Latest News

সরকার ফেলতে এত উৎসাহ কীসের

গত শনিবার হাওড়ার পাঁচলায় ঝাড়খণ্ডের তিন বিধায়ক গ্রেফতার হন (3 MLA Arrested)। তাঁরা হলেন, জামতাড়ার বিধায়ক ইরফান আনসারি, খিরজির বিধায়ক রাজেশ কাছাপ এবং কোলেবিরার বিধায়ক নমন বিক্সাল। তাঁদের কাছে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা পাওয়া যায়।

প্রথম থেকেই অভিযোগ উঠছিল, ঝাড়খণ্ডের সরকার ভাঙার জন্য তাঁদের ওই অর্থ দেওয়া হয়েছে। পরে শোনা যাচ্ছে, সিআইডি-র জেরায় নাকি তাঁরা নিজেরাও সেকথা মেনে নিয়েছেন।

Image - সরকার ফেলতে এত উৎসাহ কীসের

এক্ষেত্রে অসমের এক ‘প্রভাবশালী রাজনীতিকের’ কথা শোনা যাচ্ছে। তিনি নাকি গুয়াহাটিতে বসে ঝাড়খণ্ডে সরকার ফেলার পুরো অপারেশনটা চালাচ্ছেন।

ইতিমধ্যে মধ্যপ্রদেশ, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র ও আরও কয়েকটি রাজ্যে বিধায়ক ভাঙিয়ে সরকার ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সেখানে বিদ্রোহীরা বিজেপিকে সমর্থন করেন। নরেন্দ্র মোদীর দল রাজ্যগুলি দখল করে নেয়।

সংবিধান অনুযায়ী জনপ্রতিনিধিরা জনতার কাছে দায়বদ্ধ। তাঁরা সংবিধান মেনে মানুষের সেবা করবেন। কিন্তু জনপ্রতিনিধিরা যদি টাকার বিনিময়ে দলবদল করেন, তাহলে গণতন্ত্রের মূল স্পিরিটটাকেই নষ্ট করা হয়। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রহসনে পরিণত হয়।

সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, কোনও রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যে দলকেই ভোট দিন না কেন, ক্ষমতায় আসছে বিজেপিই। সেজন্য তারা টাকা ছড়াচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বিজেপিকে টাকা জুগিয়ে যাচ্ছেন। এই টাকা তাঁরা পরে বাজার থেকে তুলবেন। অর্থাৎ সরকার ভাঙাগড়ার দাম সাধারণ মানুষকেই দিতে হবে।

বিরোধীরাও অবশ্য ধোয়া তুলসীপাতা নন। গেরুয়া ব্রিগেডের এই ‘সরকার ভাঙার খেলা’ নিয়ে এখন সবচেয়ে সরব কংগ্রেস। কিন্তু ক্ষমতায় থাকার সময় তারাও একই ‘খেলা’ খেলেছে। ইন্দিরা গান্ধীর আমলে পরপর অনেকগুলি রাজ্যের সরকার ফেলে দেওয়া হয়েছিল। ৫০-৬০ বছর আগে এত তদন্তকারী সংস্থা ছিল না, জোচ্চুরি ধরে ফেলার জন্য নানারকম যন্ত্রপাতিও আবিষ্কার হয়নি। তাই কীভাবে সরকার ফেলা হয়েছিল, তা অজ্ঞাত রয়ে
অবশ্য অতীতের সঙ্গে এখনকার একটা গুরুতর পার্থক্য আছে। একসময় কংগ্রেস দেশ জুড়ে শক্তিশালী হওয়ার জন্য বিরোধী দলের সরকার ফেলে দিত।

কংগ্রেস নেতারা যখন আশঙ্কা করতেন, কোনও দল তাঁদের একাধিপত্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে, তার ধ্বংসের জন্য সবরকম চেষ্টা করতেন। পাঁচের দশকের শেষদিকে জহরলাল নেহরু ভেবেছিলেন, দেশে কমিউনিস্ট মতাদর্শ ছড়িয়ে পড়লে তাঁর সরকার বিপদে পড়তে পারে। তাই কেরলে ই এম এস নাম্বুদ্রিপাদের সরকারকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার এখন বিভিন্ন রাজ্যে সরকার ফেলার জন্য এত উৎসাহ দেখাচ্ছে কেন? আপাতত মোদী সরকারের সামনে কোনও বিপদ নেই। তারপরেও সব রাজ্যে ক্ষমতা দখলের জন্য বিজেপির এই মরিয়া চেষ্টা কেন?

অনেকে বলছেন, হিন্দুত্বের অ্যাজেন্ডা রূপায়ন করতে হলে বিজেপির আরও ক্ষমতা চাই। কথাটা সত্যি বলে মনে হয় না। হিন্দুত্বের অ্যাজেন্ডার সিংহভাগ ইতিমধ্যে কাজে পরিণত করা হয়েছে। মোদী ক্ষমতায় থাকলে বাকিটাও হয়ে যাবে। বিরোধীরা বিশেষ কিছু করতে পারবেন বলে মনে হয় না।

মনে হয়, মোদী দেশে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হতে চান। বিপুল জনাদেশ পেয়ে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসেও তাঁর মন ভরেনি। তিনি আরও ক্ষমতা চান। সংবিধানসম্মত পথে ক্ষমতায় এসে তিনি চান একনায়ক হতে।

আমাদের প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কাতেও অনেকটা এইরকম হয়েছিল। বিপুল জনাদেশ পেয়ে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন গোটাবায়া রাজাপক্ষে। সংবিধান সংশোধন করে বিপুল ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছিলেন। সবসময় চাটুকাররা তাঁকে ঘিরে থাকত। মিডিয়াও তাঁর সমালোচনা করতে ভুলে গিয়েছিল।

তার পরিণতি কী হয়েছে সকলের জানা। শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। গোটাবায়া দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। মোদী এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে পারতেন। কিন্তু ক্ষমতার মোহ মানুষকে এমন অন্ধ করে দেয় যে তারা সত্যটা দেখতে পায় না। অপরের থেকে শিক্ষাও নিতে পারে না।

আরও পড়ুন: ক্রস ভোটিংয়ের কলঙ্ক

You might also like