Latest News

Congress: ‘মোদী অপ্রতিরোধ্য’, ‘গান্ধীরা ছাড়া কংগ্রেস অনাথ’—স্রেফ ধারণা

অমল সরকার

ছোটবেলায় বড়দের বলতে শুনতাম, ‘ইন্দিরা গান্ধী যেদিন থাকবেন না, দেশটার সেদিন কী যে দশা হবে!’ নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে নানাজনের কথায় মনে হয় তাঁরা এটা বলাই বাকি রেখেছেন, ‘মোদী ভারতীয় রাজনীতির মেসি।’

প্রাক্তন ও বর্তমান, দুই প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কেই এই ধরনের বক্তব্য আসলে একটি ধারণা। এমন সব ধারণা গড়ে তোলা হয় চমকপ্রদ, পরিকল্পিত কিছু মিথ্যাকে তুলে ধরে। যেমন, ‘গান্ধী পরিবার ছাড়া কংগ্রেস (Congress) অনাথ’—এই বক্তব্যও স্বার্থান্বেষী মহলের তৈরি ধারণা।

প্রথমে ইন্দিরা প্রসঙ্গে আসি (Indian Politics)। তাঁকে নিয়ে ওই কথাটা তখন খুব মনে ধরেছিল। ইন্দিরার স্লোগান (গরিবি হঠাও), বিশ্ব-দরবারে উপস্থিতি, বাচনভঙ্গি, হাঁটাচলা, ব্যক্তিত্ব সব কিছু বড়দের ওই কথাটিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছিল। দেহরক্ষীর হাতে ইন্দিরা নিহত হওয়ার পরের কয়েক বছরের ঘটনাবলি থেকে মনে হয়েছিল, ইন্দিরাকে ছাড়া ভারত অনাথ, এটা সূর্য পূর্ব দিকে ওঠার মতোই সত্য। ইন্দিরার মর্মান্তিক মৃত্যুর পর লোকসভায় রেকর্ড সংখ্যক আসনে জিতে রাজীব গান্ধীর ক্ষমতাসীন হওয়া, তারপর তাঁর একের পর এক ভুল (শাহবানু মামলা, বন্ধ বাবরি মসজিদের তালা খুলে দেওয়া, বোফর্স কেলেঙ্কারির ধাক্কা সামলাতে ব্যর্থ হওয়া, শেষে একদা ঘরের লোক বিশ্বনাথপ্রতাপ সিংয়ের কাছে হার) দেখে অনেকেই বলাবলি করতেন, আজ যদি ইন্দিরা বেঁচে থাকতেন…।

congress
তামিলনাড়ু প্রদেশ কংগ্রেস অফিস

বড় হয়ে নিজেকে প্রশ্ন করে এই প্রশ্নগুলির জবাব পাইনি, ইন্দিরা বেঁচে ফারাকটা সত্যিই কী হত? তাঁর সময়েই তো কংগ্রেসে সবচেয়ে বড় ভাঙনটি হয়েছে, জরুরি অবস্থার মতো কলঙ্ক লেগেছে এবং রাজনীতির অপরাধীকরণ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। ইন্দিরার যে গুণটি রাজীবের ছিল না, সেটিই ছিল তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য—মানুষটি ছিলেন নিপাট সরল-সোজা এবং রাজনীতিতে অপরিপক্ক। তবু দল ও সরকারের শূন্যস্থান পূরণে তাঁকেই বেছে নেওয়া হয়েছিল। কারণ, তিনি ইন্দিরার পুত্র।

রাজীবের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর সনিয়া গান্ধী কংগ্রেস সভাপতির চেয়ারটিতে বসে গেলে নরসিংহ রাও নামে কোনও রাজনীতিকের কথা পরবর্তী ভারত মনে রাখত কি না সন্দেহ আছে। সেই দক্ষিণীর হাতে কংগ্রেস একেবারে বিপন্ন হয়ে পড়েছিল, তাঁর চরম শত্রুও সে কথা বলবেন না।

আবার সনিয়া যখন মনে করেছেন, সীতারাম কেশরীর মতো পার্টি-অন্তঃপ্রাণ প্রবীণকে এক টানে সরিয়ে দিয়ে দলীয় সভাপতির চেয়ারে বসেছেন। ১৯৯৮-এর মার্চ-এপ্রিল মাসের ঘটনা। আক্ষরিক অর্থেই দিল্লি কংগ্রেসের সদর দফতরে রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দলীয় সভাপতি হয়েছিলেন রাজীব-জায়া। সীতারাম শৌচাগারে গেলে সেই ফাঁকে ৬, আকবর রোডে এসে কংগ্রেস সভাপতির চেয়ারটিতে বসেন সনিয়া। ৮২ বছর বয়সি বৃদ্ধ সীতারাম বাইরে বেরিয়ে এসে দেখেন, তাঁর ঘরের নেমপ্লেট বদলে গেছে। ‘সনিয়া লাও কংগ্রেস বাঁচাও’, ‘সনিয়া লাও দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে সরগরম তখন গোটা চত্বর। বৃদ্ধ সীতারামের লাঞ্ছনায় একজনও সেদিন প্রতিবাদ করেননি।

congress
লখনউতে উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেস অফিস

সেই কংগ্রেসে এখন সনিয়া ও তাঁর পরিবারই একঘরে হওয়ার মুখে। আর দলের দশা মালদা-মুর্শিদাবাদের ভাগীরথীর মতো। বিরামহীন ভাঙন। আট বছর আগে মোদী দিল্লির মসনদে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর এ পর্যন্ত কংগ্রেসের ১৭৭ জন প্রথম সারির নেতা দল ছেড়েছেন। ৪৯টি নির্বাচনের মধ্যে কংগ্রেস হেরেছে ৩৯টিতে। মাত্র তিন রাজ্য—রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড়ে তারা একক শক্তিতে ক্ষমতায় আসতে পেরেছিল। এখন তাদের ভাঁড়ারে মাত্র দু’টি রাজ্য— রাজস্থান ও ছত্তিশগড়। আগামী বছর এই দুই রাজ্য হাতছাড়া হয়ে গেলে মোদীর কংগ্রেস-মুক্ত ভারতের স্বপ্ন ষোল আনাই পূরণ হয়ে যাবে। কোনও সন্দেহ নেই, সনিয়া গান্ধীর পার্টি এখন প্রায় সেই পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে।

আরও পড়ুন: সনিয়ার চেয়ারে অ-গান্ধী, অবশ্যই দলিত মুখ, বাঁচাতে পারে কংগ্রেসকে

তারপরেও হয়তো মনসার থানের মতো পার্টিটা থেকে যাবে। সে তো জনতা পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টিও আছে। তাদের সঙ্গে কংগ্রেসের ফারাক হল, কংগ্রেস মুছে গেলেও তার ভাবধারা জিইয়ে থাকবে গ্র্যান্ড অল্ড পার্টি ভেঙে তৈরি তৃণমূল কংগ্রেসের মতো আঞ্চলিক দলের মধ্যে।

আরও পড়ুন: মমতা চাইছেন সনিয়ার পার্টিকে হঠিয়ে লোকসভায় দ্বিতীয় স্থানটির দখল নিতে

এই পরিস্থিতিতে দলত্যাগ এবং গান্ধী পরিবারকে নিশানা করেছেন যাঁরা, সেই চামচা প্রকৃতির লোকগুলিকে নিয়ে যত কম বলা যায়, ততই ভালো। সনিয়ার নেতৃত্বে কংগ্রেস যদি মুখরক্ষার আসন এবং ভোট পেত তাহলেই জি-২৩ বলে কোনও গোষ্ঠীর উদয় হত কিনা সন্দেহ আছে। বরং, রাজ্যসভায় যাওয়ার বাসনা নিয়ে ১০ জনপথে লাইন দিতেন ওই গোষ্ঠীর লোকজনেরা। আশ্চর্যের বিষয়, এই নেতাদের অনেকেই এতকাল বলেছেন, গান্ধী পরিবার ছাড়া কংগ্রেস অনাথ।

congress
পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেস অফিস

যদিও তাঁদেরই একজন, কপিল সিব্বল সাহস করে সনিয়া গান্ধীকে সেচ্ছায় কংগ্রেস সভাপতির পদ ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিতে গিয়ে গাভাসকার, সচিন, বিরাট কোহলির নাম নিয়েছেন। বলেছেন, এঁরাও অন্যদের জায়গা ছেড়ে দিয়েছেন, এমনকি, সফল থাকাকালেই।

সব পেশার মতো রাজনীতিতেও এটা সত্যি, ঘোর বাস্তব। পঁচাত্তর অতিক্রান্ত সনিয়া এতটাই অসুস্থ যে, উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যেও প্রচারে যেতে পারেননি। রাহুলের আমেথি আগেই গিয়েছে, এবার সনিয়ার রায়বরেলিও কংগ্রেস-শূন্য। সনিয়ার বোঝা উচিত, তাঁর সন্তানদের রাজনৈতিক পরিপক্কতার অভাব আছে, নেই নেতৃত্ব দেওয়ার গুণ। এই সহজ সত্যকে পাশ কাটিয়ে কংগ্রেসকে পরিবারের হাতে কুক্ষিগত রাখা আজকের ভারত মানবে কি? সময় বদলে গিয়েছে।

congress
পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস ভবন

সদ্য অনুষ্ঠিত পাঁচ রাজ্যের ভোটে যে তিনজনের সাফল্য নিয়ে তুমুল চর্চা, সেই নরেন্দ্র মোদী, যোগী আদিত্যনাথ এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালরা দলে নিজেরাই নিজেদের নির্মাণ করেছেন। বাবা-কাকার হাত ধরে নেতা হননি। কথাটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আরও অনেকের ক্ষেত্রেও সত্যি। দেখা যাচ্ছে, তাঁরা সফলও হচ্ছেন।

পরিবারতন্ত্র কি কংগ্রেস ছাড়া আর কোনও দলে নেই? পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করা সংস্থা ইন্ডিয়া স্পেন্ড জানিয়েছে, ১৯৯৯ থেকে ২০১৯-এই দুই দশকে কংগ্রেসের নির্বাচিত সাংসদদের ৩৬ জন টিকিট পান পরিবারের সূত্রে। বিজেপির ক্ষেত্রে সংখ্যাটি ছিল ৩১। ফারাক নেই খুব।

আঞ্চলিক দলগুলিতেও দল ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলিতে এক বা দু’টি পরিবারের দাপট। কিন্তু কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপি এবং আঞ্চলিক দলগুলির এই ব্যাপারে ফারাক আছে। বিজেপির জাতীয় বা রাজ্য নেতৃত্বে পরিবারবাদের তেমন নজির নেই। অন্যদিকে, সমর্থনযোগ্য নয় মেনে নিয়েও বলতে হয়, আঞ্চলিক পার্টিগুলিতে পরিবারতন্ত্রের পিছনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবিশেষের দলে বিশেষ অবদান অস্বীকার করার নয়। আজকের কংগ্রেসে সনিয়া-সহ গান্ধীদের কার সে অবদান আছে?

বরং, নরেন্দ্র মোদী, যাঁকে অপ্রতিরোধ্য বলা হচ্ছে, কংগ্রেসের দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই তিনি আজ এতদূর অগ্রসর হতে পেরেছেন। কিন্তু একটু খতিয়ে দেখলেই স্পষ্ট হবে, মোদী আসলে সেই সর্বোচ্চ গোলদাতা যাঁকে অনেক ম্যাচেই শক্ত কোনও ডিফেন্ডারের সম্মুখীন হতে হয়নি। বরং, তাঁর ঝুলিতে যোগ হওয়া গোলের কয়েকটি আসলে প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী গোল। তিনি যে অপ্রতিরোধ্য ম্যাচ উইনার নন, পশ্চিমঙ্গ, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, তেলঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, কেরল, মহারাষ্ট্র— এতগুলি রাজ্যে তা প্রমাণিত। এমনকি, উত্তরপ্রদেশের এই নির্বাচনে কংগ্রেস ভ্যানিস হয়ে গেলেও আসন ও ভোট অনেকটাই বাড়িয়ে নিয়েছে সমাজবাদী পার্টি।

congress
আগরতলায় ত্রিপুরা কংগ্রেস ভবন

কংগ্রেস পারছে না, কারণ দলটি জনবিচ্ছিন্ন। দিন কয়েক আগে সনিয়া লোকসভায় অভিযোগ করেছেন, বিজেপি সামাজিক মাধ্যমগুলির কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে। ব্যর্থতা ঢাকতে তিনি আসলে ছোট সমস্যাকে বড় করে দেখাচ্ছেন। বড় সমস্যাটি হল, কংগ্রেসের সঙ্গে রক্তমাংসের সমাজেরই সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে। কারণ, গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি মানুষের নিত্যদিনের সমস্যা নিয়ে আন্দোলনে নেই।

রাহুল দিন শুরু ও শেষ করেন সামাজিক মাধ্যমে টিপ্পনি কেটে। ফলে রাজ্যে রাজ্যে কংগ্রেস ঘুমিয়ে পড়েছে। দলীয় অফিসগুলি যেন জলসাঘরের জমিদার বাড়ি। সনিয়া, রাহুলদের মনোভাবও তাই। জমিদারি গিয়েছে, জমিদারি মানসিকতা ছাড়তে পারছেন না। নইলে মোদী সরকারের কার্যক্রমের মধ্যে আগ্রাসী সাম্প্রদায়িক রাজনীতির মিশেল, সংখ্যালঘু পীড়ন, তাদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে প্রতিপন্য করা, বেপরোয়াভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিক্রি, সঞ্চয়ে সুদের হার কমানোর মতো জনবিরোধী পদক্ষেপ দেখে বৃহত্তম বিরোধী দলের নেত্রী হিসাবে সনিয়ার উচিত ছিল সমমনোভাবাপন্ন দলগুলির সঙ্গে বোঝাপড়া গড়ে তোলা।

সে পথে হাঁটেননি। দলকেও নামাননি। ফলে মোদী ২০১৯-এ এতটাই নিষ্কণ্টক, বিরোধীশূন্য মাঠ পেয়ে যান যে, বিজেপির মূল কর্মসূচিগুলি মাত্র আট বছরে পূরণ করে দিয়ে তিনি হিন্দুত্ববাদী শিবিরের অবিসংবাদী নেতা হয়ে উঠেছেন।

কিন্তু তামাম ভারতের কাছে তাঁর ক্যারিসমা, নেতৃত্ব যদি সত্যিই অবিসংবাদী হত, তাহলে প্রধানমন্ত্রীকে সভার পর সভায় বিমান নিয়ে ছুটতে হত না। ক্যাপ্টেন মাঠ জুড়ে না খেললে যদি দলের জয় নিয়ে সংশয় থাকে, সেটা তবে অধিনায়কেরও ব্যর্থতা।

কিন্তু মোদী সফল। গোল নিজের বা সেমসাইড, যেটাই হোক না কেন, দিনের শেষে ফলাফলটাই মূল বিচার্য্য। মোদী, যোগীর বিজেপিকে মানুষ ভোট দিয়েছে। বিপদের জায়গাটি হল, তাঁদের যে বক্তব্য মানুষের মন কাড়তে সক্ষম হয়েছে, এক কথায় তা হল ঘৃণার রাজনীতি।

ভোটের বাদ্যি বাজতেই যোগী আদিত্যনাথ বলেন, লড়াই আশি (উত্তরপ্রদেশের জনসংখ্যার প্রায় আশি শতাংশ হিন্দু) বনাম কুড়ি (মুসলিমরা জনসংখ্যার কুড়ি শতাংশ)-র। আশি আমাদের পাশে আছে। কুড়ির সমর্থন না পেলেও চলবে।

যে রাজ্যে প্রতি পাঁচজনে একজন মুসলিম সেখানে বিজেপির একজনও মুসলমান প্রার্থী ছিল না। অমিত শাহর অবাক করা জবাব, আমরা প্রার্থী বাছাই করি যোগ্যতার বিচারে। অর্থাৎ উত্তরপ্রদেশের পাঁচ কোটি মুসলমানের একজনকেও বিজেপি যোগ্য মনে করেনি। স্বাভাবিক ভাবেই যোগীর গদি টিকে যাওয়ায় সেই মানুষগুলি আরও অসহায় বোধ করছেন। বিবিসি-কে একজন বলেছেন, এর থেকে মরে যাওয়া ভালো ছিল। পাঁচ বছর ধরে নির্যাতন ভোগ করেছি। আরও পাঁচ বছর করতে হবে।

কিন্তু বাস্তব নির্মম, ভয়ঙ্কর। মোদী, যোগী বাহবা কুড়োচ্ছেন জাতপাতের ঊর্ধ্বে তাঁরা নাকি হিন্দুদের সংহত করেছেন। বিজেপি উচ্চবর্ণের পার্টি, এই ধারণা তারা মুছে দিতে পেরেছেন, বলছেন গুণমুগ্ধরা।

কিন্তু কোন পথে? বিবিসি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কয়েকজন দরিদ্র মুসলিম মহিলা আক্ষেপ করেছেন, আমাদের পড়শিদের সঙ্গে ভাব-ভালোবাসা নষ্ট হয়ে গেছে। আগে এমন ছিল না।

কিন্তু কে শোনে কার কথা! সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধীদের এটাই রাজনৈতিক অপরাধ যে তাঁরা এই ভারতের হাহাকার, বিলাপ কানে তোলেননি। এই সুযোগে বিজেপির ধর্ম-রাজনীতির গর্ভগৃহ উত্তরপ্রদেশ এখন জাত-সমীকরণের পরীক্ষাগার বানিয়ে নিল।

জলসাঘরের জমিদার শেষ বারের জন্য হলেও জমিদারির রোশনাই জাগানোর একটা চেষ্টা করেছিলেন। সনিয়ারা এক বার তেমন করে ঝাঁপাতেও যেন উৎসাহী নন। এই উদাসীনতা অকারণ নয়। জলসাঘরের জমিদার জমিদারিহীন ও নিঃস্ব। কংগ্রেসের গান্ধীরা জমিদারিহীন, তবে সম্পদের নিরিখে নিঃস্ব নয়।

ব্রিটেনের রাজ পরিবার সেদেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় যে গুরুত্বটুকু পায়, তার সমান্তরালে রয়েছে তাদের বিশাল বাণিজ্য সাম্রাজ্য। দেশেবিদেশে গান্ধীদের সম্পদ ও লগ্নি এখনও বিপন্ন হয়নি। ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলা তো টিপ অব দ্য আইসবার্গ মাত্র। গান্ধীদের তাই দলের রাজনৈতিক জমিদারির জমি হারানো আকাশ ভেঙে পড়ার মতো দুশ্চিন্তা নেই। দলের ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে তাদের তেমন কোনও দায় নেই।

৩৭০ বাতিলের পাশাপাশি কাশ্মীরের তাবড় নেতাদের অবৈধ সম্পদের উৎসমুখে কোপ দিয়েছে মোদী সরকার। জোঁকের মুখে নুন পড়েছে এতে। ভারতকে কংগ্রেসমুক্ত করতে, কফিনে শেষ পেরেকটা পড়বে, যদি গান্ধীদের পারিবারিক সম্পদে হাত পড়ে।

You might also like