেন মাত্র।

বাজেটে মধ্যবিত্তের নজর থাকে করছাড়ের দিকে। কিন্তু এবার সেক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য কোনও প্রস্তাব দিতে পারেননি অর্থমন্ত্রী। বিনিয়োগ ও বিলগ্নিকরণের ব্যাপারে অবশ্য জোর দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করেছেন, এয়ার ইন্ডিয়ার বিলগ্নিকরণের কাজ শেষ হয়েছে। নীলাচল ইস্পাত নিগম লিমিটেড বিক্রির জন্য উপযুক্ত ক্রেতা পাওয়া গিয়েছে। একইসঙ্গে উল্লেখযোগ্য হারে পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ও ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার বৃদ্ধি করার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। গতি শক্তি প্রকল্পের অধীনে পরিকাঠামোয় বড় অঙ্কের বেসরকারি বিনিয়োগের কথাও বলেছেন।

অর্থমন্ত্রী দাবি করেছেন, এবারের বাজেটে আগামী ২৫ বছরের ব্লু প্রিন্ট রয়েছে। সেই ‘ব্লু প্রিন্ট’ যদি এমন দিশাহীন হয়, তাহলে খুবই চিন্তার কথা। অর্থমন্ত্রী বিলগ্নিকরণকেই সরকারের বিরাট সাফল্য বলে দাবি করেছেন। কিন্তু ঘরের সম্পত্তি বিক্রি করা কীভাবে সমৃদ্ধির সূচক হতে পারে?

অতিমহামারীর মধ্যে দেশের বেশিরভাগ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অর্থনীতিবিদরা বলেছিলেন, তাঁদের হাতে কাঁচা টাকা দেওয়া হোক। তাহলে বাজারে চাহিদা বাড়বে। অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। মধ্যবিত্তদের করছাড় দিলেও বাজারে চাহিদা বাড়ত। অর্থমন্ত্রী সেপথে হাঁটেননি।
ইতিমধ্যে সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, করোনাকালে অতি ধনীদের সম্পত্তি কমেনি, বরং বেড়েছে। অতিমহামারীর মধ্যে তাঁরা বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন। তাঁদের ওপরে বাড়তি ট্যাক্স বসালে ভাল হত। সেই অর্থ জনস্বার্থে ব্যয় করা যেত। নির্মলা সেই সাহস দেখাতে পারেননি।

You might also like