Latest News

বাংলাদেশে অশান্তি, সংযমের পরীক্ষা এপারেরও

আশা করা হয়েছিল, দুর্গাপুজোর সময় বাংলাদেশের (Bangladesh) কুমিল্লায় যা ঘটেছে তা বিক্ষিপ্ত ঘটনামাত্র। পরে দেখা গেল, তা নয়। গত ১৩ অক্টোবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দাবি করা হয়, কুমিল্লার এক পুজোমণ্ডপে কোরানের অবমাননা করা হয়েছে। এরপরে চাঁদপুরের হাজিগঞ্জ, চট্টগ্রামের বাঁশখালি ও কক্সবাজারের পেকুয়াতে হিন্দু ধর্মস্থানের ওপরে হামলা হয়। বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী আরও কয়েকটি স্থানে দুর্গাপুজোর মণ্ডপ আক্রান্ত হয়। বাধা দিতে গেলে পুলিশের ওপরে চড়াও হয় উত্তেজিত জনতা।

১৪ অক্টোবর নোয়াখালি জেলায় ইসকনের মন্দির আক্রান্ত হয়। এক ভক্ত নিহত হন। শুক্রবার নোয়াখালির আরও কয়েকটি অঞ্চলে দাঙ্গাহাঙ্গামা ছড়িয়ে পড়ে। এদিন রাজধানী ঢাকাতেও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ বাধে। শনিবার ঢাকায় কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হয়। রবিবার ঢাকা থেকে ১৫৭ কিলোমিটার দূরে ফেনিতে হিন্দু মন্দির ও হিন্দুদের দোকান আক্রান্ত হয়। রংপুর জেলার পিরগঞ্জ উপজেলায় হিন্দুদের কয়েকটি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।

পুজোমণ্ডপে কোরান অবমাননার একটি ভিডিও ফুটেজকে কেন্দ্র করে যে অশান্তি শুরু হয়েছিল, তা ক্রমে বাংলাদেশের এক বড় অংশকে গ্রাস করেছে। কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছেন। তার প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে নানা মহলে। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ইউনিটি কাউন্সিল অনশনে বসার কথা ঘোষণা করেছে। ইসকনের কলকাতার মন্দিরের সহ সভাপতি রাধারমণ দাস রাষ্ট্রপুঞ্জে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেছেন, বাংলাদেশে প্রতিনিধি দল পাঠানো হোক।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কয়েকদিন ধরে হিন্দুদের ঢালাও আশ্বাস দিয়ে চলেছেন। ঢাকায় হিন্দুদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করে তিনি বলেছেন, কুমিল্লায় ঠিক কী ঘটেছিল তা খতিয়ে দেখা হবে। অপরাধীরা যে ধর্মেরই হোক ছাড়া পাবে না। তাদের খুঁজে বার করা হবে।

ইতিমধ্যে ধরপাকড় শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে গ্রেফতার হয়েছে ২০০-র বেশি মানুষ। বিভিন্ন জেলায় পুলিশেও রদবদল চলছে। অভিযোগ উঠেছিল, হাসিনা সরকার প্রথমদিকে দাঙ্গা দমনে তেমন তৎপর হয়নি। সেই নিন্দা ঝেড়ে ফেলতে তৎপর হয়েছেন মুজিব-কন্যা।

বাংলাদেশে অশান্তির আঁচ অবধারিতভাবে পড়েছে পদ্মার এপারে। পুজোর পর থেকেই কলকাতায় শুরু হয়েছে মিটিং-মিছিল। বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে জড়ো হয়েও বিক্ষোভ দেখিয়েছেন অনেকে। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষরা যেমন আছেন, তেমনই আছে হিন্দুত্ববাদী শক্তি। তাদেরই একজন নেতা বলে ফেলেছেন, বাংলাদেশের অশান্তির পরে তাঁরা শান্তিপুরের উপনির্বাচনে বেশি ভোট পাবেন।

পদ্মার ওপারে যা ঘটেছে, তা স্বতঃস্ফূর্ত নয়। তার পিছনে নির্দিষ্ট পরিকল্পনার ছাপ আছে। কোনও একটা শক্তি বাংলাদেশে এবং সেই সঙ্গে ভারতে অশান্তি বাধাতে চায়। তাকে ব্যর্থ করাই এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় দেশপ্রেমিক কাজ। আমাদের এমন কিছু করা উচিত নয় যাতে এপার বাংলাতেও অশান্তি সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদ-বিক্ষোভ সবই হোক, কিন্তু সেখানে যেন সংযম থাকে। কেউ যেন এমন কিছু না বলেন যাতে এখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, দুষ্কৃতীরা গোলমাল বাধানোর সুযোগ পায়।

গত কয়েকদিন ধরে আমরা দেখেছি, বাংলাদেশেও ধর্ম নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ, নাগরিক সমাজ প্রতিবাদে পথে নেমেছে। ঢাকা সহ বিভিন্ন স্থানে সম্প্রীতি মিছিল হচ্ছে। এসবই ইতিবাচক, আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপ।

You might also like