Latest News

জনগণের বকেয়া

টাকার অঙ্কটা বিশাল। প্রায় এক লক্ষ কোটি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের নানা প্রকল্পে ওই পরিমাণ টাকা কেন্দ্রের কাছে প্রাপ্য হয়েছে (Due Money)। কিন্তু নরেন্দ্র মোদীর সরকার সেই অর্থ দিচ্ছে না।

গত শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী দিল্লিতে মোদীর সঙ্গে দেখা করেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে মমতার অনুরোধ, রাজ্যের পাওনা মেটানোর জন্য তিনি যেন হস্তক্ষেপ করেন। তাঁর হিসাবমতো ২০২২ সালের ৩১ জুলাই অবধি পশ্চিমবঙ্গের পাওনা হয়েছে ১ লক্ষ ৯৬৮ কোটি ৪৪ হাজার কোটি টাকা।

এর আগে ১২ মে এবং ৯ জুন মুখ্যমন্ত্রী বকেয়া মেটানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলেন। তাতে উল্লেখ করা হয়েছিল, শুধু ১০০ দিনের কাজ, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা এবং প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় রাজ্যের বকেয়া প্রাপ্যের পরিমাণ ১৭ হাজার ৯৯৬ কোটি ৩২ হাজার টাকা।

Image - সরকার ফেলতে এত উৎসাহ কীসের

অভিযোগ, আমফানে ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রায় ৩২ হাজার ৩১০ কোটি টাকা, বুলবুলে ৬৩৩৪ কোটি টাকা ও ইয়াসে ৪২২২ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এছাড়া চতুর্দশ অর্থ কমিশনের পারফরম্যান্স গ্র্যান্ট বাবদ বকেয়া রয়েছে আরও ১০১৬ কোটি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের জন্য সাধারণত অর্থবর্ষের শেষে টাকা পাঠানো হয়। তাতে অনেক প্রকল্পের কাজ সময়মতো শেষ করা যায় না। এতে গ্রামের গরিবরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।

সাধারণত গরিব ও মধ্যবিত্তরাই সরকারি প্রকল্পের ওপরে নির্ভরশীল হন। কারণ ধনীদের মতো তাঁদের যে কোনও পরিষেবা কেনার সামর্থ নেই। বকেয়া নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের বিরোধও নতুন কিছু নয়। এর আগে বামফ্রন্ট আমলেও বার বার অভিযোগ শোনা যেত, কেন্দ্র সময়মতো রাজ্যের বকেয়া মেটাচ্ছে না। বিশেষত আটের দশকে ‘কেন্দ্র বনাম রাজ্য লড়াই’য়ের কথা খুবই শোনা যেত। তখন কেন্দ্রে শাসক দল ছিল কংগ্রেস। মমতা ছিলেন সেই দলের উদীয়মান নেত্রী, কখনও মন্ত্রী। চার দশক বাদে তিনিই এখন রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষে। কেন্দ্রে প্রধান শাসক দল বিজেপি। কিন্তু রাজ্যের পাওনা নিয়ে বিবাদ, বিরোধ আগের মতোই আছে।

মুখ্যমন্ত্রীর দলের অভিযোগ, তারা বিজেপির প্রতিপক্ষ বলেই কেন্দ্রের বরাদ্দ টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে। রাজনৈতিক কারণেই বিজেপি চায় না, পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়ন হোক। প্রধানমন্ত্রীর পার্টিও পালটা অভিযোগ করছে, রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম বদলে নিজেদের নামে চালাচ্ছে। এভাবে মানুষকে ভুল বোঝানো হচ্ছে।

এই রাজনৈতিক তরজা বাদ দিয়ে একটা কথা বলা যায়, কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যকে টাকা দেয় উন্নয়নের জন্য। তাতে লাভবান হন সাধারণ মানুষ। টাকার আসল মালিকও তারাই। তাদের কল্যাণেই সেই অর্থ বরাদ্দ হওয়া জরুরি।

কেন্দ্রের মতো রাজ্যেও সাধারণ মানুষের ভোটেই সরকার নির্বাচিত হয়েছে। কেন্দ্রে বা রাজ্যে যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, তারা মানুষের স্বার্থে কাজ করতে দায়বদ্ধ। এক্ষেত্রে রাজনীতির প্রশ্ন ওঠা বাঞ্ছনীয় নয়। কোনও জটিলতা থাকা উচিত নয়।

টাকা আটকে দেওয়ার নিয়মের খাঁড়ার অভাব নেই। রাজনীতিতে এই খাঁড়ায় বলি হতে হয় সাধারণ মানুষকে। শুধু বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নন, ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেলও দিন দুই আগের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বকেয়া মেটানোর আর্জি জানিয়ে এসেছেন। সুযোগ থাকলে নিশ্চয়ই আরও অনেক মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দরবার করতেন।

প্রধানমন্ত্রী হলেন সংবিধানে প্রদত্ত নির্বাহী ক্ষমতার প্রধান স্তম্ভ। মুখ্যমন্ত্রীদের সেই একই ভূমিকা পালন করতে হয় রাজ্যে। বাংলা এবং আর অনেক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাই পাওনা অর্থ চেয়ে একাধিকবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে দরবার করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপর তাই বাড়তি দায় বর্তায় বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তিসাধন। কারণ, সরকার চলে জনগণের করের টাকায়। বকেয়া আসলে জনগণের অর্থ। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নরেন্দ্র মোদীকে সর্বাগ্রে এটা খেয়াল রাখতে হবে।

সরকার ফেলতে এত উৎসাহ কীসের

You might also like