Latest News

Covid: কোভিডকে নিয়ে যদি বাঁচতেই হয়

অতিমহামারীর চতুর্থ ঢেউ কি আসছে?
এবারের গ্রীষ্মে এই প্রশ্নটাই ঘুরপাক খাচ্ছে অনেকের মনে। রাজধানী দিল্লি ও তার আশপাশে কোভিড (Covid) সংক্রমণ বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। জানুয়ারির পরে আর কখনও সংক্রমণ এত বাড়েনি। মঙ্গলবার সকালে জানা যায়, শুধু দিল্লিতেই (Covid) আক্রান্ত হয়েছেন হাজারের বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিমহামারী শেষ হয়নি। করোনাভাইরাস নতুন কোনও অভিযোজন ঘটিয়ে দেশের অন্যান্য প্রান্তেও ফিরে আসতে পারে।

মাসখানেক আগে হু থেকেও সতর্ক করে বলা হয়েছিল, কোভিড (Covid) সংক্রমণ আপাতত কমেছে বটে কিন্তু তাতে আত্মসন্তুষ্টির কোনও কারণ নেই। যে কোনও সময় রূপ বদলে ফিরে আসতে পারে ওই ভাইরাস।

শুধু ভারতে নয়, বিশ্বের অপর কয়েকটি প্রান্তেও কোভিডের (Covid) বাড়বাড়ন্ত দেখা যাচ্ছে। যে দেশটি থেকে অতিমহামারী ছড়িয়ে পড়েছিল, সেখানেও বৃদ্ধি পেয়েছে সংক্রমণ। চিনের সাংহাই শহরে লকডাউন জারি করা হয়েছে। বেজিং-এর লোকজনও দ্রুত জরুরি কেনাকাটা সেরে রাখছেন। তাঁদের আশঙ্কা যে কোনও সময় রাজধানীতেও সব বন্ধ করে দেওয়া হবে।

কোভিড সম্পর্কে এখনও অনেক গবেষণা করা বাকি। মাত্র দু’বছর হল রোগটা পৃথিবীতে এসেছে। স্বাভাবিকভাবেই বিজ্ঞানীরা এখনও তার গতিপ্রকৃতি, চরিত্র সম্পর্কে খুব বেশি জানেন না। কিন্তু একটা ব্যাপার পরিষ্কার। এখনই কোভিড বিদায় নিচ্ছে না। আরও অনেকদিন ওই রোগকে নিয়েই আমাদের বেঁচে থাকতে হবে। কীভাবে কোভিডের মোকাবিলা করা যায়, তা আমাদের শিখতে হবে।

এই শেখার পর্বটা ছোটবেলা থেকেই শুরু হোক। কোভিডের তৃতীয় ঢেউ স্তিমিত হয়ে আসার পরে স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া হয়েছে। খুব গুরুতর কিছু না ঘটলে ফের শিক্ষায়তন বন্ধ করা হবে না। কারণ গত দু’বছরে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। এবার স্কুলের পাঠ্যসূচিতেও স্থান পাক অতিমহামারী। শিশুরা শিখুক, কীভাবে একটা রোগ অতিমহামারীর আকার ধারণ করে। কীভাবে কোভিড বা অন্যান্য ছোঁয়াচে রোগ থেকে সতর্ক হতে হয়।

কোভিড অতিমহামারী পৃথিবীতে প্রথম নয়। সম্ভবত শেষও নয়। এর আগে অতিমহামারীতে আমাদের দেশে কোটি কোটি মানুষ মারা গিয়েছেন। তার ফলে গুরুতর সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এত বড় বড় ঘটনার কথা ইতিহাস বইতে যথোচিত গুরুত্ব পায়নি। আমাদের দেশের খুবকম মানুষই ঊনিশ শতকের শেষ দিককার প্লেগ মহামারী বা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে ফ্লু মহামারীর কথা জানে। এমনকি ’৯৪ সালে পশ্চিম ভারতে যে নতুন করে প্লেগ দেখা দিয়েছিল, তাও তরুণ প্রজন্মের বেশিরভাগ জানে না।

ইতিহাসকে যে ভুলে যায়, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করাই তার নিয়তি।
ছাত্রছাত্রীদের ছোট থেকেই জানানো উচিত, নির্দিষ্ট সময় অন্তর বিশ্ব জুড়ে অতিমহামারী দেখা দেয়। তাকে মোকাবিলা করার কয়েকটি প্রচলিত পদ্ধতি আছে। কোনও রোগ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভ্যাকসিন তৈরি হয় না। যতদিন না তৈরি হয়, ততদিন মাস্ক পরা বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার অভ্যাসগুলোই অনেকের প্রাণরক্ষা করতে পারে।

আরও পড়ুন : রাশিয়ার ছোটদের স্কুলে বন্দুকবাজের হামলা! প্রাণ গেল চারজনের

You might also like