Latest News

সিউড়ির দুর্গা

গতকাল, ২৫ জুলাই ছিল ওয়ার্ল্ড এমব্রায়োলজিস্ট ডে (World Embriologist Day)। ৪৪ বছর আগে এই দিনে ব্রিটেনে জন্ম নিয়েছিল বিশ্বের প্রথম নলজাত কন্যা (Test Tube Baby) লুইস ব্রাউন (Louis Brown)। ওই বছরই মাত্র আড়াই মাসের মাথায়, বিশ্বের দ্বিতীয়, তথা ভারতের প্রথম নলজাতক কানুপ্রিয়া আগওয়াল ওরফে দুর্গা (Durga) জন্ম নেয় কলকাতায় (Kolkata)। প্রসব হয়েছিল বেসরকারি হাসপাতালে। তবে যে চিকিৎসকের অধ্যাবসায়ে ৪৪ বছর আগে দেশ এমন অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছিল, সেই সুভাষ মুখোপাধ্যায় (Dr. Subhas Mukherjee) গবেষণা এবং নলের মধ্যে ভ্রণের জন্মদানের কাজটি করেছিলেন সরকারি প্রতিষ্ঠান এনআরএস হাসপাতালে। কিন্তু তৎকালীন সরকার এবং তাঁর সহকর্মীদের বেশিরভাগই তাঁর সে কৃতিত্ব মানতে চাননি। চরম হতাশায় আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তিনি। তপন সিংহের ‘এক ডক্টর কি মৌত’ সিনেমাটি সেই হতভাগ্য চিকিৎসকের মর্মান্তিক পরিণতির কাহিনি।

পরবর্তীকালে দেশ-বিদেশের নানা প্রতিষ্ঠান যদিও মেনে নিয়েছে, সুভাষ মুখোপাধ্যায় শুধু সাফল্যের সঙ্গে কাজটি করেছিলেন তাই-ই নয়, তাঁর উদ্ভাবিত পদ্ধতিটি ছিল তুলনামূলকভাবে সহজ এবং সুলভ।

বীরভূমে প্রথম টেস্ট টিউব বেবির জন্ম! দুরন্ত সাফল্য জেলার হাসপাতালের

গত শুক্রবার বীরভূমের সিউড়ির বেসরকারি নার্সিংহোমে জন্ম নেয় এক টেস্ট টিউব কন্যা। স্বভাবতই সদ্যজাতর বাবা-মা খুশি। তাঁদের এই আনন্দের আসল কারিগরও এক চিকিৎসক এবং অবশ্যই সেই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানটি।

নিঃসন্দেহে এটি একটি খুশির খবর। যা একই সঙ্গে কিছু জরুরি প্রশ্নের মুখেও আমাদের দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। তা হল, কলকাতায় দুর্গার জন্মের পর দু’শো কিলোমিটার দূরের সিউড়িতে সেই একই প্রযুক্তি পৌঁছতে ৪৪ বছর কেটে গেল কেন?

এই প্রশ্নের জবাব দেওয়ার দায় অবশ্যই চিকিৎসক দেবাশিস দেবাংশী বা নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের নয়, বরং আমাদের সকলের। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা এবং সাহস করে এগোনোর জন্য প্রশংসা প্রাপ্য। প্রশংসা প্রাপ্য সেই দম্পতি মিঠু রায় সামন্ত এবং অসিত কুমার সামন্তের, যাঁরা জেলা সদরের ওই নার্সিংহোম ও চিকিৎসকের উপর আস্থা রেখেছিলেন। কারণ, এই জাতীয় ক্ষেত্রে মানুষ কলকাতা তো বটেই, দিল্লি, মুম্বই চেন্নাই ছুটে থাকেন।

প্রযুক্তির প্রশ্নে টেস্ট টিউব বেবির জন্ম দেওয়া এখন চিকিৎসা বিজ্ঞানের কাছে জলভাত হয়ে গিয়েছে। কিন্তু চিকিৎসার সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে যে অসাম্য বিরাজ করছে, তা দূর করা চিকিৎসক বা চিকিৎসা বিজ্ঞানীর কাজ নয়।

সিউড়ির খবরটি এই কারণেই বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। আমাদের জেলাগুলিতে চিকিৎসার পর্যাপ্ত সুবিধার অভাব আছে। এখনও সব জেলায় বাইপাস সার্জারির সুবিধা নেই। নেই অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা। তবে আশার কথা, সরকারি, বেসরকারি, দুই ক্ষেত্রেই উদ্যোগ শুরু হয়েছে চিকিৎসার আধুনিক ব্যবস্থাগুলি জেলার দুয়ারে পৌঁছে দেওয়ার।

তবে সমস্যা আরও আছে। যে সুবিধা টুকু আছে তার উপর মানুষের আস্থা-ভরসার অভাব। খাস কলকাতাও এই সমস্যা থেকে মুক্ত নয়। মহানগরীতে সরকারি হাসপাতালে ভর্তিতে মানুষের প্রথম পছন্দ এসএসকেএম হাসপাতাল। কারণ, নেতা-মন্ত্রীরা কদাচিৎ সরকারি হাসপাতালে গেলে তাঁদের একমাত্র পছন্দ ওই সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালটি। সাধারণ নাগরিককে তাই কাঠগড়ায় তোলার সুযোগ নেই।

সিউড়ির হাসপাতালে টেস্ট টিউব বেবির জন্ম কলকাতামুখী স্রোতে কিছুটা হলেও লাগাম দেবে। সরকারের পাশাপাশি আরও বেশি করে বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান জটিল অসুখবিসুখের চিকিৎসা এবং টেস্ট টিউব বেবি জন্ম দেওয়ার ব্যবস্থা করলে রাজ্যের মঙ্গল।

You might also like