Latest News

গ্রুপ ডি নিয়োগে দুর্নীতির পাণ্ডারা যেন শাস্তি পায়

আমাদের রাজ্যে সচরাচর এমনটা হয় না। গত কয়েক বছরে মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া প্যানেল থেকে গ্রুপ ডি কর্মী (Group D stuff) নিয়োগ হয়েছে বিভিন্ন স্কুলে। মধ্যশিক্ষা পর্ষদ বলছে, অনিয়মের জন্য দায়ী স্কুল সার্ভিস কমিশন। অন্যদিকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিশানায় রয়েছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। সব মিলিয়ে বড় ধরনের একটা অনিয়ম যে হয়েছে, তাতে সন্দেহ নেই। অন্তত ৭০০ জন বর্তমানে বেআইনি পথে গ্রুপ ডি-র চাকরি পেয়েছেন। দুর্নীতির বহর দেখে হাইকোর্ট গত সোমবার সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। দোষটা আসলে কার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারাই খুঁজে বার করবেন। ইতিমধ্যে রাজ্যে কয়লা কেলেংকারি, চিটফান্ড ও গরু পাচার নিয়ে কেন্দ্রীয় এজেন্সি তদন্ত চালাচ্ছে। তার সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছে গ্রুপ ডি নিয়োগে কেলেংকারির তদন্ত।
২০১৬ সালে রাজ্য সরকার পোষিত ও সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলিতে চতুর্থ শ্রেণির কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। চাকরিপ্রার্থীদের পরীক্ষার পরে তৈরি হয় প্যানেল। তার ভিত্তিতে ১৩ হাজার জনকে নিয়োগ করা হয়। ২০১৯ সালে সেই প্যানেলের মেয়াদ শেষ হয়। তার পরেও সেই প্যানেল থেকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছিল। তা নিয়েই মামলা হয়েছে। দুর্নীতির বহর দেখে প্রথমে অবাক হয়ে যায় হাইকোর্টও।
২০১৩ সালে মধ্যপ্রদেশে এই ধরনের এক কেলেংকারির কথা শোনা যায়। সেখানে ব্যবসায়িক পরীক্ষা মণ্ডল (সংক্ষেপে ব্যাপম)-এর পরীক্ষার মাধ্যমে ইঞ্জিনিয়ারিং, ডাক্তারি এবং সরকারি চাকরির নানা পদে নিয়োগ করা হয়। কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনীতিক ও সরকারি কর্মীর সাহায্যে সেই ব্যাপমের অন্তত ১৩ টি পরীক্ষায় বড় ধরনের দুর্নীতি করা হয়েছিল। তদন্তে জানা যায়, অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীর বদলে অন্য কেউ পরীক্ষা দিয়েছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীর নামে জমা পড়েছে জাল উত্তরপত্র। এইভাবে অনেকে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছে। ফুড ইনসপেক্টর, পুলিশ কনস্টেবল এবং শিক্ষকের চাকরিও করছে কেউ কেউ।
ব্যাপম কেলেংকারি ফাঁস হওয়ার পরে প্রায় ৪০ জনের রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে। অসমর্থিত সূত্রে মৃতের সংখ্যা ১০০। মৃতদের মধ্যে ছিলেন মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন রাজ্যপালের ছেলে। অভিযোগ, কেলেংকারির কথা ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই সাক্ষী বা সম্ভাব্য সাক্ষীদের মেরে ফেলা হয়েছিল।
আমাদের দেশে কেন্দ্রে বা বিভিন্ন রাজ্যে প্রায়ই নানা কেলেংকারির কথা শোনা যায়। কিছুদিন তা নিয়ে হইচই হয়। রাজনীতিও হয়। তারপর সব ধামাচাপা পড়ে যায়। সেই আটের দশকের শেষের দিকে বফর্স কেলেংকারি নিয়ে খুব হইচই হয়েছিল। তারপরে লোকসভা ভোটে কংগ্রেসের পরাজয় ঘটে। কিন্তু প্রকৃত দোষী কে এখনও জানা যায়নি। ব্যাপম কেলেংকারি নিয়েও সব প্রশ্নের জবাব এখনও অজানা রয়ে গিয়েছে।
গ্রুপ ডি নিয়োগে দুর্নীতি নিয়ে যেন এমন না ঘটে। অযোগ্য প্রার্থীরা যদি ঘুষ দিয়ে চাকরি পায়, তাহলে উপযুক্ত প্রার্থীরা বঞ্চিত হয় তো বটেই, সর্বোপরি সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মদক্ষতা হ্রাস পায়। সেই সঙ্গে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে হতাশা। তারা ভাবে কষ্ট করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া নিরর্থক। কারণ শেষ পর্যন্ত যারা মোটা অঙ্কের ঘুষ দিতে পারবে, তারাই তো চাকরি পাবে।
যুব সমাজের মধ্যে এমন হতাশা ও অনিশ্চয়তার মনোভাব ছড়িয়ে পড়লে সমাজে অশান্তি দেখা দিতে পারে। সেই সম্ভাবনা রোধ করার জন্যও অপরাধীদের শাস্তি হওয়া দরকার।

You might also like