Latest News

Column: প্রতিহিংসায় মানুষকে না জ্বালিয়ে, নিজেদের পোড়ান

হিন্দোল ভট্টাচার্য

শাসকের কোনও আলাদা চরিত্র নেই। শাসক, শাসকই। সে, যে রঙেরই হোক। তার শাসক চরিত্র অটুট থাকে, কারণ মানুষ শাসকের কাছে সমউচ্চতার মর্যাদা পায় না। তাই অলিগলিতে গজিয়ে ওঠে ছোটো ছোটো ক্ষমতাবৃত্ত। কোথাও পঞ্চায়েত নেতা রাজত্ব করে, তৈরি করে সন্ত্রাস আর ভয়ের সংস্কৃতি, আবার কোথাও তার বিরোধী পার্টির ফ্যাসিস্ট নেতা। কিন্তু যদি তাদের ডিএনএ লক্ষ করি, তারা বস্তুত জলাতঙ্কে আক্রান্ত উন্মাদ সারমেয়র মতো। একে অপরের প্রতি হিংসার রক্তচক্ষু নিয়েই আছে। যে কোনও সময় তার বলি হয় সাধারণেরা। যাঁদের মধ্যে এত হিংসা নেই। যাঁরা বাঁচতে চেয়েছিলেন এই নোংরা পৃথিবীতেও।
এটা কোনও কথা নয়, যে, তুমি হিংস্র কুকুর বলে, আমাকেও তাই হতে হবে। আমি তো তোমার মতো নীচে নামতে পারব না শাসককুল, যে তোমার গরগরানি শুনে আমিও ভুলে যাব মনূষ্যকুলেই আমার জন্ম হয়েছে এবং আমি ভালোবাসি অসংখ্য কুকুরকেও, যাঁরা এত প্রতিহিংসাপরায়ণ নন। আমার লালু ভুলুর কথাই বলা যায়। চোর এলেও ডাকে না। চোরের শ্রেণিচরিত্র বোঝার চেষ্টা করে হয়তো। কিন্তু চোর তো তা করে না। (Column)

কথা হল, রামপুরহাট এবং ইউক্রেনের মধ্যে অনেক দূরত্ব। তাদের শাসকদের মধ্যে তুলনা করাই যাবে না। এখানে যদি আইএসএল হয় তো ওখানে প্রিমিয়ার লিগ। অনেকটা ষষ্ঠী দুলে আর রোনাল্ডোর মতো পার্থক্য। কিন্তু প্রকৃতিতে বা চরিত্রে একজন যোগী বা একজন পাড়ার গুন্ডার মধ্যে পার্থক্য আছে কি?
তেমনই পার্থক্য নেই ইউক্রেনের একজন সাধারণ মানুষ যার বাড়ি, পরিবার এক নিমেষে একটি মিসাইলে বিধ্বস্ত হয়ে যাচ্ছে এবং রামপুরহাটের একটি পরিবারের, যারা বলি হচ্ছে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের, যাদের প্রাণ ছিনিয়ে নিল প্রতিহিংসার আগুন।

বলি, তোমরা নিজেদের আগুনে পোড়াও না। আত্মাহুতির নজির তো আছেই। প্রতিবাদে বৌদ্ধ ভিক্ষু নিজেকে পুড়িয়ে দিয়েছিলেন জনসমক্ষে। তুমি তৃণমূল হও বা সিপিএম, বিজেপি হও বা কংগ্রেস, – প্রতিবাদে আত্মবিসর্জন দিতে পার? সে ক্ষমতা আছে? যদি সে ক্ষমতা না থাকে, তবে অন্যের প্রাণ কাড়ছ কেন? মাঝরাস্তায় এস, নিজেকে পোড়াও। দেখি তোমার প্রতিবাদে কত আগুন আছে, যা তোমায় করে তোলে একটি অস্ত্র। সে তো পারবে না। কারণ, তোমাদের প্রতিবাদের গিনিপিগ হয় সাধারণ মানুষ, শিশু, মা, সংসার, মানুষের সাধারণ জীবন। কেন ভাই? ক্ষমতা তোমরা ভোগ করো। ক্ষমতার বিষটাও তোমাদের। কিন্তু জ্বলছে সাধারণ মানুষ। কেন? আত্মাহুতি দাও। প্রমাণ করো তোমরা বিপ্লবী।

কিন্তু তা করবে না। কারণ রাজনৈতিক মঞ্চে যে পার্টিই থাকুক, তারা ক্ষমতার জেরে মানুষকে বোঝে কীটপতঙ্গের মতো। মানুষের লাশের উপর তারা সাম্রাজ্য তৈরি করে ক্ষমতার। রাজনীতির বলি হয় মানুষ। সে, ইউক্রেনের হোক, প্যালেস্তাইনের হোক, নন্দীগ্রামের হোক, উত্তরপ্রদেশের হোক, গোধরার হোক, আমেদাবাদের হোক বা রামপুরহাটের৷

শাসক নিজেকে জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করে না৷ মানুষকে জ্বালিয়ে প্রতিহিংসার আগুন জ্বালায়। সেই শাসক লোকাল হোক বা গ্লোবাল৷

এ হেন পরিস্থিতিতে মানুষ কী করবে? কতদিন পুড়বে তোমরা অকারণে? কতদিন বলি হবে রাজনীতির? কতদিন বলি হবে যুদ্ধের? কতদিন বলি হবে শাসকদের মধ্যবর্তী প্রতিহিংসার? এবার কি তাদেরকেই চিতায় তোলার সময় আসেনি?

যদি আগুনই জ্বলছে, তবে এত কোটি মানুষের হাতে হাতে মশাল জ্বলুক এ দেশের ভীরু, নির্লজ্জ, ফ্যাসিস্ট, একনায়কতান্ত্রিক, ছদ্ম- বামপন্থী সমস্ত শাসকের বিরুদ্ধে। মানুষের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। মানুষ অপমানিত হচ্ছে। মানুষের প্রাণ যাচ্ছে সেই কবে থেকে!

অন্যদের না পুড়িয়ে, ক্ষমতাভোগী শাসককুল, নিজেদের পোড়ান। আত্মাহুতির আত্মশক্তি আছে কি?

You might also like